ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

জয়পুরহাট-১

আওয়ামী লীগ চায় ধরে রাখতে, বিএনপি চায় পুনরুদ্ধার

মো. রাশেদুজ্জামান, জয়পুরহাট

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০১৮, ০৫:৩১ পিএম

আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ৩৪ নম্বর আসন জয়পুরহাট-১। বর্তমানে জয়পুরহাট-১ আসনে ভোটার সংখ্যা প্রায় তিন লাখ ৯৮ হ্জার পাঁচশ ৩৬। সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা এরইমধ্যে উঠান বৈঠক, গ্রামে গ্রামে মসজিদে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় ও মোটরসাইকেল শোডাউনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গণসংযোগ করছেন।

এদিকে বিএনপির নেতারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঈদ ও পূজার শুভেচ্ছা দিলেও কোনও পোস্টার বা বিলবোর্ড টাঙাতে এখন পর্যন্ত কোথাও দেখা যায়নি। এখন তাদের একমাত্র লক্ষ্য বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে জেল থেকে মুক্ত করার জন্য আন্দোলন করা। সেক্ষেত্রে গণসংযোগে এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। আর জাতীয়পার্টি গত নির্বাচনে মহাজোটের পক্ষ থেকে এই আসনে মনোনয়ন পেলেও তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে। এবারও মহাজোটের প্রার্থী হওয়ার আশায় মাঠে গণসংযোগ করছেন তাদের একক প্রার্থী। জামায়াতের একক প্রার্থী বিভিন্ন জানাজা, দোয়া মাহফিলের অনুষ্ঠান ও ঈদের শুভেচ্ছার পোস্টারের মাধ্যমে নিজের প্রার্থিতার জানান দিচ্ছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী বিভিন্ন মসজিদ, পাড়া-মহল্লায় গিয়ে তার মনোনয়নের কথা বলছেন।

দশম জাতীয় সংসদ ও ১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচন বাদ দিলে জয়পুরহাট-১ আসন বিএনপি প্রার্থীদের দখলেই ছিল। সে কারণে এ আসনটিকে বিএনপির ঘাঁটি বলা চলে। বিএনপি দশম সংসদ নির্বাচন বয়কট করায় এবং জাতীয় পার্টি প্রার্থী প্রত্যাহার করায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সামছুল আলম দুদু।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করায় আগামী নির্বাচনে তারা জিতবে। অন্যদিকে বিএনপি নেতারা বলছেন, বরাবরই এ আসনটি বিএনপির ঘাঁটি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমরা আসনটি পুনরুদ্ধার করব।

বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মোজাহার আলী প্রধান মারা যাওয়ার পর দলটির মধ্যে চরম কোন্দল দেখা দিলেও দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে মমতাজ উদ্দিন মণ্ডল দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে দল গোছাতে শুরু করেছেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের জেলা সভাপতি দুদু ও সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান গ্রুপ এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সাংগঠনিক সম্পাদক অনুসারী গ্রুপের মধ্যে কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপ তাদের বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচি ও দলীয় কর্মকাণ্ড পাল্টা-পাল্টিভাবে পালন করায় মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর রয়েছে সুযোগ। যদিও জাতীয় পার্টির এ আসনে ভোটের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সামছুল আলম দুদু ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন ও ক্লিন ইমেজ নিয়ে ভালোভাবেই মাঠে আছেন।

আসছে সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-১ আসনে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে এই আসনে প্রায় ৮০ হাজার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট রয়েছে। এই কারণে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল (পিপি) মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।

পাঁচবিবি পৌরসভার মেয়র ও পাঁচবিবি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব বড় বড় বিলবোর্ড, পোস্টার-ব্যানার টানিয়ে মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় গণসংযোগ করছেন।

এছাড়াও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দোগাঁছী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোমিন আহমেদ চৌধুরী (জিপি), জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ খাজা সামছুল আলম, জয়পুরহাট পৌরসভার মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন ও জেলা যুবলীগের সভাপতি প্রভাষক সুমন কুমার সাহা এ আসনে মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সামছুল আলম দুদু জানান, সত্তর দশকে ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতিতে এসেছি। তারপর থেকে জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে থেকে সুদিন দুর্দিনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছি। এছাড়া পাঁচবিবি পৌরসভায় এক যুগ ধরে মেয়র থেকে জনগণের সেবা করে এসেছি। এসব উন্নয়ন দেখেই আওয়ামী লীগ সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণা ভেঙে গেছে। মনোনয়ন পেলে এবার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটেই আমি জয়ী হব।

জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল (পিপি) জানান, জেল-জুলুম সহ্য করে আওয়ামী লীগ করে যাচ্ছি। ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। তাই দেশনেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিবেন বলে আশা করছি।

জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট. মোমিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমি বিলবোর্ড ও পোস্টার টাঙানো নীতিতে বিশ্বাস করি না। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি জয়ী হব।

জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ খাজা শামসুল আলম বলেন, জয়পুরহাটে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলাম। এক লাখ ৩২ হাজার ভোট পেয়েছিলাম। দল থেকে আবারও মনোনয়ন দিলে আমি নির্বাচন করব।

পাঁচবিবি পৌরসভার মেয়র ও পাঁচবিবি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, জননেত্রী শেখ হাসিনার আদর্শকে বুকে ধারণ করে আমি দলের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি বিপুল ভোটে জয়লাভ করব। অন্যকে মনোনয়ন দিলে দলের স্বার্থে তার সঙ্গে কাজ করব।

জয়পুরহাট সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বলেন, আমি জয়পুরহাট-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী। দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে আমি নিয়মিত গণসংযোগ করছি। আমি আশাবাদী দলীয় মনোনয়ন এবার আমি পাব।

২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি মোজাহার আলী প্রধান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনিই দলের কাণ্ডারী হিসেবে দল পরিচালনা করে আসছিলেন। কিন্তু তিনি মারা যাবার পর দল বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে যায়। বিএনপির দলীয় কার্যক্রমে তা পরিলক্ষিত হয়। সম্প্রতি দলীয় কর্মীদের দৃষ্টিতে সাদামনের মানুষ ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ মমতাজ উদ্দিন মণ্ডল ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

বিএনপির নেতাকর্মীদের এখন একমাত্র লক্ষ্য খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে কোনও নির্বাচন নয়। তবুও ফেসবুক ও মোবাইল রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে তারা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রভাবশালী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন মণ্ডল ও সাবেক মন্ত্রী ৭১ সালের যুদ্ধাপরাধী ট্রাইবুন্যালে আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত (হাইকোর্টে আপিলকৃত) প্রয়াত আব্দুল আলীমের ছেলে ফয়সাল আলীমের নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে।

২০০৭ সালে সংস্কারপন্থি বলে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল ফয়সাল আলীমকে। সে সময় তিনি জয়পুরহাট শহর বিএনপির সভাপতি ছিলেন। কিন্তু বহিষ্কারের পর জেলার কোনও কমিটিতে সদস্য হিসেবেও তার নাম রাখা হয়নি। অবশ্য সেই থেকে তার অনুসারীরা পৃথক কার্যালয় স্থাপন করে শহরে দলের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। ফয়সাল আলীম বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রমাণ দিয়েছেন কেন্দ্রে তার অবস্থান বেশ শক্ত। বর্তমানে বিএনপির জেলা কমিটির আংশিক তালিকায়ও তিনি জায়গা করে নিয়েছেন এক নম্বর সদস্য হিসেবে। দল থেকে এবার তাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে এমন বিশ্বাস তার পক্ষের নেতাকর্মীদের।

জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান এবার দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে মনোনয়ন চেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন। জেলা বিএনপির সভাপতি প্রয়াত মোজাহার আলী প্রধানের ছেলে ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রদলের রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা প্রধান ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলজার হোসেন মনোনয়ন চাইবেন।

জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন মণ্ডল বলেন, কারাবন্দি খালেদা জিয়া মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ সম্ভব নয়। তবে বিএনপি নির্বাচনে গেলে তিনি মনোনয়ন চাইবেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফয়সাল আলীম জানান, আমাদের পরিবারের রয়েছে দীর্ঘ ৬০ বছরের রাজনৈতিক ঐতিহ্য, আমার পিতা একাধিকবার সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদের সদস্য ও পৌরসভার চেয়ারম্যান হওয়ায় এই এলাকার জনগণের সঙ্গে রয়েছে আমার আত্মার সম্পর্ক। তাই আমি জয়পুরহাট-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং দল থেকে মনোনয়ন পেলে অবশ্যই আমি বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হব।

সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ফজলুর রহমান জানান, দল থেকে মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করব না পেলে দল যাকে দিবে তার হয়ে কাজ করব।

জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রদলের রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা প্রধান বলেন, দল আমাকে মনোনয়ন দিলে জয়ী হব।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আবার নির্বাচনী মহাজোট হলে জাতীয় পার্টি মহাজোটের ব্যানারে থাকবে। জাতীয় পার্টি যদি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ভোটে নামে তবে এবার জাতীয় পার্টি এই আসনটি চাইবে। সেক্ষেত্রে দলটির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আ.স.ম মোক্তাদির তিতাস হবেন জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী। আবার জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন না হলেও জাতীয় পার্টির মনোনয়ন তিতাসকেই দেয়া হবে কেন্দ্রের এমন ঘোষণার কথাও জানিয়েছেন দলটির জেলা নেতৃবৃন্দ। কেন্দ্রের এমন ঘোষণা পেয়ে গ্রামে গ্রামে গণসংযোগ চলছে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে।

আ.স.ম মোক্তাদির তিতাস বলেন, গত নির্বাচনে আমাকে মহাজোটের প্রার্থী করা হয়েছিল। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি নির্বাচন থেকে সরে গিয়েছিলাম। এবারও জোট হলে আমি প্রার্থী হব। কেন্দ্রের গ্রিন সিগন্যাল নিয়ে আমি মাঠে কাজ করছি।

এদিকে জাসদ, বাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি ও অন্যান্য দলগুলোর তেমন প্রচার প্রচারণা চোখে না পড়লেও নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে হয়তো প্রার্থী থাকতে পারে।

জয়পুরহাট-১ আসনের বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের কোন্দল না মিটলে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করার পরও এ আসনটি হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন :

জেবি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আগামী ৩ জানুয়ারি জোটের প্রার্থীসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দিয়ে আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করবো। এসময় তিনি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানান। নির্বাচনের ফলাফলে বিপুল ভোটে পরাজয়ের পর আজ এক সোমবার লিখিত বিবৃতিতে মাঠে কর্মসূচি দেওয়ার কথা বললেন ড. কামাল। বিবৃতিতে ড. কামাল বলেন, “গতকাল ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে যে প্রহসনমূলক নাটক মঞ্চস্থ হলো, তা সমগ্র দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছেন। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কিভাবে ধ্বংস করতে হয়েছে, তা এদেশের মানুষসহ সমগ্র বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তাদের আজ্ঞাবহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার।’ ‘এই কথিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় সরকারকে বিজয়ী দেখালেও প্রকারান্তরে হেরেছে বাংলাদেশ ও তার ১৭ কোটি মানুষ। এর মধ্য দিয়ে কবর রচিত হয়েছে আমাদের বহু আকাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের।’ কর্মসূচি ঘোষণার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কথিত নির্বাচনের ফলাফল ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। এই নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে আগামী ৩ জানুয়ারি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীগণসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীগণ নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি প্রদান করবেন এবং কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’ পি
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
একাদশ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংসতায় ১৯ জন নিহত এবং বলপ্রয়োগসহ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের ফলে ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘনের যে সব অভিযোগ গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে সংস্থাটি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সোমবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতা ও বলপ্রয়োগসহ নির্বাচনী আচরণবিধির বহুমুখী লঙ্ঘনের যেসব অভিযোগের কারণে নির্বাচন ও ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর ভিত্তি করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমরা শুরু থেকেই সব পক্ষের জন্য সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এসেছি। কিন্তু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা, হামলা ও নির্যাতনের সংবাদ প্রচারিত হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। এমনকি নির্বাচনের আগের রাতে এবং নির্বাচনের দিনও এমন হয়রানি চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, এতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি দেশের জনগণের আস্থাহীনতা সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’ টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ‘একটি জোটের পোলিং এজেন্টরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রে আসতে না পারার অভিযোগের বিষয়টি যেভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন তা একদিকে যেমন বিব্রতকর, অন্যদিকে তার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে পেরেছে কিনা সে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত করেছে।’ ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘন করে মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির নামে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে খোদ রাজধানীতেই। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে যেভাবে সচিত্র প্রতিবেদন আকারে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে তাকে অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। এছাড়াও ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই ব্যালট পেপার ভর্তি বাক্স নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া, বহু ভোটার ভোট দেয়ার আগেই ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া, প্রার্থীকে ভোট কেন্দ্রে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা ইত্যাদি ঘটনার প্রতিটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে টিআইবি।’ অভূতপূর্ব নির্বাচনের মাধ্যমে সৃষ্ট অভূতপূর্ব ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে যে নতুন সরকার গঠিত হবে তার আত্মবিশ্বাস, মর্যাদা, আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার স্বার্থেই এ তদন্ত অবশ্যকরণীয় বলে মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। আরো পড়ুন :  সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা পি
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের নাম সৈয়দ মোহাম্মদ দাউদ সম্রাট (৩৮)। আজ সোমবার বিকেলে সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দাউদ পৌরসভার মধ্য মহদেবপুর ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈয়দ মোহাম্মদ আবুল হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড দিয়ে দাউদ সম্রাট বিকেলে সহযোগীদের নিয়ে যাওয়ার সময় তার প্রতিপক্ষ তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় তার দুই সহযোগীও আহত হয়। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বিকেল ৫টার দিকে কলেজ এলাকায় দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দাউদ সম্রাট নামে এক যুবলীগ নেতা খুন হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আরএস/পি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনে পরাজিত হলে ফলাফল মানে না। যুক্তি ছাড়াই পুনঃনির্বাচনের দাবি তোলে। এটাই তাদের ইতিহাস। বললেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ডাক বাংলো বাসভবনে কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হওয়ার পর শুভেচ্ছা গ্রহণকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ইনু বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে। এবার জাতীয় পতাকা হাতে গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাবে। যেভাবে ভোটের মাধ্যমে দেশবিরোধী অপশক্তি বিএনপি-জামায়াত ঐক্যফ্রন্টকে প্রত্যাখ্যান করেছে জনগণ। এসময় ইনু আরও বলেন, বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে দেশবাসী যে দায়িত্ব শেখ হাসিনা ও আমাদেরকে দিয়েছে সেই দায়িত্ব পালনে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হবে। রাজনৈতিক শান্তি বজায় রাখতে হবে। বৈষম্য-দুর্নীতি রোধ করতে সুশাসনের জন্য আরও শক্ত হাতে কাজ করব। কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হওয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দেওয়া ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন হাসানুল হক ইনু। এসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাসদের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আরএস/পি
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
কখনোই দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না এটাই প্রমাণিত হয়েছে। এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে। বললেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এ নির্বাচন সুপরিকল্পিতভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পরপরই প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যালটে আগেই সিল মারা হয়েছিল। তাই আমরা এ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি। এসময় প্রত্যাখ্যান শব্দটি কয়েকবার উচ্চারণ করেন মির্জা ফখরুল। বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের দলের ২১ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শত শত মামলা দেওয়া হয়েছে। এ নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এত নির্যাতনের পরেও বিএনপি নির্বাচনে গিয়েছিল, গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে। নতুন নির্বাচনের জন্য শিগগিরই কর্মসূচি দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পরে নেতাকর্মীদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়াসহ হামলা ভাংচুর করা হচ্ছে। সারাদেশে বিএনপির ২১ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ঢাকার বাইরের কারাগারগুলোতেও একই অবস্থা। অবিলম্বে এসব বন্দীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। এসময় লিগ্যালি কার্যক্রমের পাশাপাশি আন্দোলনও চলবে বলে জানান ফখরুল। গতকাল রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরমধ্যে স্থগিত রয়েছে একটি আসনের ফল। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট হয়নি একটিতে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট জয় পেয়েছে ২৮৮টি আসনে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন মহাজোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭টি আসনে জয় পেয়েছে।  পরে রাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোট প্রত্যাখান করে। এমসি/পি
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
আরও পড়ুন
কাদের খান সুস্থ, থেমেছে মৃত্যুর গুজব
গাজীপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ১
কুমিল্লায় বিএনপি কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা
টাঙ্গাইলে ধানক্ষেতে বিএনপি নেতার মরদেহ