close
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭ | ০২ কার্তিক ১৪২৪

ব্যাংকিং খাতের কর্মীদের সফট স্কিল সংকট প্রকট

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ২০ এপ্রিল ২০১৭, ১৯:৩৬
একজন ব্যাংক কর্মকর্তার যোগাযোগ, সৌজন্যতা, নমনীয়তা, সততা, আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, পেশাদারিত্ব, দায়িত্ববোধ, টিমওয়ার্ক, কর্মক্ষেত্রে নৈতিকতা এবং নেতৃত্ব মনোভাব হলো সফট স্কিল।

হার্ভাড বিজনেস স্টাডি অনুযায়ী, ক্যারিয়ারে সাফল্য পেতে সফট স্কিলে ৮০ শতাংশ দক্ষতা থাকতে হবে। আর হার্ড স্কিলে এর পরিমাণ ২০ শতাংশ। তবে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের কর্মীদের সফট স্কিল সংকট প্রকট। কিন্তু এ খাতটির কর্মীদের সফট স্কিলের ওপর মাত্র ৪ শতাংশ প্রশিক্ষণ হয়েছে। আর হার্ড স্কিল প্রায় ৯৬ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম মিলনায়তনে ‘ব্যাংকের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা-২০১৬ সালের ওপর পর্যালোচনা’শীর্ষক কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান। কর্মশালায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

মূলপ্রবন্ধে বলা হয়, ব্যাংকিং খাতে হার্ড স্কিল হলো ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড পেমেন্ট, ব্যাংকিং ডিপ্লোমা, শিক্ষাগত সনদ, ট্রেজারি অপারেশন, ঋণ ব্যবস্থাপনার মতো দক্ষতা। যা ব্যাংকিং খাতের একজন কর্মীর মোট দক্ষতার ২০ শতাংশ হতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র। এতে আরো বলা হয়েছে, সিআইবির আদলে ব্যাংক কর্মীদের তথ্য ভাণ্ডার গড়ে তুলতে হবে। কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা নেয়ার পাশপাশি নৈতিকতা যাচাই করতে হবে। একইসঙ্গে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমন্বিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা যেতে পারে।

বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এবং বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপার নিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী, বিআইবিএমের সুপার নিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলি, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এহসানুল হক এবং ওয়ান ব্যাংকের অতিরিক্ত উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জন সরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকিং খাতের মানবসম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে কয়েকটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর বাইরে ব্যাংকের নারী কর্মীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি, উৎসব ভাতা এবং দিবা যত্মকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে মানবসম্পদ বিভাগ খুব গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৭-০৮ সালে আর্থিক সংকটের পেছনে মানবসম্পদ বিভাগের কিছু ভুল নির্দেশনা অনেকাংশে দায়ী।

বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধূরী বলেন, মানবসম্পদ বিভাগকে শুধু বদলির জন্য ব্যবহার না করে ব্যাংকিং খাতের গুরুত্বপূর্ণ আরো অনেক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে ব্যাংকিং খাতের মানবসম্পদ বিভাগের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করছে বিআইবিএম; যা আগামী দিনে গতিশীল ব্যাংকিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এবং বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ে সৎ লোক প্রয়োজন। খারাপ ব্যাংকে ভালো লোক নিয়োগ পেলে মুনাফায় ফিরতে পারে। আবার বেসিক ব্যাংকের মতো ভালো ব্যাংকে খারাপ ব্যবস্থাপক নিয়োগ দেয়ায় ক্ষতি হতে পারে। তিনি ব্যাংকের নতুন নিয়োগ পাওয়ায় কর্মকর্তাদের দীর্ঘ মেয়াদে প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন। পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট সময় পর ব্যাংকারদের পুনরায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথাও বলেন।

সি/

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়