নতুন লঞ্চ সার্ভিসে পাল্টে গেলো দৃশ্যপট

৩ লক্ষাধিক লোকের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের সম্ভাবনা

প্রকাশ | ১৪ আগস্ট ২০১৮, ২১:৪৪ | আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০১৮, ২২:০৭

ইসমাইল হোসেন কিরন, হাতিয়া

জনমানবহীন জনপথ হঠাৎ সরগরম, পরিত্যক্ত ছোট ছোট খুপরি চায়ের দোকানে সাজসজ্জার প্রস্তুতি, মাথায় গামছা বাধা নৃত্য দিনের দিনমজুর শ্রমিকের নতুন কর্মসংস্থানের আনন্দ মুখ, অটোরিকশা, ভ্যান গাড়ি ও ভটভটি চালকের হঠাৎ কিছু পাওয়ার আনন্দ, ডাল, বাদাম, শুটকি বেপারিদের মোকামের সঙ্গে উচ্চ স্বরে মোবাইলে কথোপকথন। সব মিলিয়ে হাতিয়ার চরচেঙ্গা ঘাটকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণির মানুষের মধ্যে তৎপরতা অনেকটা লক্ষ্য করার মতো। 

বিচ্ছিন্ন এ জনপদের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার নতুন বিলাস বহুল লঞ্চ সার্ভিস চালু হওয়ায় এর অন্যতম কারণ।
  
নোয়াখালী বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের ৪টি ইউনিয়ন বুড়িরচর, সোনাদিয়া, জাহাজমারা ও নিঝুম দ্বীপ। এ ইউনিয়নগুলোতে প্রায় ৩ লাখ লোকের বসবাস। এখানকার অধিকাংশ মানুষ কৃষি, জেলে ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ৪টি ইউনিয়ন নদীর কাছে এবং ব্যবসায়ীকভাবে দুর্বল যোগাযোগের কারণে অনেকটা পিছিয়ে এখানকার মানুষ। 

জাহাজমারা বোট মালিক সমিতির সভাপতি রাশেদ উদ্দিন জানান, জাহাজমারা ঘাটে ছোট ছোট মাছ ধরার ট্রলার ছাড়াও দুই শতাধিক বড় বড় ফিসিং বোট (সাগরে মাছ ধরা বড় ট্রলার) রয়েছে। পূর্বে এক ঝুরি মাছ ঢাকা পৌঁছতে প্রায় চার হাজার টাকা খরচ হতো। এখন নতুন লঞ্চ সার্ভিস চালু হওয়ায় খরচ অর্ধেকের চেয়ে কম হবে।
  
হাতিয়ার উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, জাহাজমারা, বুড়িরচর ও সোনাদিয়া ইউনিয়নের প্রতিবছর ৪ হাজার ৭শ’ হেক্টর জমিতে বাদাম, ৫ হাজার ২শ’ হেক্টর জমিতে মুগ ডাল চাষ হয়। এই ডাল ও বাদাম স্থানীয় চাহিদার পরিমাণের অনেক  বেশি হওয়ায় তা বাহিরে রপ্তানি করতে হয়। স্থানীয়ভাবে প্রতিটি বাজারে ছোট ছোট বেপারিরা গ্রাম থেকে ক্রয় করে ঢাকা রপ্তানি করে। এ ক্ষেত্রে চরচেঙ্গা ঘাটের মাধ্যমে বস্তা প্রতি খরচ অনেক কমে যাওয়ায় লাভবান হবেন ব্যবসায়ীরা। 

নিঝুম দ্বীপে প্রতি বছর ইলিশ মাছ ছাড়াও শীত মৌসুমে প্রচুর চেউয়া মাছ পাওয়া যায়। জেলেরা এই মাছকে শুকিয়ে শুটকি করে বিক্রি করে। চেউয়া শুটকি দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মুরগীর খাবার ফিড তৈরি করে। ঢাকার গাজীপুরের ফিড তৈরি কারখানা প্রভিটা লি: এর কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা থেকে সরাসরি চরচেঙ্গা লঞ্চ সার্ভিস চালু হওয়ায় নিঝুম দ্বীপ ও জাহাজমারা থেকে শুটকি কিনাটা অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী হবে। পাশাপাশি সময়ও কম লাগবে। 

এছাড়া চরচেঙ্গা-ঢাকা রুটে বিলাসবহুল লঞ্চ সার্ভিস চালু হওয়ায় নিঝুম দ্বীপে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা এখানকার পর্যটন ব্যবসায়ীদের। গেলো শুক্রবার দুপুরে হাতিয়ার সোনাদিয়া ইউনিয়নের চরচেঙ্গা ঘাটে এমভি তাসরিফ নামে লঞ্চ দুইটির উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য বেগম আয়েশা ফেরদাউস। লঞ্চ দুইটি প্রতিদিন দুপুর ১২টায় চরচেঙ্গা ঘাট থেকে ছেড়ে যাবে। বিকেল ৫টায় ঢাকা সদর ঘাট থেকে ছেড়ে আসবে। পূর্বে পর্যটকরা হাতিয়া তমরদ্দি ঘাটে নেমে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে নিঝুমদ্বীপে পৌঁছাতো। এখন এই দূরত্ব কমে ১০ কিলোমিটারে এসেছে সড়ক পথে। নদী পথে নিঝুম দ্বীপের সঙ্গে এই ঘাটের দূরত্ব আরও কম। চরচেঙ্গা ঘাট থেকে নিঝুম দ্বীপ নিকটবর্তী হওয়ায় এতে সবচেয়ে লাভবান হবেন ভ্রমণ পিয়াসুরা।

এব্যাপারে লঞ্চ এর মালিক ফেয়ারি শিপিং লাইন্স লিঃ এর পরিচালক আকবর হোসেন জানান, অনেক দিন থেকে এ রুটে লঞ্চ চলাচল অনুমোদনের জন্য চেষ্টা করে অবশেষে সফল হলাম। আমরা আশা করি লঞ্চটি এই দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে অনন্য ভূমিকা পালন করবে।

এসএস