মৃত্যুর আগে হামলাকারীদের নাম বলেছিলেন সাংবাদিক নদী

প্রকাশ | ২৯ আগস্ট ২০১৮, ১৯:১২ | আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৩৩

পাবনা প্রতিনিধি

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আনন্দ টিভির পাবনা প্রতিনিধি সুবর্ণা আক্তার নদী মারা যাওয়ার আগে তার ওপর হামলাকারীদের নাম বলে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন নিহত নদীর মা মর্জিনা খাতুন। 

মর্জিনা খাতুন জানান, দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত নদীকে যখন হাসপাতালে নিচ্ছিলেন তখন হামলাকারীদের নাম জানিয়েছিলেন তিনি। মর্জিনা খাতুন কান্না জড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের জানান, নদী মারা যাওয়ার পূর্ব মুহূর্তে তাকে বলে গেছে রাজিব ও তার সহপাঠী মিলন তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তুমি তাদের ফাঁসির দিও।

মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে রাধানগরে নিজের বাসার সামনে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে নদীকে। এ ঘটনায় নদীর সাবেক শ্বশুর শিল্পপতি আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : মৃত্যুর সঙ্গে ৯ দিন লড়ে হেরে গেলেন মুক্তি
-------------------------------------------------------

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুল হক জানান, মঙ্গলবার রাতে দুর্বৃত্তরা নারী সাংবাদিক সুবর্না আক্তার নদীকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় গতকাল দুপুরে সুবর্ণার মা মর্জিনা খাতুন বাদী হয়ে ৩ জন নামী ও ৫ জন অজ্ঞাত নামা আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ সুবর্নার সাবেক শ্বশুর পাবনার ইড্রাল ইউনানি কোম্পানির মালিক শিল্পপতি আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া প্রধান আসামি রাজিব ও মিলনকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন স্থানে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিহতের বোন চম্পা খাতুন জানান, ৩/৪ বছর আগে আবুল হোসেনের ছেলে রাজীবের সঙ্গে তার বোন নদীর বিয়ে হয়। গত বছর রাজীব তার বোনকে ডিভোর্স দেয়। এ ঘটনায় নদী বাদী হয়ে পাবনা আদালতে একটি মামলা করে। গত মঙ্গলবার মামলার সাক্ষী ছিল। মামলার সাজা নিশ্চিত ভেবেই আবুলের ছেলেরা তার বোনকে হত্যা করেছে। নদীর ৬ বছরের জান্নাত নামের একটি মেয়ে আছে। 

এদিকে নারী সাংবাদিক নদী হত্যার প্রতিবাদে পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি শিবজিত নাগ ও সাধারণ সম্পাদক আঁখিনুর ইসলাম রেমন বলেন, এ ধরণের হত্যাকাণ্ডে তারা নিন্দা জানান। সেই সঙ্গে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানান।

এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে নদীর মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এসএস