• ঢাকা বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

নারায়ণগঞ্জে ডিবি পুলিশের সঙ্গে দোকান ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
|  ২৭ আগস্ট ২০১৮, ০৯:৩৯ | আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০১৮, ০৯:৫৩
নারায়ণগঞ্জ নগরীর খানপুর বরফকল মাঠ এলাকার চৌরঙ্গী ফ্যান্টাসি (বিআইডব্লিউটিএ ইকো) পার্কের সামনের ফাস্টফুডের দোকানে লাচ্ছি খাওয়া নিয়ে ডিবি পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় দোকানী ও তাদের লোকজনের সঙ্গে ধাওয়া -পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ডিবি পুলিশের দুই এএসআই ও এসআইসহ কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। 

রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে এসআই মিজান ও এসআই সায়েমসহ ৫ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

এবিষয় তদন্ত করতে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম আরটিভি অনলাইনকে জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের দুই এএসআই আমিনুল ইসলাম ও বকুল তাদের পরিবার নিয়ে চৌরঙ্গী ফ্যান্টাসি পার্কে ঘুরতে যায়। পরে তারা চৌরঙ্গী ফ্যান্টাসি পার্কের সামনে জালালউদ্দিনের ফাস্টফুডের দোকানে লাচ্ছি খেতে যায়। এসময় লাচ্ছি মানসম্মত না হওয়ায় দুই এএসআইয়ের সঙ্গে ওই দোকানের মালিকের ছেলে রবিন ও আলামিনের সঙ্গে তর্কাতর্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে দোকানদাররা মিলে ওই পুলিশ কর্মকর্তাদের মারধর করে। পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তারা চৌরঙ্গী পার্কের অফিস কক্ষে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানায়। 

তিনি আরও জানান, ঘটনা শুনে ডিবি পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে আসে। এসময় দোকান নিয়ন্ত্রণকারী জালালউদ্দিন, রনি, রাস্তার দু’ পাশের দোকানদার ও তাদের লোকজন পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে কয়েক দফায় ধাওয়া পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এসময় পার্কের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশসহ অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে। সংর্ঘষের ঘটনায় ডিবি পুলিশের এএসআই আমিনুল ও এএসআই বকুল, এসআই মিজান ও এসআই সায়েম, দোকানদার জালালউদ্দিন, তার স্ত্রী ইয়াসমিন, ছেলে রবিন ও আলামিনসহ কমপক্ষে ২৫ জন আহত হন। 


আহতদের মধ্যে এসআই মিজান, এসআই সায়েম, দোকানদার জালালউদ্দিন, স্ত্রী ইয়াসমিন ও ছেলে রবিনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় নারায়ণগঞ্জ-আদমজী ইপিজেড-ডেমরা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। 

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) নুরে আলম জানান, ডিবির দুই এএসআই পরিবার নিয়ে চৌরঙ্গী পার্কে ঘুরতে যায়। পরে তারা পার্কের সামনে একটি দোকানে লাচ্ছি খেতে যায়। লাচ্ছির কোয়ালিটি ভালো না হওয়ায় দোকানদারের সঙ্গে তর্কবিতর্কে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্যান্য দোকানদাররাও তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। তারা ডিবির সদস্যদের শারীরিকভাবে আঘাত করে। 

তিনি আরও জানান, এ ঘটনাটি তদন্ত করতে আমাকে প্রধান ও ডিআই-১ সরাফত উল্যাহ ও সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলামকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে যে দোষী হবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে যদি পুলিশও দোষী সাব্যস্ত হয় তবে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসএস 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়