close
ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ | ০১ পৌষ ১৪২৪

রিমান্ডে সাফাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য

‘ধর্ষণ কোনো ঘটনা না, অন্যায় না’

রুবিনা ইয়াসমিন
|  ১৪ মে ২০১৭, ১৫:০৮ | আপডেট : ১৪ মে ২০১৭, ২৩:৩০
‘ধর্ষণ তার জন্য কোনো ঘটনা না। আমি প্রতিদিন কোনো না কোনো হোটেলে এরকম কাজ করেই থাকি। এটি আমার কাছে কোনো ধর্ষণ মনে হয় না। এ বয়সটা হলো উপভোগ করার বয়স তাই আমি উপভোগ করছি। এটা কোনো অন্যায় না।’

রিমান্ডে সাফাত এসব তথ্য জানিয়েছে বলে আরটিভি অনলাইনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির সদস্য গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার শেখ নাজমুল আলম ।

তদন্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে সাফাত বলেন, বাবা আমার বিষয়ে সবই জানে। বাবা আর আমি মাঝে মাঝে এক সঙ্গেই মদ খেয়ে থাকি। এটা কোনো ঘটনাই না।

জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, দুই বছর আগে টেলিভিশন উপস্থাপিকা ও মডেল পিয়াসাকে বিয়ে করেন সাফাত। তার আগে আমেরিকায় গ্রিনকার্ড পাওয়া এক বাঙালি মেয়েকেও বিয়ে করেন। পরে তাকেও ছেড়ে দেন বলে জানান তিনি।

নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ-তে ভর্তি হলেও পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি সাফাত। তৃতীয় সেমিস্টারেই ঝুলে আছে তার পড়াশোনা। তবে তা শেষ করতে না পারলেও বেপোরোয়া জীবনযাপনে ছিলেন বেশ এগিয়ে।

সাফাতের সাবেক স্ত্রী পিয়াসা আরটিভি অনলাইকে জানান, এসব ঘটনার পেছনে সাফাতের বাবা সবচেয়ে বড় দায়ী। তার ছেলে কী করে না করে তিনিই খুব ভালো করে জানে। সাফাত অন্যায় করলেও তার বাবা কখনোই কিছু বলতেন না; বরং তাকে আরো সাহস দিতেন। এজন্যই বেশি খারাপ হয়েছে সাফাত।

তিনি আরো বলেন, চলতি বছরের ৮ মার্চ সাফাত বিনা কারণেই আমাকে ডিভোর্স দেন। তার দুই সপ্তাহ পার না হতেই তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল। আমাকে বিয়ের আগেও সাফাত আরেকজনকে বিয়ে করেছিল। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে পিয়াসা জানালেন, ওই মেয়েরা ধর্ষণের শিকার হওয়ার সময়ও জানত না- সাফাতের সঙ্গে আমার ডিভোর্স হয়েছে। তাই তারা আমার কাছেও অভিযোগ করেছিল সেসময়। তবে আমি তাদের শুধু বলেছি- আমার সঙ্গে সাফাতের ডিভোর্স হয়ে গেছে। এজন্য তাদের এ বিষয়ে কোনো সাহায্য করতে পারব না।

এই মামলার অপর আসামিদের মধ্যে নাঈম আশরাফ ও সাদমান সাকিফ নামে দুজন সাফাতের বন্ধু এবং বিল্লাল তার গাড়িচালক। অপরজন সাফাতের দেহরক্ষী, মামলায় তার নাম উল্লেখ করা হয়নি।

মামলা ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত নাঈমের বাবা একজন ঠিকাদার এবং তিনি একটি টেলিভিশন স্টেশনের বিজ্ঞাপন বিভাগে কর্মরত। আর ‘পিকাসো’ রেস্তরাঁর মালিকের ছেলে সাদমানও একটি টেলিভিশন স্টেশনে কর্মরত। ধর্ষিতা দুই ছাত্রীর একজনের দায়ের করা ওই মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে সাফাত ও নাঈমের বিরুদ্ধে। অন্য চারজন তাদের সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ আছে। আর সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ঘটনার ভিডিও করেছেন বলে অভিযোগ। তবে ভিডিওটি পুলিশের কাছে এখনো এস পৌঁছেনি বলে জানা গেছে।

আর/সি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়