শরীয়তপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১১ মামলার আসামি নিহত

প্রকাশ | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:৪৪ | আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:০৪

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

আটকের চারদিন পর শরীয়তপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। তার বাড়ি শরীয়তপুর সদর উপজেলার উত্তর বালুচরা গ্রামে।

সোমবার গভীর রাতে শরীয়তপুর সদর উপজেলার আটং-ছয়গাও রাস্তায় শুকুর তালুকদারের মেহগুনি কাঠ বাগানে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের দাবি,  সোমবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে আটং-ছয়গাও রাস্তায় মেহগুনি কাঠ বাগানে কতীপয় মাদক ব্যবসায়ী মাদক ও টাকা ভাগাভাগি করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ ও পালং মডেল থানা পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল ও গুলি করে। এতে পুলিশের এসআই রুপক, এসআই আতিয়ার শামীম, জিয়াউর রহমান,  সামসুজ্জামান আহত হন।

পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি করে। প্রায় ১০-১৫ মিনিট গোলাগুলির পর মাদক ব্যবসায়ীরা পিছু হটে। এরপর  ঘটনাস্থল তল্লাশি করতে গিয়ে পুলিশ একজন লোককে গুলিবিদ্ধ আহত অবস্থায় দেখতে পায়। ঘটনাস্থল থেকে ৫১পিস ইয়াবা, একটি মোটরসাইকেল, ছয় পিস ককটেল,  এক কেজি গাঁজা  পাওয়া যায়।

পরে পুলিশ আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।

স্থানীয় লোকের কাছে জানতে পারে নিহত ব্যক্তি শরীয়তপুর সদর উপজেলার উত্তর বালুচরা গ্রামের মৃত এসকেন পাহাড়ের ছেলে সুমন পাহাড় (২২)। তার বিরুদ্ধে পালং থানায় মাদক ও চাঁদাবাজিসহ ১১টি মামলা রয়েছে।এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করছে ৩১ আগস্ট সন্ধ্যায় সুমন পাহাড় তার দু’বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে পার্শ্ববর্তী ছয়গাও এলাকা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। এসময় উত্তর বালুচরা নামক স্থানে জাকির মৃধার দোকানের নিকট পৌঁছলে গোয়েন্দা পুলিশ তাদের তিনজনকে আটক করে। এরপর দুজনকে ছেড়ে দিয়ে সুমন পাহাড়কে চোখ বেঁধে নিয়ে যায়। এরপর তার কোনও খোঁজ মিলেনি। গোয়েন্দা ও তার পরিবারের নিকট আটকের কথা স্বীকার করেনি। মঙ্গলবার সকালে পরিবার লোকজনের মুখে সংবাদ পেয়ে সদর হাসপাতালে এসে সুমন পাহাড়ের গুলিবিদ্ধ মরদেহ দেখতে পায়।

নিহত সুমন পাহাড়ের বড় ভাই সুজন পাহাড় বলেন, ৩১ আগস্ট সন্ধ্যায় সুমন পাহাড় তার দু’বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে পার্শ্ববর্তী ছয়গাও এলাকা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। এসময় উত্তর বালুচরা নামক স্থানে জাকির মৃধার দোকানের নিকট পৌঁছলে গোয়েন্দা পুলিশ তাদের তিনজনকে আটক করে। এরপর দুজনকে ছেড়ে দিয়ে সুমন পাহাড়কে চোখ বেঁধে নিয়ে যায়। এরপর তার কোনও খোঁজ মিলেনি। মঙ্গলবার সকালে সংবাদ পাই সুমনকে ক্রস ফায়ার দিয়ে মেরে ফেলছে। হাসপাতালে এসে গুলিবিদ্ধ মরদেহ  দেখতে পাই।

পালং মডেল থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পুলিশ বলছে সোমবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে আটং-ছয়গাও রাস্তায় মেহগুনি কাঠ বাগানে কতীপয় মাদক ব্যবসায়ী মাদক ও টাকা ভাগাভাগি করছে। সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।

 পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে। পুলিশও পাল্টা গুলি করে। এতে সুমন মারা যায়। ঘটনাস্থল থেকে ৫১ পিস ইয়াবা, একটি মোটর সাইকেল, ছয় পিস ককটেল, এক কেজি গাঁজা  উদ্ধার করা হয়েছে। সুমনের বিরুদ্ধে মাদক ও চাঁদাবাজীর ১১টি মামলা রয়েছে।

জেবি