• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

হাজারীবাগ ছাড়লেও নতুন সঙ্কটে ট্যানারি মালিকরা

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০২ এপ্রিল ২০১৭, ২০:০৭ | আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৭, ২২:৪১
আদালতের নির্দেশ অনুসারে হাজারীবাগে থাকা সব ট্যানারি বন্ধ করে দেবেন ট্যানারি মালিকরা। কিন্তু বৃহস্পতিবারের মধ্যে সাভার যাওয়া নিয়ে সংশয়ে আছেন তারা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এজন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির দ্রুত সংযোগ দেয়া প্রয়োজন।

রোববার ধানমন্ডির এক রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান তারা।

এতে উপস্থিত ছিলেন ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন, লেদার কেমিক্যাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি, লেদার অ্যান্ড লেদার গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটি, লেদার ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস সোসাইটি, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট নেতারা।

ট্যানারি মালিকরা বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) অনিয়ম ও ব্যর্থতার বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা, সাভারের চামড়া শিল্পনগরে দ্রুত গ্যাস-সংযোগ দেওয়া, বরাদ্দকৃত প্লটগুলোর মালিকানা দ্রুত বুঝিয়ে দেয়া এবং অন্যান্য অবকাঠামো প্রস্তুত করার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের(বিএফএলএলএফইএ) সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, হাজারীবাগে গ্যাস, বিদ্যুৎ-সংযোগ কেটে দেওয়া হলে চামড়া খাতে বিপর্যয় নেমে আসবে। ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার বাস্তবায়নাধীন রপ্তানি আদেশ বাতিল হবে। বিদেশি ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নেবেন। শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ঋণের সুদ পরিশোধ করা উদ্যোক্তাদের জন্য কঠিন হবে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি শাহিন আহমেদ চামড়া শিল্পের বিপর্যয় রোধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এর আগে ট্যানারি কারখানার মালিকরা কোরবানির ঈদ পর্যন্ত রাজধানীর হাজারীবাগে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সময় চেয়ে আবেদন করে। পরে ২৯ মার্চ আদালত কার্যক্রম চালাতে পারবে না, বরং ৬ এপ্রিলের মধ্যে সব ট্যানারি সরিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়।
এসময় ট্যানারি মালিকদের আইনজীবীরা আদালতকে জানান, সাভারের ট্যানারি শিল্পনগরী পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়ায় ট্যানারি স্থানান্তরে কোরবানি পর্যন্ত সময় লাগবে বলে আদালতে শুনানি করেন।
রাষ্ট্রীয় পক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে জানান, ট্যানারি স্থানান্তরে বার বার সময় বেঁধে দেয়া হলেও আদালতের নির্দেশ অমান্য করে আসছে ট্যানারি মালিকরা।

গেল ৬ মার্চ হাইকোর্টের ওই ডিভিশন বেঞ্চ এক আদেশে হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেন। এমনকি কারখানাগুলোর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে নির্দেশ দেন আদালত।

পাশাপাশি ট্যানারি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে বলা হয়। এর বিরুদ্ধে আপিল করলে গত ১২ মার্চ আপিল বিভাগও তা খারিজ করে দেন। ফলে ট্যানারি কারখানাগুলোর হাজারীবাগে থাকার আর সুযোগ থাকলো না।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০১ সালে ট্যানারি শিল্প হাজারীবাগ থেকে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। পরে ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সালের ২৩ জুন হাইকোর্ট ফের নির্দেশ দেন।

পরে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, ২৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাজারীবাগ থেকে যেসব ট্যানারি স্থানান্তর হবে না, ১ মার্চ থেকে সেখানে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে।

এমসি/এএইচসি/এসজে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়