পদ্মার ভাঙন থেকে মাত্র ১ কি:মি দূরে রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ি

প্রকাশ | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:২৫ | আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:৪০

শেখ হাসান বেলাল, কুষ্টিয়া

নির্মাণের মাত্র দুই মাসের মাথায় ধসে যাচ্ছে কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়ি রক্ষা বাঁধ। শুরুতেই এই কাজ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছিল। বাঁধটি ধসে যেতে পারে এই গুঞ্জনও ছিল।

প্রমত্ত পদ্মার ভাঙন থেকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐহিত্যবাহী কুঠিবাড়ি রক্ষায় প্রায় দুইশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধটি নির্মাণ করে সরকার। কিন্তু গেল সোমবার দুপুর থেকে কয়া ইউনিয়নের কালোয়া অংশে ভয়াবহ ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে থাকে রক্ষাবাঁধ। বালুর বস্তা দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা হলেও তাতে কাজ হচ্ছে না। প্রতিদিনই ভাঙন বাড়ছে। তাতে করে হুমকির মুখে পড়েছে রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি। শিলাইদহ কুঠিবাড়ির পেছনে পদ্মা নদীর করাল গ্রাসে এমন ভাঙন চলছে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে। নদীগর্ভে চলে গেছে বটগাছ, ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমি।

------------------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : পদ্মার পাড়ে চলছে আহাজারি, উপজেলার একমাত্র হাসপাতাল বিলীনের পথে
------------------------------------------------------------------

এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে কয়েকদিনে পুরো প্রকল্পটি নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে বলে জানান স্থানীয়রা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি সূত্র বলছে, যে স্থানে বাঁধ ধসে গেছে, সেখানে আন্ডার গ্রাউন্ড আর্থ পরিস্থিতির কারণে ডিজাইনে স্লাব তৈরির নির্দেশনা ছিল। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেই কাজটি না করার ফলেই এমন ধসের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকল্পটি নিয়ে শুরু থেকে অভিযোগ করে আসছিল জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা। ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির মধ্যে দিয়ে অসম্পূর্ণ প্রকল্পকে সম্পূর্ণ দেখিয়ে কাগজে-কলমে প্রকল্পটি হস্তান্তর করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার তত্ত্বাবধায়নে ‘কুষ্টিয়া জেলায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি সংলগ্ন এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় পদ্মা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ’ প্রকল্পের তিন হাজার সাতশ’ ২০ মিটার বাঁধ নির্মাণ করে সরকার। প্রকল্প সম্পূর্ণ হয়েছে দেখিয়ে ৩০ জুন কাগজে-কলমে হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে শিলাইদহ কুঠিবাড়ি রক্ষাবাঁধ প্রকল্পটি সমাপ্ত ঘোষণা করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়া। যদিও এ প্রকল্পের ১৩ লাখ ব্লকের মধ্যে দুই লাখ ৫০ হাজার ব্লক অব্যবহৃত পড়ে আছে। কিন্তু পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দুই মাস আগে নির্মিত বাঁধে ভাঙন সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম স্বপন আরটিভি অনলাইনকে বলেন, গেল রোববার দুপুরে কুঠিবাড়ি রক্ষাবাঁধের কয়া ইউনিয়নের কালুয়া অংশে হঠাৎ ভাঙন দেখা দেয়। মুহূর্তেই প্রায় ৫০ মিটার বাধ ভেঙে নদীগর্ভে চলে যায়। যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে কয়েক দিনের মধ্যে পুরো বাঁধ ভেঙে নদীগর্ভে চলে যাবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই বাঁধ নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেছে প্রভাবশালী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ডিজেল প্লান্ট লিমিটেড। যে কারণেই বাঁধটি ধসে পড়ছে।

এ বিষয়ে কুঠিবাড়ি রক্ষাবাঁধ প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান আরটিভি অনলাইনকে জানান, কালোয়া এলাকার কিছু অংশ ভেঙে যাওয়ার সংবাদ পেয়ে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে তাৎক্ষণিক ভাঙন রোধে সেখানে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ডিজেল প্লান্ট লিমিটেডের কার্য সহযোগিতাকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট লিমিটেডের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মোফাজ্জল হক সাংবাদিকদের জানান, পানি বৃদ্ধির জন্য বাঁধে সামান্য একটু ক্ষতি হয়েছে। জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। দ্রুতই ভাঙন রোধ করা যাবে।

উল্লেখ্য, কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি দাড়ি গ্রামে অবস্থিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত কুঠিবাড়ি। সম্প্রতি প্রমত্তা পদ্মার করাল গ্রাসে সাত কিলোমিটার ভেঙে কুঠিবাড়ির পেছনে চলে আসে।

এখন মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে পদ্মা নদী থেকে কুঠিবাড়ি। যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে সারা বিশ্বের রবীন্দ্রপ্রেমীদের তীর্থভূমি শিলাইদহ কুঠিবাড়ি।

আরও পড়ুন :

জেবি/জেএইচ