• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

লোকসানের আশঙ্কা নিয়েও রাজবাড়ীতে প্রস্তুত ১২ হাজার কুরবানির পশু

এম মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী
|  ১১ আগস্ট ২০১৮, ২১:৩২ | আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৮, ২২:২১
রাজবাড়ীর পাঁচ উপজেলায় কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে সর্বমোট ১২ হাজার ৩১টি পশু প্রস্তুত করা হচ্ছে। ঈদের ৮-১০ মাস আগে থেকেই খামারিরা পশু মোটাতাজা করতে শুরু করেন। আসন্ন কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজা করতে এখন শেষ সময়ে ব্যস্ত রাজবাড়ীর সাধারণ চাষি ও খামার মালিকেরা। ঈদের আর কয়েকদিন বাকি। তাই শেষ সময়ে পশুগুলোর যত্ন নিচ্ছেন তারা। কেউ কেউ বাজার যাচাইও শুরু করেছেন।

ওষুধ এবং গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি এবং স্থানীয় সরকারি পশু চিকিৎসকদের অসহযোগিতায় বারবার লোকসানের পরও এ বছর প্রায় ১২ হাজার গরু প্রস্তুত করা হচ্ছে কুরবানির জন্য। যার বাজার মূল্য প্রায় আশি কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। আর এসমস্ত প্রান্তিক চাষি ও খামিদের দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে গরুর লাভজনক মূল্য না পাওয়া আর ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ। ভারতীয় গরু অনুপ্রবেশ রোধ করা হলে বিগত বছরের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সাধারণ চাষি ও  খামার মালিকেরা।

-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধ দেখাচ্ছেন যিনি
-------------------------------------------------------

কালুখালি উপজেলার তফাদিয়া গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা বাবু শেখ এবার সাতটি ষাঁড় ও বলদ গরু মোটাতাজা করছেন। যার এক একটির মূল্য তিনি স্থানীয় কালুখালির হাটে তুলে চাচ্ছেন আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা। তার প্রতিটি গরুর ওজন প্রায় ১৬-১৭ মণ করে। তিনি জানান, গত বছরও সাতটি গরু ঢাকার ব্যাপারীর কাছে দুলাখ করে বিক্রি করে ছয় লাখ টাকা লাভ করেছিলেন।

রাজবাড়ির কুরবানির পশুর প্রধান বাজার হচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট। চাষি ও খামারিরা স্থানীয় ব্যাপারীদের কাছে পশু বিক্রি করতে না পারলে নিজেরাই ট্রাকে চেপে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের হাটগুলোতে পশু নিয়ে হাজির হন।

জেলার বিভিন্ন গ্রামে এখন প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই পশুকে শেষ সময়ের মতো যত্ন নেয়া হচ্ছে। অনেকেই ঢাকা চট্টগ্রাম ও সিলেট এলাকার হাটে যাওয়ার জন্য নিচ্ছেন প্রস্তুতি। ইতিমধ্যে স্থানীয় ব্যাপারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পশু কেনার জন্য দরদাম শুরু করেছেন। তারা ৪০ হাজার টাকা থেকে দেড় লাখের বেশি টাকা দিয়ে গরু কিনতে শুরু করেছেন।

কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই জেলার পাঁচ উপজেলার নতুন ও পুরাতন হাটগুলোতে প্রচুর পশু ওঠছে। বেচাকেনাও  ভালোই হচ্ছে বলে হাট মালিকেরা জানিয়েছেন। গত দুই বছর ভারতীয় গরুর অবাধ অনুপ্রবেশের ফলে চাষি ও খামার মালিকেরা দাম না পাওয়ায় চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন।

বালিয়াকান্দি উপজেলার রামদিয়া গ্রামের নজর আলী মোল্লা বলেন, গত বছর দুইটি নেপালি গরুসহ ৩৭টি গরু মোটাতাজা করেছিলাম। আশা ছিল ৪০-৫০ লাখ টাকা লাভ হবে। কিন্তু ভারতীয় গরু অনুপ্রবেশ করার ফলে গরুর দাম নিচে নেমে যায়। ফলে আমার মাত্র ১৫ লাখ টাকা লাভ হয়েছিল।

একই গ্রামের আরিফুল ও বাক্কার এবার ১২টি করে গরু মোটাতাজা করেছেন। অবশ্য এবার লোকসানের আশঙ্কায় গরু মোটাতাজাকরণের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। খামার মালিক ও চাষিরা জানান, যদি গত বছরের ন্যায় এ বছরও ভারতীয় গরু বাংলাদেশের বাজার দখল করে নেয় এবং গরুর আশানুরূপ দাম না পাওয়া যায় তাহলে লাভের চেয়ে চাষি ও খামার মালিকদের লোকসানের পরিমাণই গুণতে হবে বেশি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ীর পাঁচ উপজেলায় তিন হাজার পাঁচশ ৯২ জন খামারি ১২ হাজার ৩১টি পশু কুরবানির জন্য প্রস্তুত  করেছেন।

খামারিরা জানান, গরু মোটাতাজাকরণে এবার তারা কোনও রকম হরমোন ও স্ট্রেরেট ট্যাবলেট খাওয়াননি। শুধু ধানের কুড়া, কাঁচা ঘাস, খড়, গমের ভুষি, ভুট্টা, ডাল, সরিষার খৈল, আগের গুড় ও লবণসহ প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে পশু মোটাতাজাকরণ করেছেন।

জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক আরটিভি অনলাইনকে জানান, রাজবাড়ী সদর উপজেলাসহ জেলার প্রতিটি উপজেলায় কুরবানির ঈদ উপলক্ষে প্রতিটি খামারে সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন তারা। প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে পশু মোটাতাজাকরণ করার জন্য খামারিদের উৎসাহিত করছেন। প্রতিটি পশুর হাটে তাদের মেডিকেল টিম থাকবে এবং জেলায় প্রায় ২৩টি পশুর হাট বসবে। তবে ভারতীয় গরু এলে খামারিরা লোকসানে পড়বেন এবং ভবিষ্যতে খামারিদের গরু পালনে আগ্রহ কমবে বলেও জানান তিনি।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়