close
ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট ২০১৭ | ০৮ ভাদ্র ১৪২৪

মানসিকভাবে বিপর্যস্ত রুবি : সালমানের শ্বশুর

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০৮ আগস্ট ২০১৭, ১২:৩৮
দীর্ঘ ২১ বছর ধরে ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে আসছেন নায়ক সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরী। কিন্তু কোনো কিনারা পাওয়া যায়নি। তবে এ হত্যার ঘটনায় বোমা ফাটালেন রাবেয়া সুলতানা রুবি নামের এক আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশি। তার দুই মিনিট ৫৯ সেকেন্ডের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা এই খুন ও মামলাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এলো। গেলো সোমবার এটি ভাইরাল হয়।

সুলতানা রুবি নামে ওই মহিলা ভিডিও বার্তাতে দাবি করেন, সালমান শাহকে খুন করা হয়েছে। সেই খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তারই স্বামী। এতে জড়িত ছিলেন সালমান শাহের স্ত্রী সামিরার পরিবারও।

তবে রুবির ওই অভিযোগ অবান্তর বলে দাবি করলেন সামিরার বাবা শফিকুল হক হীরা। সোমবার বিকেলে কয়েকটি গণমাধ্যমকে তিনি জানান, ভিডিওটি আমিও দেখেছি। এটা খুবই হাস্যকর। আমি জেনেছি রুবি তার স্বামীর সঙ্গে নেই। তাদের ডিভোর্স হয়েছে। হয়তো শেষ বয়সে অর্থকড়ির ঝামেলায় আছেন তিনি। কারণ ডিভোর্সের সময় স্বামীর কাছ থেকে টাকা নিতে পারেনি, তার ও পুত্রের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারেনি। এজন্য মাথা হয়তো বিগড়ে গেছে। কিন্তু তার দায় তো দেশ ও জাতি নেবে না। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত রুবি। 

তিনি আরো বলেন, সালমানের মা ওকে টাকার লোভ দেখিয়ে থাকতে পারে। সেজন্যই একটা পুরনো ইস্যুকে নতুন করে রঙ মাখিয়ে হাজির করেছে। রুবি নিজেই ওই মামলার আসামি। কিন্তু বরাবরই তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে এসেছে। সালমানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে দাবি করে সালমানের মাকে কটাক্ষ করেছে। তবে নতুন করে কেন তিনি এসব মিথ্যাচার করছে সেটা খতিয়ে দেখার দরকার।

তিনি আরো জানান, রুবির এই ভিডিওকে পাত্তা দেয়ার মতো কিছু নেই। আমার মেয়ে বা আমার পরিবার এর সঙ্গে জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না। কারণ, বহু আগেই আদালত এটা প্রমাণ করেছেন যে সালমান শাহ আত্মহত্যাই করেছিল। সুতরাং খুনের প্রসঙ্গই আসে না। রুবি হয়তো কোনো কারণে ব্ল্যাকমেইল করতে চাইছেন আমাদের।

তিনি বলেন, সালমানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সালমানের মা অকারণেই আমার মেয়ে ও পরিবারকে অপমান করার চেষ্টা করেছেন। আমাদের কাছের মানুষ যারা তারা সবাই জানেন যে সালমান প্রচণ্ড ভালোবাসতো সামিরাকে। আমরাও সালমানকে প্রচণ্ড আদর করতাম। কারণ ও শুধু আমাদের জামাই ছিল না, সালমান ছিল আমার বন্ধুর পুত্র এবং আমার স্ত্রীর বান্ধবীর পুত্র। সালমান জনপ্রিয় নায়ক হলেও খুব বেশি টাকা কিন্তু আয় করত না। আমাকে প্রায় সেসময় চট্টগ্রাম থেকে ৬০ হাজার, এক লাখ করে টাকা পাঠাতে হতো। আমি পাঠাতামও সন্তান মনে করেই। কেন সে আত্মহত্যা করল সেটা অজানাই এবং আফসোসের।

শফিকুল হক হীরা নিজের পরিবারকে নির্দোষ দাবি করে আরো বলেন, ‘আমি বা আমার পরিবার যদি মেয়ের জামাই খুনের সঙ্গে জড়িত থাকতাম তবে যে বছর সালমান মারা গেল সেই বছরই সাবের হোসেন চৌধুরী আমাকে সরকারিভাবে ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে পুরস্কৃত করতেন না। আমিও সম্মানের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে আজ অবধি জড়িত থাকতে পারতাম না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানেন আমি কেমন। এই দেশের ক্রীড়াঙ্গনে আমার কী অবদান।

১৯৯২ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবি দিয়ে সালমান শাহের রূপালি পর্দায় যাত্রা শুরু। চার বছরের ক্যারিয়ারে তিনি মোট ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এর প্রতিটিই দর্শকপ্রিয়তা পায়।

সালমান শাহ মৃত্যুর পর তার মা নীলা চৌধুরী ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিলেন। এতে সামিরা ছাড়াও আসামি ছিলেন চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই। রাবেয়া সুলতানা রুবি ছিলেন ওই মামলার ৭ নম্বর আসামি।

পুলিশ দুই দফা ময়নাতদন্ত করে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলেছিল। কিন্তু নারাজি আবেদন করেছে সালমান শাহের পরিবার। মামলাটির বিচার বিভাগীয় তদন্তও হয়েছিল। এখন মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইয়ে রয়েছে। সম্প্রতি মামলাটি আবার পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। 

এসএস/জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়