• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

অবৈধ জর্দা কারখানার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

মো. আবুল হোসেন সরদার, শরীয়তপুর
|  ১৮ আগস্ট ২০১৮, ২০:১২ | আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৮, ২০:২৪
জেলার ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর বাজারে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ‘শরীয়তপুরী জর্দা’ নামে একটি কারখানা।

এ কারখানার পাশের দুটি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকরা কারখানা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসলেও রহস্যজনক কারণে তা বন্ধ হয়নি। সরকারি অনুমোদন ছাড়াই চলছে এ জর্দার কারখানা। তামাকজাত দ্রব্য বাজারে প্রকাশ্যে রোদে শুকানোর কারণে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ বাজারের ব্যবসায়ী ও জনসাধারণ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

তবে শরীয়তপুরে এ অবৈধ করখানার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি বা মনিটরিং নেই বললেই চলে। এটা বন্ধের জন্য দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

কনেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রচণ্ড সরকার জানান, বাজারের উন্মুক্ত জায়গায় কনেশ্বর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কনেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশেই দীর্ঘদিন যাবত স্থানীয় মো. কামাল আহম্মেদ নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি মনিকা কেমিক্যাল কোম্পানির নামে ‘শরীয়তপুরী জর্দার’ কারখানা গড়ে তুলে অবৈধভাবে রমরমা ব্যবসা করে যাচ্ছেন। কোনও কাগজপত্র বা অনুমতি ছাড়াই ১০-১২ বছর যাবত এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

ঢাকা থেকে অত্যন্ত নিম্নমানের কাঁচা, ক্ষতিকারক কেমিক্যাল মিশিয়ে এই জর্দা তৈরি করা হচ্ছে। এই কারখানায় ৭-৮ জন নারী শ্রমিক কাজ করছে। এ সকল নারী শ্রমিকেরা নিজেরা নিরাপদ কোনও মাস্ক না পরেই কাজ করছে। এতে করে জনস্বাস্থ্যের যেমন ক্ষতি হচ্ছে তেমনি পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। ফলে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এই জর্দার কারখানাটি।

তামাকের গ্যাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অনেকে শ্বাসকষ্ট ও ক্যানসারের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। এ জর্দা কারখানার নিকোটিনের প্রভাবে এলাকার যুবসমাজ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। বারবার নিষেধ করার পরেও মালিকপক্ষ এ বিষয়ে কোনও কর্ণপাত করেনি। ইতোপূর্বে পার্শ্ববর্তী স্কুলের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

কনেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী স্বপা খানম, নিশা নিসাত বলেন, জরুরি ভিত্তিতে অবৈধ জর্দা কারখানাটি বন্ধ না করলে পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এ জর্দার গন্ধের কারণে প্রতিনিয়ত ছাত্র-ছাত্রীরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়বে।

কনেশ্বর এস সি এড ওয়াড উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র রহমত আলী বলেন, স্কুলের সামনে কাঁচা তামাক রোদে শুকানোর কারণে আমারা শ্বাসকষ্ট ও ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছি।

কনেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মামুন খান বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের পাশে একটি জর্দার কারখানা আছে। তার গ্যাস ও গন্ধে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি। তাই এ অবৈধ কারখানা বন্ধ করা হোক। এজন্য আমরা একাধিক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছি। তারপরেও প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

শরীয়তপুরী জর্দা কারখানার মালিক মো. কামাল আহম্মেদ মোবাইল ফোনে আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আমি নিয়ম মেনেই জর্দা কারখানা করেছি। নিয়ম ভেঙে কিছু করছি না।

ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম আরটিভি অনলাইনকে বলেন, কনেশ্বর বাজারে জর্দা কারখানা আছে আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে ইউএনও স্যারকে বলে মোবাইলকোর্ট দেয়ার ব্যবস্থা করব।

জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের আরটিভি অনলাইনকে বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনার কাছ থেকেই শুনলাম। খোঁজ নিয়ে দেখব।

 


আরও পড়ুন  :

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়