ঝিনাইদহের মহাসড়কগুলো বেহাল, বৃষ্টিকেই দায়ী কর্তৃপক্ষের

প্রকাশ | ১৬ আগস্ট ২০১৮, ১৩:১৬ | আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০১৮, ১৩:৫১

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট

সংস্কারের ছয় মাসের মাথায় বেহাল ঝিনাইদহের মধ্য দিয়ে যাওয়া মহাসড়কগুলোর। দেখা দিয়েছে ফাটল, সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। যার কারণে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এ অবস্থার জন্য বৃষ্টিকে দায়ী করলেন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী।

ঝিনাইদহকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বলা হয়ে থাকে। মংলা নৌ-বন্দর ও বেনাপোল স্থল-বন্দরের অধিকাংশ মালামাল এ জেলার সড়ক দিয়েই আনা-নেওয়া করা হয়।

ঝিনাইদহে রয়েছে মহাসড়কের চারটি রুট। ঝিনাইদহ-যশোর, ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ-মাগুরা। এসব সড়ক দিয়ে দূর-পাল্লাসহ সব যানবাহন চলাচল করে থাকে। কিন্তু জেলার চারটি রাস্তার বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে গর্ত। এ নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের শেষ নেই।

রহিম নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, তিন মাসও হয় নাই এই রাস্তার সংস্কার কাজ। রাস্তা ভাঙা শুরু হয়ে গেছে।
-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : ঈদযাত্রার আগেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২০ কিলোমিটারের যানজট
-------------------------------------------------------

কালাম নামের ওপর এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ১০ দিনেও যায় না, রাস্তা ভেঙে যায়। তাই গাড়ি খানাখন্দে পড়ে। জ্যাম লেগে থাকে।

হজরত আলী নামের এক ব্যক্তি বলেন, যখন খানাখন্দের সৃষ্টি হয়, কর্তৃপক্ষ রাস্তার ওপরে আস্ত ইট দিয়ে সামান্য কিছু বালু ভরে দিয়ে সাজিয়ে চলে যায়।

চলতি অর্থবছরে আঞ্চলিক সড়কসহ এ চারটি রুটের প্রায় ২১ কিলোমিটার রাস্তা ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হলেও ছয় মাসের মাথায় আগের মতোই খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। যার ফলে বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনা। চালকদেরও এই রাস্তা নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই।

শহীদ মিয়া নামের বাসের এক চালক বলেন, রাস্তা বেহাল হওয়ায় এক্সিডেন্ট ঘনঘন হইতাছে। মানুষ মারা যাইতাছে।

ট্রাক চালক রহমত আলী বলেন, ঝিনাইদহ পর্যন্ত রাস্তা খুবই খারাপ। চলার মতো না। এমনই খারাপ গাড়ির চাকা পর্যন্ত ভেঙে যায়।

পিক-আপ চালক বাবু বলেন, রাস্তাঘাটের জন্য এখানে এক্সিডেন্ট বেড়েছে।

তবে সড়ক বিভাগ বরাবরের মতো বৃষ্টিকেই দায়ী করছেন এই সড়ক নষ্টের মূল কারণ হিসেবে।

ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ বলেন, গেলো কয়েক দিনে প্রবল বর্ষণের কারণে কিছু কিছু জায়গায় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। আর ফাটল সৃষ্টি হওয়ায় স্বভাবতই জনগণের দুর্ভোগ বেড়েছে। এই বিষয়ে আমরা সার্বক্ষণিক সজাগ রয়েছি। আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

গেলো তিন মাসে ঝিনাইদহে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০ জনের প্রাণ গেছে। এই দুর্ঘটনার হার কমাতে দ্রুত সড়ক সংস্কার ও যথাযথ তদারকির দাবি স্থানীয়দের।

আরও পড়ুন : 

জেবি