• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

পাওনা টাকার জন্যই বন্ধুরা রাসেলকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে

গাজীপুর প্রতিনিধি
|  ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:৪২
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার প্রহ্লাদপুর গ্রামের বনখড়িয়া এলাকায় পোশাক শ্রমিক রাসেল মোল্লা হত্যার পেছনের ঘটনা জানা গেছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর দুপুরে উপজেলার রাজেন্দ্রপুর বাজার থেকে হত্যার সঙ্গে জড়িত ময়মনসিংহের নান্দাইল থানার বেলতৈল গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে আল মামুন (১৯) ও একই গ্রামের হেলিম উদ্দিনের ছেলে ইমান হোসেনকে (২০) গ্রেপ্তার করার করার পর তারা এই হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন।  

শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম মোল্লা গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বরাত দিয়ে জানান, আসামি আল মামুন ও ইমাম হোসেনদের বাড়ি একই গ্রামে হওয়ায় গাজীপুর সদর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর বাজার আরপি গেইটে বাসা ভাড়া নিয়ে রাজমিস্ত্রীর কাজ করতো। এদিকে নিহত রাসেল মোল্লা ও আল মামুন পূর্বে একই পোশাক কারখানায় কাজ করার সুবাদে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়। এরই একপর্যায়ে আল মামুনের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নেয় রাসেল। তবে সময়মতো টাকা না দেয়ায় তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়।

গেল ৮ আগস্ট বিকেলে আল মামুন রাসেল মোল্লাকে পাওনা টাকার জন্য ফোন করে। রাসেল মোল্লা  টাকা নেয়ার জন্য আল মামুনকে রাজেন্দ্রপুর বাজারে আসতে বলে। রাসেলের কথামতো আল মামুন তাহার সহযোগী ইমনকে সঙ্গে নিয়ে রাজেন্দ্রপুর বাজারে যায়। তার আগেই বাজার থেকে তারা একটি হাতুড়ি কিনে নেয়।

সন্ধ্যা সাতটার দিকে রাসেলের সঙ্গে আল মামুনের দেখা হয়। রাসেল টাকা দেয়ার কথা বলে মামুন ও ইমনকে তার বাড়িতে যেতে বলে। এসময় তারা তিনজন রাজেন্দ্রপুর রেলস্টেশন হতে রেললাইন ধরে হাঁটা শুরু করে। পথে রাসেলের সঙ্গে মামুনের কথা কাটাকাটি হয়। পরে মামুন ও ইমন মিলে রাসেল মোল্লাকে ভাওয়াল শালবনে নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে কপাল, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে। পরে রাসেল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ইমাম হোসেন প্যান্টের বেল্ট খুলে গলায় বেঁধে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে তারা রাসেলের মোবাইল ফোন ও সঙ্গে থাকা সাত হাজার টাকা নিয়ে যায়। 

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, আসামি গ্রেপ্তারের পর সোমবার সকালে তাদের সঙ্গে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় তাদের দেয়া তথ্যমতে ঘটনাস্থল থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত হাতুড়ী উদ্ধার করা হয়। পরে দুপুরের দিকে আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়।

প্রসঙ্গত, গেল ৮ আগস্ট কারখানা ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে রাসেল মোল্লা নিখোঁজ হয়। পরে ১০ আগস্ট ভাওয়ালের শালবন থেকে রাসেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের মা বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় মামলা করেন। মামলা রুজু হওয়ার পরই পুলিশ এই হত্যা রহস্য উদঘাটনের জন্য মাঠে নামে। পরে প্রযুক্তি ব্যবহার করে গতকাল রোববার মামুন ও ইমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়