• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

লক্ষ্মীপুরে অস্বাভাবিক জোয়ারে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

‘একই বিপদ আসে প্রত্যেক বছর, দেখার কেউ নেই’

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
|  ১৬ আগস্ট ২০১৮, ১১:৪১ | আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৮, ১৪:৩৭
লক্ষ্মীপুরের মেঘনার পাড়েই কমলনগর উপজেলার অবস্থান। কিন্তু জোয়ারের পানি ঠেকাতে এখানে বর্তমানে পর্যাপ্ত বেড়িবাঁধ নেই। 
ফলে বর্ষা মৌসুমে নদীর জোয়ারে ডুবে যায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম। জোয়ারের সময় ফসলি জমি-মাঠ পেরিয়ে পানি ঢুকে পড়ে বসত ঘরেও। পানিবন্দি হয়ে পড়ে হাজার হাজার পরিবার। তখন আর মানুষের দুঃখের অন্ত থাকে না, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন স্বজনরা। 

তীব্র জোয়ারের আঘাতে কাঁচা-পাকা অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অল্প দিনেই সড়ক নষ্ট হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। 

মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন ও চরলরেঞ্চসহ কয়েকটি এলাকা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। এসময় মানুষের বসতঘর ও রাস্তা-ঘাটের ওপর দিয়ে পানি বয়ে গেছে। এতে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : গাইবান্ধায় স্মার্ট কার্ড বিতরণে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ
-------------------------------------------------------

চরমার্টিন গ্রামের কলেজ শিক্ষার্থী আলমগীর হোসেন বলেন, মেঘনায় জোয়ারের পানির উচ্চতা বেড়েছে। এতে পুরো এলাকা ডুবে গেছে। আমাদের বাড়িতে হাঁটু পরিমাণ পানি উঠেছে। এলাকার রাস্তাগুলোর খুব করুণ অবস্থা। তাও যদি রাস্তাগুলো উঁচু হতো, তাহলে মোটামুটি হাঁটাচলা করা যেত। এখন তাও সম্ভব হচ্ছে না। প্রত্যেক বছরই একই সমস্যা হয়। পর্যাপ্ত বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রত্যেক বছরই আমাদের একই কষ্ট করতে হয়। সংশ্লিষ্টরা জানে বর্ষা মৌসুম আসলে এখানে পানি ওঠে। তবুও বাঁধ তৈরি করা হচ্ছে না। ​   

অপরদিকে, বেড়িবাঁধ না থাকায় অব্যাহত ভাঙনের মুখে হুমকির মধ্যে রয়েছে কমলনগর উপজেলা কমপ্লেক্সসহ সরকারি-বেসরকারি বহু স্থাপনা।

স্থানীয় নাছিরগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, জোয়ার এলেই বাজারে পানি উঠে। হাটে মানুষ আসতে পারে না। এতে ব্যবসার মারাত্মক ক্ষতি হয়। একই বিপদ আসে প্রত্যেক বছর। আমাদের দেখার কেউ নেই।  

জোয়ারের পানি চরকালকিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার সাইফুল্লাহ বলেন, জোয়ার পানিতে আমার ইউনিয়ন এখন ডুবে আছে। রাস্তাঘাটে চলাচল করা যাচ্ছে না। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জোয়ারে রাস্তাঘাটে ব্যাপক ক্ষতি হয়। যে কারণে প্রতিবছরই ওইসব রাস্তাঘাট সংস্কার করতে হয়।

কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, জোয়ার ঠেকানোর জন্য মজবুত বেড়িবাঁধ দরকার। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা সমন্বয় সভাতে উপস্থাপন করা হবে। 

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মুসা বলেন, কমলনগর রক্ষায় এক কিলোমিটার তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এটুকু বাঁধ যথেষ্ট নয়। ভাঙন প্রতিরোধে ও জোয়ারের পানি ঠেকাতে আরও সাড়ে ১৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) পাঠানো হয়েছে।
 

আরও পড়ুন : 

 

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়