নাটোরে ১৫ জনের মৃত্যুর জন্য দায়ী অল্পবয়সী লেগুনাচালক: তদন্ত কমিটি

প্রকাশ | ২৮ আগস্ট ২০১৮, ২০:২৬ | আপডেট: ২৮ আগস্ট ২০১৮, ২৩:৫১

নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের লালপুর উপজেলার কদমচিলান কিলিক মোড় এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যুর জন্য প্রাথমিকভাবে লেগুনাচালককে দায়ী করেছে ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে আসা তদন্ত কমিটি। 

তদন্তে আসা সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শফিকুল ইসলাম জানান, লেগুনাচালক আব্দুর রহিম ছিলেন অদক্ষ ও অল্পবয়সী। একটি ট্রাককে ওভারটেক করতে গিয়ে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া দুর্ঘটনা কবলিত বাসটির ফিটনেস ছিল না বলে জানিয়েছে তারা।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে ঘটনা তদন্তে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিআরটিএর পরিচালক (অপারেশন) সিতাংশু শেখর বিশ্বাস, গাজীপুর হাইওয়ে পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম, বুয়েটের সহযোগী অধ্যাপক ও দুর্ঘটনা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সদস্য কাজী মোহাম্মদ সিফান নেওয়াজ, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আজাদ হোসেন এবং বৈশাখী টিভির হেড অব নিউজ অশোক চৌধুরী। 

তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং মানুষের সঙ্গে দুর্ঘটনার বিষয়ে কথা বলেন। এসময় তারা দুর্ঘটনাকবলিত বাসের ত্রুটি বিচ্যুতি অনুসন্ধান করেন। 

এ কমিটি সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও দায় নিরূপণ পূর্বক দুর্ঘটনা রোধ কল্পে সুপারিশ প্রণয়ন করবে বলে জানান কমিটির প্রধান। 

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মহাসড়কের সঙ্গে স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য আলাদা লেন করার সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানান কমিটির প্রধান শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় মৃত্যুহার কমাতে ট্রমা সেন্টার করা হবে। হাইওয়ে পুলিশকে অ্যাম্বুলেন্স দেয়ার সুপারিশ করবে তদন্ত দল। 

১০ কার্য দিবসের মধ্যে এই দুর্ঘটনা সম্পর্কে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা বলা হলেও এর আগেই প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে বলেও জানান তিনি। 

গেলো শনিবার পাবনা থেকে বগুড়াগামী চ্যালেঞ্জার পরিবহনের একটি বাস কদিমচিলান এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি লেগুনাকে সামনে থেকে চাপা দেয়। এতে দুই শিশু, ছয় নারীসহ ১০ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে হাসপাতালে তিনজন ও এরপর আরও দুই জন মারা যান।

ওই দুর্ঘটনার পর লালপুর থানায় মামলা করেন বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশের এএসআই ইউসুফ আলী। পরে মঙ্গলবার দুপুরে বাসটির চালক মো. শামীম হোসেন বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন শ্রমিক নেতারা।

আরও পড়ুন:

 

এসএস