• ঢাকা রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫

শহীদ সালামের কবর পাকা করার দাবি

আজাদ মালদার
|  ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২১:০০ | আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৩:০৪
ভাষা আন্দোলনের প্রসঙ্গ এলে সালাম, রফিক, জব্বর, বরকত, শফিউরের নাম আসবেই। কিন্তু মহান ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ আবদুস সালামের কবরের ব্যাপারে আজও সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। সেদিন পাকিস্তানি পুলিশের গুলিতে শহীদ সালামকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বায়ান্নর ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সামনের রাস্তায় ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নেন বাংলার দামাল ছেলেরা। পরে ছাত্র-জনতার ওপর পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালালে আবদুস সালাম গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যালে তাকে ভর্তি করা হয়। দেড় মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৯৫২ সালের ৭ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আবদুস সালাম ১৯২৫ সালে ফেনীর দাগনভূঁইয়ায় লক্ষণপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে গ্রামটি তার নামানুসারে সালাম নগর করা হয়।

আবদুস সালাম কর্মজীবনে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের ডিরেক্টরেট অব ইন্ডাস্ট্রিজ বিভাগের 'পিয়ন' হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঢাকার নীলক্ষেত ব্যারাকের ৩৬বি নম্বর কোয়ার্টারে থাকতেন।  

এরই মধ্যে তার নামে সালামনগরে ভাষা শহীদ আবদুস সালাম গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর তৈরি করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে লক্ষণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি আবদুস সালামের নামে নামকরণ করা হচ্ছে। আসছে ১৪ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসন বিদ্যালয়টির নাম ফলক উন্মোচন করার কথা রয়েছে। এতে এলাকাবাসী, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা খুশি।

তবে সালাম নগরবাসীর মাঝে রয়েছে বিষাদের ছায়া ও আক্ষেপ। তারা বলছেন, ভাষার মাসে ভাষা শহীদদের স্মরণে শহীদ বেদীতে আমরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাই। কিন্তু বেশ কয়েকজন ভাষা শহীদের কবর খুঁজে পেলেও আড়ালে রয়েছে আব্দুস সালামের কবর। তাই আজিমপুর কবরস্থানে সালামের কবরটি চিহ্নিত করে পাকা করা উচিত।

ভাষা শহীদ আবদুস সালামের ছোট ভাই অবসরপ্রাপ্ত সুবেদার আবদুল করিম বলেন, আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদ সালামের কবরটি চিহ্নিত করে পাকাকরনের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই।

এমসি/এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়