• ঢাকা সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫

টুঙ্গিপাড়ায় ভুয়া ডাক্তারের অপচিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু, আটক ১

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
|  ২৪ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৫৩ | আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৮, ২০:১২
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ভুয়া ডাক্তারের অপচিকিৎসায় রোকসানা বেগম (২২) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে টুঙ্গিপাড়া সার্জিক্যাল ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর ওই ভুয়া ডাক্তারসহ ক্লিনিক মালিক গা-ঢাকা দিয়েছেন। এর সাথে জড়িত ক্লিনিক মালিকের ছোট ছেলে ও ভুয়া ডাক্তারের ভাই মেহরাবকে আটক করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, রোকসানা বেগম টুঙ্গিপাড়ার গিমাডাঙ্গা গ্রামের রাজমিস্ত্রি আব্দুল আজিজ মোল্লার স্ত্রী। শুক্রবার রোকসানার ভাই আমিনুর শেখ বাদী হয়ে টুঙ্গিপাড়া থানায় একটি হত্যা-মামলা দায়ের করেন।

-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন :সরকার সংলাপের দরজা খুলতে চেয়েছে কিন্তু বিএনপি তা বন্ধ করেছে: সেতুমন্ত্রী
-------------------------------------------------------

রোকসানার বড় বোন মনিরা বেগম (৩৫) অভিযোগ করে বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রোকসানার স্বামী আব্দুল আজিজ অন্তঃসত্ত্বা রোকসানাকে আলটাসনোগ্রাম পরীক্ষার পর ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করার জন্য সার্জিক্যাল ক্লিনিকে নিয়ে যান। তার সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর হলেও ক্লিনিক মালিক নাজমুল হুদা টুকু রোকসানার শারীরিক পরীক্ষা করে ক্লিনিকে ভালো ডাক্তার আছে এবং এই মুহূর্তে রোকসানার সিজারিয়ান অপারেশন করলে মা ও সন্তান দুজনেই সুস্থ থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন। এছাড়াও অপারেশনে কোনও ঝুঁকি থাকবে না বলে তিনি তাদের কাছে একটু বেশি টাকা দাবি করেন। ক্লিনিক মালিকের পীড়াপিড়িতে একপর্যায়ে রোকসানার স্বামী আব্দুল আজিজ ১১ হাজার টাকায় তার স্ত্রীর সিজার করাতে রাজি হন। পরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে রোকসানাকে অপারেশন কক্ষে নেয়া হয়। সে সময় রোগীর এটেনডেন্ট হিসেবে তিনি অপারেশন কক্ষে ছিলেন।

মনিরা বেগম আরও জানান, ওটি রুমে ক্লিনিক মালিক নাজমুল হুদা টুকু, তার বড় ছেলে প্যারামেডিকেলের ছাত্র নুরুল ওয়াদি ও ছোট ছেলে মেহেরাব আমার বোন রোকসনার হাত-পা বেঁধে নিজেরাই অজ্ঞান করার চেষ্টা করতে থাকেন। এসময় অন্য কোনও ডাক্তার সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ডাক্তার নেই কেন এবং রোগীর হাত পা বাঁধা হলো কেন জানতে চাইলে তারা আমাকে বলেন, তারাই নাকি বড় ডাক্তার এবং হাত-পা নাড়া চাড়া করলে অপারেশনে সমস্যা হবে, তাই হাত-পা বাঁধা হয়েছে। একপর্যায়ে আমার বোন একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়; কিন্তু তারা ভুল করে আমার বোনের একটি নাড়ি কেটে ফেলে বলে তাদের কানাঘুষায় টের পাই। যদিও তখন তারা আমাকে বিষয়টি অস্বীকার করে। এরপর আমার বোনকে ওটি টেবিলে ছটফট করতে দেখে আমি ডাক্তারের কাছে জানতে চাইলে তারা আমাকে জরুরিভাবে রোগীকে খুলনা নিয়ে যেতে বলে। এর পরপরই ওটিতেই আমার বোনের নিঃশ্বাস বেরিয়ে যায়। পরে টুঙ্গিপাড়া স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার আমার বোনকে মৃত ঘোষণা করেন।

-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন :ফেনীতে বাসচাপায় অটোরিকশার ৬ যাত্রী নিহত
-------------------------------------------------------

রোকসানার স্বামী আব্দুল আজিজ অভিযোগ করে বলেন- মিথ্যা কথা বলে ক্লিনিক মালিক টুকু আমার স্ত্রীকে মেরে ফেলেছে। বড় ডাক্তার দিয়ে সিজার করা হবে বলে টুকু নিজে ও তার দুই ছেলেকে নিয়ে আমার স্ত্রীর আপারেশন করেছে। ওরা আমার স্ত্রীকে হত্যা করেছে। ওরা প্রতারক। আমি এই খুনীদের বিচার চাই।

ক্লিনিক মালিকের ছেলে প্যারামেডিকেলের ছাত্র নুরুল ওয়াদির সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, তিনি ঢাকার সাভারে সিআরপিতে মেডিকেল ডিপ্লোমার ছাত্র। তিনি বলেন, আমি অপারেশনে এসিস্ট করেছি মাত্র। এ বিষয়ে তার পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে কোন ডাক্তার রোকসানার সিজার করেছে, এ বিষয়ে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম এনামুল কবীর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে মৃতের বড় ভাই আমিনুর শেখ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। ক্লিনিক মালিকের ছোট ছেলে মেহেরাবকে আটক করা হয়েছে। ক্লিনিক মালিক ও তার বড় ছেলে গা-ঢাকা দিয়েছে। তাদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে ওই ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসার কারণে আরও ৪জন প্রসূতির এধরনের অস্বভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ সংক্রান্ত একটি মামলা আদালতে ট্রায়াল পর্যায়ে রয়েছে।

আরও পড়ুন :

পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়