• ঢাকা সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫

রমা চৌধুরীকে শ্রদ্ধা জানালেন সর্বস্তরের মানুষ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
|  ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:২৯ | আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:২৪
রমা চৌধুরীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চট্টগ্রামে। তাকে শেষ বিদায় জানাতে মরদেহ রাখা হয়েছিল চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে। সোমবার ১১ টা থেকে ১২ টা ২০ মিনিট পর্যন্ত মরদেহ রাখা হয় শহীদ মিনারে। যেখানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক, ভারপ্রাপ্ত মেয়র, পুলিশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামজিক, সাংষ্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

শ্রদ্ধা জানানো শেষে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

সোমবার ভোর ৪টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

শহীদ মিনারে রমা চৌধুরীর মরদেহ নেয়ার পর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই বীরাঙ্গনার সাংগ্রামী জীবনের বিভিন্ন বিষয়ে স্মৃতিচারণ করেন।

এ সময় শহীদ জয়া মোস্তারী শফী আরটিভি অনলাইনকে বলেন, রমা চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধে সব কিছু হারিয়েছেন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সবকিছু হারিয়েছেন।  সংগ্রাম করে তিনি জীবনে বেচেছিলেন। রমা চৌধুরীর চলে গেছেন। কিন্তু একটা প্রশ্ন রেখে গেছেন। রমা চৌধুরীর স্মৃতিকে সংরক্ষণ করার কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ সময় তার স্মৃতি সংরক্ষণে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।

রমা চৌধুরীকে শ্রদ্ধা জানাতে আসা বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান বলেন, রমা চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধে অভূতপর্ব অবদান রেখেছিলেন। তার চলে যাওয়াতে গোটা জাতি শোকাহত। রমা চৌধুরীর আত্মত্যাগের কথা জাতি কোনও দিন ভুলবে না।

রমা চৌধুরীর ছেলে জহর লাল চৌধুরী বলেন , ‘আমার মা কিছু নেয়নি। শুধু দিয়ে গেছে। আমার একটা দাবি থাকবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন আমার প্রতি একটু সদয় হোন। আমাকে যেন একটু স্বাক্ষাৎ করার সুযোগ দেন। আমার মায়ের শেষ ইচ্ছা ছিলো বৃদ্ধাশ্রম করার। কিন্তু স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেছে। মায়ের ইচ্ছে পূরণে সরকারের সহযোগিতা চান তিনি।

রমা চৌধুরীর বইয়ের প্রকাশ আলাউদ্দিন খোকন বলেন, রমা চৌধুরী ছিলেন একজন নির্লোভ মানুষ।

শ্রদ্ধা নিবেদন এবং গার্ড অব অনার প্রদান শেষে রমা চৌধুরীর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তার গ্রামের বাড়ি বোয়ালখালীতে। যেখানে তাকে সমাহিত করা হবে।

১৯৩৬ সালের ১৪ অক্টোবর চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন রমা চৌধুরী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে যেসব অগণতি মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছিলেন তাদের একজন চট্টগ্রামের রমা চৌধুরী।

রমা চৌধুরী ৭১ এর জননী, এক হাজার এক দিন যাপনের পদ্য, ভাব বৈচিত্র্যে রবীন্দ্রনাথসহ ১৯টি বই লিখেছেন তিনি। চট্টগ্রাম নগরীতে খালি পায়ে বিচরণ ছিল এই বীরাঙ্গনার। নিজের লেখা বই নিজেই বিক্রি করতেন তিনি।

আরও পড়ুন :

জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়