সিরাজগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যা

প্রকাশ | ২৬ আগস্ট ২০১৮, ১১:৪৪ | আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০১৮, ১২:২০

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর থেকে গৃহবধূর শ্বশুরবাড়ির সবাই পলাতক রয়েছে।

রোববার ভোরে শাহজাদপুর উপজেলার দারিয়াপুর মন্ডলপাড়া থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : মিয়ানমারে পালিয়ে যাওয়া ৯টি বাংলাদেশি মহিষকে ফেরত আনা হলো
-------------------------------------------------------

নিহত গৃহবধূর নাম মিতু আক্তার (২১)। তিনি উল্লাপাড়া চরশ্রীপলগাতি গ্রামের গোলাম মোস্তফার মেয়ে ও শাহজাদপুর দারিয়াপাড়ার পুলিশ কনস্টেবল মনিরুলের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিতুকে মাঝে মধ্যেই নির্যাতন করতো। তার স্বামী রাজশাহীতে পুলিশে চাকরি করে। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরই একপর্যায়ে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় স্বামী মনিরুল মিতুকে পিটিয়ে হত্যা করে ঘরে তালা দিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরে প্রতিবেশীরা টের পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।

-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : পিরোজপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১
-------------------------------------------------------

মিতু আক্তারের বাবা গোলাম মোস্তফা জানান, আড়াই বছর আগে শাহজাদপুর দারিয়াপুর মন্ডলপাড়া গ্রামের শওকত মন্ডলের ছেলে মনিরুলের সঙ্গে বিয়ে হয় মিতুর। বিয়ের সময় মেয়ের সুখের কথা ভেবে ১০ ভরি স্বর্ণের গহনা দেয়া হয়। এরপর বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবি করে আসছিল মিতুর শ্বশুরবাড়ির লোকজন। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময় টাকা-পয়সা আনার জন্য মিতুকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়। স্বামী মনিরুল বিয়ের পর থেকেই তার ওপর নানাভাবে নির্যাতন করে আসছিল। নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে বেশিরভাগ সময় মিতু বাবার বাড়িতে থাকতো। ঈদের ছুটিতে মনিরুল বাড়িতে এলে মিতুর শ্বশুর তাকে নিয়ে যায়। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এরই একপর্যায়ে মিতুকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন পিটিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছে বলে অপপ্রচার চালায়।

-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : কুমিল্লায় পার্কের রাইডসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কলেজছাত্রের মৃত্যু
-------------------------------------------------------

মিতুর খালু মো. আব্দুর রশিদ জানান, মিতুর শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতন করতো। মেয়ের সুখের কথা ভেবে বিয়ের কথা গোপন রেখে মিতুর স্বামীকে পুলিশের চাকরি নিয়ে দেয়া হয়। চাকরি পাওয়ার পর মনিরুল বেশি একটা বাড়িতে আসতো না। বাড়িতে এলে মিতুর ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাতো।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খাজা গোলাম কিবরিয়া জানান, মৃত গৃহবধূর স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়িসহ বাড়ির সবাই পলাতক রয়েছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

আরও পড়ুন :

জেবি/পি