• ঢাকা শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫

জীবনযুদ্ধে পরাজিত চাঁন মিয়া, খঞ্জনী পেলেন মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি

গোলাম কিবরিয়া ও আবুল খায়ের
|  ১৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৪:০৮ | আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২:৪৯
মাতৃভূমিকে পাক হানাদার মুক্ত করলেও জীবনযুদ্ধে জয়ী হতে পারেননি বীর মুক্তিযোদ্ধা চাঁন মিয়া। স্বাধীনতার ৪৪ বছরেও মুক্তিযোদ্ধা সনদ পাননি তিনি। দু’বেলা খাবার যোগাতে অন্যের কাছে গিয়ে হাত পাততে হয় তাকে। এদিকে স্বাধীনতার দীর্ঘদিন পর মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি পেলেন কুমিল্লার বীরাঙ্গনা আফিয়া খাতুন খঞ্জনী। এতে দারুণ খুশি কুমিল্লার মুক্তিযোদ্ধারা।

জানা গেছে, চাঁন মিয়া দেশ মাতৃকার টানে জীবনের মায়া তুচ্ছ করে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে। ভারতের গোমতিতে প্রশিক্ষণ শেষে ২ নম্বর সেক্টরে শালদা নদী, নয়নপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পাকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেন তিনি। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৪ বছরেও পাননি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি। সনদের জন্য বিভিন্ন স্থানে ধর্না দিয়েও লাভ হয়নি। ফলে পাচ্ছেন না সরকারি কোন সুবিধাও। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দু মুঠো ভাতের জন্য অন্যের কাছে হাত পাততে হচ্ছে তাকে। সহায়-সম্বল সব হারিয়ে অন্যের জমিতে থাকতে হয় তাকে। এছাড়া অর্থাভাবে করাতে পারছেন না অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসা।  

বয়সের ভারে ক্লান্ত চাঁন মিয়া ঠিকমত কথাও বলতে পারেন না। অস্পষ্ট ভাষায় আরটিভি অনলাইনকে তিনি বলেন,  ‘আমি একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধা করেছিলাম। এখন সন্তান নিয়ে কষ্টে আছি। কোন রকম কারো সহায়তা পাচ্ছি না।’

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, গ্রামের মধ্যে সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা থাকলে চাঁন মিয়াই আছেন। আরেক বাসিন্দা জানান, চাঁন মিয়া অনেকদিন ধরেই বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ধর্না দিয়েছেন কিন্তু পাননি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি।

তবে তাকে সনদ লাভে সহযোগিতার কথা জানালেন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা কমান্ডার ইদ্রিস মিয়া মাস্টার। তিনি আরটিভি অনলাইনকে বলেন, তার কাগজপত্রে যদি প্রমাণিত হয় যে তিনি মুক্তিযোদ্ধা তাহলে আমরা তাকে মুক্তিযোদ্ধার সনদ লাভে সহায়তা করব।

এদিকে, স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি পেয়েছেন স্বাধীনতা যুদ্ধে নির্যাতিত কুমিল্লার বীরাঙ্গনা আফিয়া খাতুন খঞ্জনী। নিজের সর্বস্ব উৎসর্গ করে যিনি রক্ষা করেছিলেন কুমিল্লার সোনাপুর গ্রামের নারীদের। তাকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত করায় উচ্ছ্বসিত কুমিল্লার মুক্তিযোদ্ধারা।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শফিউল আহমেদ বাবুল আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বীরাঙ্গনা খঞ্জনীকে মুক্তিযোদ্ধা করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। অনেক আগেই স্বাধীনতা সংগ্রামে সর্বস্ব হারানো বীরাঙ্গনা এবং সনদভূক্ত না হওয়া প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সরকার দ্রুত তালিকাভুক্ত করবে এমনটাই প্রত্যাশা তার।

এসজে/এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়