• ঢাকা বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

ছোটদের খেলার মাঠে বড়োদের পার্ক

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
|  ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:৩৪ | আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:৪৯
‘আমরা বয়স্করা হেঁটে কি লাভ? যদি আমার নাতি, আমাদের শিশুরা এখানে খেলতে না পারে, হৈহুল্লোড় করতে না পারে?’ গতকাল উদ্বোধন হওয়া আগ্রাবাদ জাম্বুরি পার্কে হাঁটতে আসা প্রবীণ ব্যক্তি মইনউদ্দিন এ কথা বলেন।

তার মতো আরও কয়েকজন জানান- এখানে কখনও পার্ক ছিল না, ছিল পরিত্যক্ত মাঠ। এর একটি অংশে ছোট ছেলেরা খেলাধুলা করতো। অবশ্য বড়রাও খেলতো। তারা এখানে ফুটবল, ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক্স প্র্যাকটিস করতো। তাই এতো বড় পার্কের একটা অংশে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার ব্যবস্থা রাখা যেত।

গতকাল শনিবার বিকেলে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে জাম্বুরি মাঠের সাড়ে আট একর জায়গার ওপর নির্মিত পার্কটি উদ্বোধন করেন। গণপূর্ত অধিদপ্তর সাড়ে ১৮ কোটি টাকায় এই পার্ক প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। এখানে রয়েছে প্রায় আট হাজার ফুট হাঁটার পথ। পার্কের মাঝখানে রয়েছে প্রায় ৫০ হাজার বর্গফুট আয়তনের জলাধার। দুটি পানির ফোয়ারা। রয়েছে বসার আসনের ব্যবস্থা। এখানে কোনও প্রবেশ ফি নেই।

-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : রংপুরে বাড়ছে হেলমেট বিক্রি, কমছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা
-------------------------------------------------------

জাহানারা নামে এক প্রবীণ দর্শনার্থী বলেন- প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই চট্টগ্রামবাসীকে এতো সুন্দর একটি পার্ক উপহার দেয়ার জন্য। তবে এতো বড় পার্কে অনেক বয়স্করা একা হাটঁতে আসবেন না। তাদের সাথে আসবেন তাদের পরিবার ও শিশু-কিশোররা। তাই শিশু-কিশোরদের জন্য একপাশে খেলাধুলার ব্যবস্থা রাখলে ভালো হয়। এখনও সময় আছে তা করার।

তিনি এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি  আশা করেন।

পাশের শিশু পার্কটি ভেঙে তিনটি খেলার মাঠ করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন গণপূর্তমন্ত্রী। 

এ প্রসঙ্গে আরেক দর্শনার্থী বলেন, এটা অনেকটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। কারণ ওটা নিয়ে মামলা চলছে। তাই বিষয়টি অনিশ্চিত। তাই এই পার্কের একপাশে খেলার জায়গা করা হোক। তাছাড়া এখানে একসময় এই সরকারি কলোনির ও আশেপাশের পাড়া-মহল্লরা সন্তানরা খেলতো। একতরফাভাবে পার্ক করে তাদের খেলার অধিকার খর্ব করা হয়েছে। আমরা বয়স্করা হাঁটব, নিঃশ্বাস নেব, ভালো কথা। কিন্তু আমরা তো জীবনের পড়ন্ত বিকেলে। আমাদের স্বাগত জানাতে হবে আগামীর সকালকে, আগামীর সূর্যোদয়ের সন্তানদের, শিশু কিশোরদের। যারা এখানে আসবে, খেলবে। তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ হবে। আমরা দেখব তাদের দৌড়ঝাঁপ, তাদের আনন্দ উল্লাস। এতেই হবে আমাদের জীবনের বড় প্রাপ্তি।

আরও পড়ুন : 

পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়