• ঢাকা বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

নড়িয়া এলাকাটি ভাঙছে ১১ বছর ধরে

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:১৭ | আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৮:২০
ভাঙছে নদী। ভাঙছে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা। বিলীন হচ্ছে ভিটে-মাটি, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, দোকান-পাট, হাট-বাজার। ভয়াবহ রূপে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা একটু একটু করে গিলে খাচ্ছে প্রমত্তা পদ্মা। সরকারের পক্ষ থেকে নদী ভাঙনের পূর্বাভাস দেয়া হচ্ছে, দেয়া হচ্ছে কিছু ক্ষতিপূরণও। কিন্তু ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। 

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় প্রতিদিনই এমন শত শত স্বপ্নের সমাধি হচ্ছে। নদী গ্রাস করে নিচ্ছে মানুষের ভিটে-মাটি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা, হাট-বাজার। 

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিইজিআইএস বলছে, পদ্মার যেখানে ভাঙন ধরে, সেখানে ১২ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত ভাঙতেই থাকে। নড়িয়া এলাকাটি ভাঙছে, ১১ বছর ধরে। সংস্থাটি বলছে, প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা না নেয়া হলে, এভাবে ভাঙতেই থাকবে। 

সিইজিআইএস’র উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. মমিনুল হক সরদার বলেন, নদী যেখানে ভাঙা শুরু করে ১২ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত ভাঙতেই থাকে। আমরা যদি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারি তাহলে ভাঙা রোধ করা সম্ভব।  

সংস্থাটি প্রতি বছর মার্চ-এপ্রিলের দিকে নদী ভাঙনের পূর্বাভাস দেয়। সে অনুযায়ী, স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়। প্রস্তুত রাখা হয়, কিছু ত্রাণ। কিন্তু ভাঙন আর থামে না।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ওই এলাকার জন্য একটি বড় প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। তবে তা সময়সাপেক্ষ। শত বছরের ব-দ্বীপ পরিকল্পনায়ও এ বিষয়গুলোকে রাখা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু সৈয়দ মোহাম্মদ হাশিম বলেন, নদী ভাঙন রোধে ওই এলাকায় প্রায় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প চলছে। নদীগুলোকে ডেভেলপমেন্ট কিভাবে করা যায় সেই বিষয়ে মহা পরিকল্পনা সরকার নিয়েছে।

নদী সাধারণত যেখানে বাঁক দেখে সেখানেই ভাঙে। সংশ্লিষ্টরা জানালেন, নড়িয়া এলাকাটি পদ্মার বাঁকে হওয়ায় সেখানেই ভাঙছে।

অব্যাহত পদ্মানদীর ভাঙনে গত দু’দিনে নড়িয়া উপজেলার মুলফৎগঞ্জ বাজার ও বাশতলা বাজার এলাকায় ১৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হযরত বেলাল জামে মসজিদসহ ৩০টি বসতবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও পানের বরজ, একটি কলা বাগানসহ কয়েক একর ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে ওই এলাকার বাসিন্দাদের। কমপক্ষে ৫ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে অনেকেই খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। 

বাসতোলা এলাকার কাদের ঢালী কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাদের চোখের সামনে বাড়িঘর-জমিজমা হারিয়ে সবকিছু নদী গর্ভে চলে গেছে। আমরা কিছুই করতে পারছি না। এখন আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান তিনি।

চর জুজিরা এলাকার জামাল বেপারী বলেন, ভাঙনের তীব্রতা এতই বেশী যে আমরা ঘরের মালামাল পর্যন্ত সরাতে পারেনি। তার আগেই সব নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। 

কেদারপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাফেজ সানাউল্লাহ বলেন, পদ্মা নদী গত দুই মাসে আমাদের কেদারপুর ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার বাড়ি ঘর মুলফৎগঞ্জ বাজারের একটি অংশের প্রায় ২ শতাধিক দোকানপাট, সাধুর বাজার ওয়াপদা বাজার  বিলীন করে নিয়েছে। এ এলাকার মানুষ অসহায়। জরুরি ভিত্তিতে বেড়ি বাধের কাজ শুরু করে এ এলাকাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াসমিন বলেন, পদ্মা নদীর ভাঙনে আমাদের উপজেলায় নুতন নুতন এলাকা ও স্থাপনা বিলীন করে নিয়েছে। সোমবার বিকেলে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ও বিলীন হয়ে গেল। এ এলাকায় স্বাস্থ্য সেবার সমস্যা হবে। এটা সমাধানের জন্য আমরা শীঘ্রই বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিভিল সার্জন ডাক্তার খলিলুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বিলীন হওয়ায় প্রতিদিন ২০ লোক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা বিকল্প ব্যবস্থায় একটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে হাসপাতাল চালু রাখবো। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন  :

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়