• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

পদ্মার ভাঙনে নড়িয়া-সুরেশ্বরের বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
|  ১৯ আগস্ট ২০১৮, ২৩:২৯

পদ্মার ভাঙনে শরীয়তপুরের নড়িয়া-সুরেশ্বর সড়ক সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকাটি বিলীন হয়ে গেছে। এতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে সেখানকার সড়ক যোগাযোগ।

নড়িয়ার বাঁশতলার আবু তাহের এবং জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, শনিবার রাত অনুমান সাড়ে নয়টায় পদ্মার ভাঙনে মুলফৎগঞ্জের মুন্নি খানের চারতলা ভবন, বায়তুল মামুর জামে মসজিদ, একটি দ্বিতল ভবন এবং আরেকটি বাড়ি। এতে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তারা জানান, গত চারদিনে শত শত পাকা ঘর বাড়ি, মসজিদ, মাদরাসা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ব্রিজ, কালভার্ট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে উপজেলা পরিষদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা খাদ্য গুদাম, নড়িয়া পৌরসভাসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা।

তারা আরও জানান, এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে মুলফৎগঞ্জ বাজার, নড়িয়া সরকারি কলেজ, মুলফৎগঞ্জ মাদরাসাসহ বিভিন্ন স্থাপনা যেকোনো মুহূর্তে বিলীন হয়ে যেতে পারে। সরকার নামমাত্র সহায়তা প্রদান করছে। ভাঙন কবলিত এলাকার অনেকে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। তাদের দাবি জরুরি ভিত্তিতে বেড়িবাঁধের কাজ শুরু করা হোক।

মুলফৎগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী নুর হোসেন দেওয়ান বলেন, একমাস ধরে পদ্মার ভাঙনে প্রায় তিন হাজার ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। আমাদের বাড়িঘর ও জমিজমা সবই পদ্মার পেটে। আমাদের কোনও ব্যবসা-বাণিজ্য নেই। কেনাকাটা করতেও আসে না কেউ বাজারে।

বাঁশতলা এলাকার সাইদুর রহমান বলেন, আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে এতো বিপদে আছি, যে কোথায় যাবো কি করবো কিছু বুঝে উঠতে পারছি না।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াসমিন বলেন, শুক্রবার নড়িয়া-সুরেশ্বর সড়কের বিরাট একটি অংশ বিলীন হয়ে গেছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্তদেরকে সহায়তা প্রদান করেছি।

এদিকে ভাঙন রোধে বেড়িবাঁধ নির্মাণের বিষয়ে শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, পাঁচ কোটি টাকার জিওব্যাগ ফেলেও কোনও সুফল হয়নি। বর্ষা মৌসুমে কাজ করে ভাঙন কমানো সম্ভব কিন্তু রোধ করা সম্ভব নয়।

কে/জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়