close
ঢাকা, রোববার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ | ০৩ পৌষ ১৪২৪

দুদকের জেরায় নার্ভাসবোধ করলেন বাচ্চু

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৯:২৯
প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারি নিয়ে অভিযোগের মুখে থাকা বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চু দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জিজ্ঞাসাবাদে নার্ভাসবোধ করছেন।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য আরটিভি অনলাইনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় বেলা আড়াইটার দিকে তিনি অসুস্থতা অনুভব করছেন বলে জানান। পরে দুদক কার্যালয়ের চিকিৎসক ডা. জ্যোতির্ময় চৌধুরী তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। তবে চিকিৎসক জানান, আবদুল হাই বাচ্চু সুস্থ আছেন তবে নার্ভাসবোধ করছেন।

বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় দুদক কার্যালয়ে হাজির হন তিনি। পরে ১০টার দিকে দ্বিতীয় দিনের মত জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। কমিশনের পরিচালক একেএম জায়েদ হোসেন খান ও সৈয়দ ইকবালের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ টিম তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

বিকেল পৌনে ৫টার দিকে আজকের মতো জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি দুদক কার্যালয় ছেড়ে যান। সেসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি কোনো কথা বলেননি।

বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কয়েক দফা পর্যবেক্ষণ আসার পর সম্প্রতি ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান বাচ্চু ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নেয় দুদক।

ঋণ কেলেঙ্কারির এ ঘটনায় গত ২২ নভেম্বর থেকে দুদকের এই জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এর আগে রোববার পর্যন্ত বেসিক ব্যাংকের সাবেক ১০ পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তারা হলেন- ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম, আনিস আহমদ, কামরুন নাহার আহমেদ, অধ্যাপক কাজী আকতার হোসাইন, সাখাওয়াত হোসেন, ফখরুল ইসলাম, একেএম কামরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আখন্দ সেলিম, শ্যাম সুন্দর শিকদার ও একেএম রেজাউর রহমান।

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে ২০১৫ সালের ২১, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর তিন দিনে টানা ৫৬টি মামলা করেন দুদকের অনুসন্ধান দলের সদস্যরা। রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও গুলশান থানায় এসব মামলায় মোট আসামি করা হয় ১৫৬ জনকে।

মামলায় ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ দেয়া হয় বলে অভিযোগ আনা হয়। এরমধ্যে রাজধানীর গুলশান শাখার মাধ্যমে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, শান্তিনগর শাখায় ৩৮৭ কোটি টাকা, প্রধান শাখায় প্রায় ২৪৮ কোটি টাকা এবং দিলকুশা শাখার মাধ্যমে অনিয়ম করে ১৩০ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়। এ ছাড়া কেলেঙ্কারির অভিযোগের বাকি অংশের অনুসন্ধান দুদকে চলমান।

মামলায় আসামিদের মধ্যে বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা রয়েছেন ২৬ জন। বাকি ১৩০ জন আসামি ঋণগ্রহীতা ৫৪ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও সার্ভে প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকার ও ঋণ গ্রহীতাদের অনেকেই একাধিক মামলায় আসামি হয়েছেন।

এমসি/জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়