• ঢাকা বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

ঝামেলা এড়াতে কুরবানির পশুর ক্রেতাদের টার্গেট খামার

বিএম ফারুক, যশোর
|  ১৫ আগস্ট ২০১৮, ১৬:০৪ | আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৮, ১৬:৫৭
কুরবানির মাত্র আর বাকি এক সপ্তাহ। ইতোমধ্যে যশোরের বিভিন্ন হাটগুলোতে পশু উঠতে শুরু করেছে। জমতে সময় লাগবে আরও কয়েকদিন। তবে অধিকাংশ ক্রেতারাই পশুর হাটের ঝামেলা ও হয়রানির কথা চিন্তা করেই বিভিন্ন খামার বা গৃহস্থের কাছ থেকে আগে-ভাগে পশু কিনে নিচ্ছেন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের গৃহস্থ সচ্ছল ব্যক্তিরা পশুর হাটে প্রতারণাকে মাথায় রেখে আগে-ভাগে বিভিন্ন খামার ও বাড়ি থেকে পশু কিনে নিয়ে পালন করছেন। তবে ভারত থেকে যত গরু আসুক না কেন ক্রেতাদের টার্গেট হচ্ছে দেশী গরু।

ক্রেতারা জানান, কুরবানির বাজারকে টার্গেট করে প্রতিবছর একটি শক্তিশালী প্রতারক চক্র গড়ে ওঠে। এসব প্রতারক চক্রের কারণে পশুর হাট থেকে অধিকাংশ ক্রেতাকেই ঠকতে হয়। তাছাড়া ইজারাদারদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ ক্রেতাদের হিমশিম খেতে হয়। এসব কারণে অনেকেই এখন হোম ডেলিভারির মাধ্যমে পশু কিনছেন। যারা পশুর হাটে যেতে চান না তারা বিভিন্ন খামার থেকে আগে-ভাগেই কুরবানির পশু কেনার উদ্যোগ নিচ্ছে।

যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া এলাকার সাহেব আলী নামে এক ব্যক্তি জানান, গত বছর তিনি বাঘারপাড়ার চাড়াভিটা বাজার থেকে কুরবানি উপলক্ষে গরু কিনতে গিয়ে প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে টাকা খুইয়েছিলেন। এবার তিনি বাজার থেকে গরু কিনতে ইচ্ছুক নন। 

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি গরুর খামারে খোঁজ নিয়েছি। দর দাম যাচাই করছি। পছন্দ হলেই কিনে নেবো। 

তিনি বলেন, রুপদিয়ার একটি খামার থেকে হোম ডেলিভারি দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তাই ইচ্ছা আছে হাটে না গিয়ে খামার থেকেই পশু কিনবো।
-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : দেশে ৬ লাখ বাড়তি গরু, নো টেনশন
-------------------------------------------------------

একই কথা জানান, শাহ নেওয়াজ নামে একজন ব্যাংকার। তিনি বলেন, ফেসবুকে একটি গরুর সন্ধান পেয়ে পাশের গ্রামে গিয়ে ৪৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছি। বাড়ি থেকে গরু কিনে লাভ না লস করেছি কী না সেটি ভাবছি না। তবে পশুর হাটে গরু কিনতে গেয়ে গিয়ে ঝামেলা পোহাতে হয় তা থেকে অনেকটা মুক্তি পাওয়ার জন্যই এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলাম। 

তিনি বলেন, কুরবানির আগ পর্যন্ত ওই খামারেই গরু পালন করা হবে। এরপর খামার মালিকই গরুটি আমার বাড়িতে পৌঁছে দেবেন। তবে এ ক্ষেত্রে তাকে কিছু বাড়তি টাকা দিতে হবে।

এদিকে ক্রেতাদের চাহিদাকে টার্গেট করে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরাও বেছে নিয়েছেন বাড়ি বাড়ি পশু পৌঁছে দেয়া। 

সদর উদ্দীন নামে একজন পশু ব্যবসায়ী জানান, তিনি ইতোমধ্যে ১০টি গরু ক্রেতাদের বাড়ি পৌঁছে দেয়ার ব্যাপারে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। ক্রেতারা তাদের পছন্দের পশুর দাম-দর ঠিক করে দেয়ার পর তিনি তাদের বাড়িতে পশুটি পৌঁছে দিবেন। এতে একদিকে যিনি পশু কিনছেন তিনি ঝামেলা মুক্ত থাকছেন অন্যদিকে ব্যবসায়ীরাও ইজারাদারের দৌরাত্ম্য থেকে মুক্তি পাবেন। তবে বাড়ি পর্যন্ত গরু পৌঁছে দেয়ার জন্য কিছুটা বাড়তি টাকা নিবেন বলে তিনি জানান। 

এদিকে এ বছর ভারত থেকে গরু আসলেও যশোরের বিভিন্ন হাটবাজারে মূলত দেশি গরুর উপস্থিতিই প্রাধান্য পাবে। গত কয়েক বছর ধরে ভারতীয় গরু না আসায় এ অঞ্চলের খামারিরা বেশি বেশি দেশি গরু পালন করে আসছেন। এ অঞ্চলের খামারগুলোই কুরবানির চাহিদা মেটাতে সক্ষম খামারিরা। 

ক্রেতারা বলছেন, হাটে এখন দেশি গরুর দাম অনেক বেশি। অধিকাংশ ক্রেতারা এখন ঘুরেফিরে গরু দেখলেও, অপেক্ষা করছেন। পশুর হাটগুলো জমলেই গরুর দাম কমতে পারে বলে তারা ধারণা করা হচ্ছে। 

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের হিসাব মতে, আসন্ন কুরবানি উপলক্ষে জেলায় ৫৫ হাজার পশুর চাহিদা রয়েছে। ইতোমধ্যে কুরবানি উপলক্ষে যশোরের ৮ উপজেলায় ৬৮ হাজার ২৫টি পশু আছে। এরমধ্যে গরু ৩৫ হাজার ৭শ’, ছাগল ২৯ হাজার ৩শ’ ও ভেড়া রয়েছে ৩ হাজার। এ জেলার চাহিদা মিটিয়ে ২৬ হাজার পশু বাইরের জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন : 

এসএস 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়