ব্যাপক লোকসানে মেহেরপুরের বড় গরুর মালিক-ব্যাপারীরা

প্রকাশ | ২৭ আগস্ট ২০১৮, ১১:৩৩ | আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০১৮, ১২:১১

মেহেরপুর প্রতিনিধি

কুরবানির পশু হাটে চাহিদা না থাকায় মাঝারি ও বড় আকারের গরু বাড়িতে ফেরত এনেছেন মেহেরপুরের ব্যাপারীরা। হাটের ঝক্কি সামলাতে না পারা গরুগুলো জবেহ করে কম দামে মাংস বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। ঋণ ও ধারদেনা পরিশোধ করতে না পারায় অনেকটাই আত্মগোপন করতে হচ্ছে ব্যাপারীদের। তবে ছোট আকারের গরু বিক্রেতারা লাভবান হয়েছেন বলে জানা যায়। 

গরু মালিক ও ব্যাপারী সূত্রে জানা গেছে, মেহেরপুর জেলায় প্রায় ৩ হাজার গরু ব্যাপারী রয়েছেন। যারা সারা বছর স্থানীয় হাটে গরু কেনাবেচার পাশাপাশি কুরবানির সময় রাজধানীর পশু হাটে গরু বিক্রি করেন। এলাকার প্রান্তিক চাষিদের বাড়িতে পালিত গরুগুলো মূলত ব্যাপারী ক্রয় করে থাকেন। চাষিদের পালিত গরুর কোনটি নগদ টাকায় আবার কোনটি বাকিতে কেনাবেচা হয়। ঢাকার পশু হাটে গরু বিক্রি করার পরই টাকা বুঝে পান চাষিরা। এবারে মাঝারি ও বড় আকারের গরু ফেরত আসায় ব্যাপারীদের পাশাপাশি চাষিরাও বিপাকে পড়েছেন। 

সহড়াবাড়ীয়া গ্রামের কয়েকজন গরু ব্যাপারী জানান, ধারদেনা ও ঋণ করে ১৭টি গরু কেনা হয়। ৬-৭ মণ মাংস হতে পারে এমন গরুগুলো বিক্রি হয়নি। ফেরত আনার সময় কয়েকটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে। বাড়িতে নিয়ে এগুলো জবেহ করে বাকিতে মাংস বিক্রি করা হয়েছে। কুরবানির সময় মাংস কেনায় চাহিদা না থাকায় কম দামে বেচতে হয়েছে। কবে নাগাদ মাংস বিক্রির টাকা পাওয়া যাবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। পাওনাদাররা ব্যাপারীদের পিছু ছাড়ছে না। ফলে কিছুটা হলেও আত্মগোপন করতে হচ্ছে লোকসানের মুখে পড়া ব্যাপারীদের। 

একই গ্রামের গরু ব্যবসায়ী রিপন হোসেন বলেন, আমি ছোট আকারের ৮টি গরু ঢাকায় হাটে বিক্রি করেছি। লাখের নিচে গরুর ব্যাপক চাহিদা থাকায় ভাল লাভ হয়েছে। 

জানা গেছে, বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় গরু পালন করেন পশ্চিম মালসাদহ গ্রামের ইটভাটা মালিক ইনামুল হক। তার খামারে পালিত ১৩টি গরুর সবগুলোই অবিক্রীত রয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে ইনামুল হক বলেন, প্রতিটি গরু ৮-১০ লাখ টাকা করে বিক্রি করতে হবে। কিন্তু ঈদের আগে কোন খরিদ্দার আসেনি। বিশেষ করে ঢাকার বড় বড় কোম্পানির লোকজন গরুগুলো ক্রয় করে থাকেন। তারা ঈদের পরে আসতে চেয়েছিলেন। এখনো পর্যন্ত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। গরুগুলো বিক্রি করতে না পারলে বড় ধরনের লোকসান হবে।

গরু ব্যাপারী জহুরুল ইসলাম বলেন, আমরা এক ট্রাকে ১৬টি গরু ঢাকার মিরপুরের পশু হাটে তুলে ছিলাম। কয়েকটি বিক্রি হয়নি। গরু নিয়ে যাওয়া ও ফিরিয়ে নিয়ে আসতে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। যেগুলো বিক্রি হয়েছে তার লাভের টাকা দিয়ে হাটে থাকা-খাওয়ার খরচই তো উঠছে না। 

পূর্ব মালসাদহ গ্রামের গরু ব্যাপারী মহিবুল ইসলাম বলেন, ১৭টি গরুর মধ্যে মাত্র ২টি বিক্রি হয়। বড় গরুর কোনও খরিদ্দার ছিল না। বাধ্য হয়ে সবগুলো ফেরত আনতে হয়েছে। চাষিদের কাছ থেকে বাকিতে কিনেছিলাম। এখন চাষিতো গরু ফেরত নিচ্ছে না। মাংস বিক্রি করেও ক্রয় মূল্য উঠবে না। এমন পরিস্থিতিতে আমরা কি করব তা ভেবে পাচ্ছি না।

মেহেরপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ জাহাঙ্গীর আলম আরটিভি অনলাইনকে বলেন, ব্যাপারীদের লোকসানের বিষয়টি শুনেছি। কি পরিমাণ গরু ফেরত এসেছে তা তালিকা করা হবে।

এসএস