• ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৩ আশ্বিন ১৪২৫

পাখি পালন করে স্বাবলম্বী শাওন

আরটিভি অনলাইন
|  ১১ আগস্ট ২০১৮, ১৪:৫৪ | আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৮, ১৫:১৯
ফ্যান্সি জাতের কবুতর ও শৌখিন খাঁচায় পাখি পালন করে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন বগুড়া সদর উপজেলার ঠনঠনিয়া ব্যাংকপাড়ার (আহলে হাদিস মসজিদ লেন) মামুন উল হাসান (শাওন) নামে এক যুবক।

কয়েক বছরের মধ্যে এলাকায় সাড়া জাগিয়েছেন পাখি ও কবুতরের ভিন্ন ভিন্ন ধরনের প্রকল্প গড়ে। বাড়ির ছাদে গড়ে তুলেছেন আলাদা আলাদা অনেকগুলো ঘর। এক একটি ঘরে পৃথকভাবে পালন করেন বাজরিগার, ফিন্স, ককাটিয়েল, জাভা, অস্ট্রেলিয়ান রিংনেকড ঘুঘু ও বিভিন্ন ফ্যান্সি জাতের কবুতর। তার এই সফলতা দেখে অনেকেই উদ্যোগ নিচ্ছেন এমন কিছু করার জন্য।

শাওন পেশায় একজন উন্নয়ন কর্মী। তিনি পেশাগত কাজের ফাঁকে অবসর সময় ব্যয় করেন তার এই খামারে। তিনি তার খামারের নাম দিয়েছেন ‘শৈলী এভিয়ান ফার্ম’।

প্রায় এক যুগ আগে মেয়ের আবদার পূরণের জন্য দুই জোড়া বাজরিগার ও দুই জোড়া ফিন্স পালন শুরু করেন। পাখি পালন শুরু করার মাস খানেক পর পাখিগুলো কয়েক জোড়া বাচ্চা দিলে তার আগ্রহ বেড়ে যায়। এরপর ধীরে ধীরে তিনি পাখি বাড়াতে শুরু করেন। পাখি থেকে ভালোই আয়-রোজগার শুরু হয়। এরপর বাবার ইচ্ছাতে কিছু ফ্যান্সি কবুতর সংগ্রহ করে পালন করতে থাকেন। এখন তার খামারে রয়েছে ইয়েলো স্যাকশন প্রিস্ট, লাক্কা, আমেরিকান লাক্কা, বিভিন্ন রংয়ের জ্যাকোবিন, শর্টফেস, সিরাজি, দেশি লোটন, ইন্ডিয়ান লোটন, চাইনিজ আউল, বোখারা, মাল্টেস, বিভিন্ন রকম মুক্কি (যেমন-কালো, চকলেট, ইয়েলো, চকলেট বার ও ব্লু বার), বিভিন্ন প্রকার বোম্বাই (যেমন-কালো, ব্লু-বার ও আমেরিকান), আমেরিকান শো-কিং, রান্টসহ আরও অনেক জাতের প্রায় ১০০ জোড়া ফ্যান্সি কবুতর। 

তার খামারে সার্বক্ষণিক একজন কর্মচারী রয়েছেন। খামার থেকে খরচা বাদ দিয়ে বছরে তিন থেকে চার লাখ টাকা আয় করতে পারেন। তবে প্রকল্পে পাখি বাড়ানোর জন্য পরিকল্পনা রয়েছে। বাজরিকা ও ফিন্স নামের পাখিই তার আয়ের বড় উৎস।
-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : পরকীয়ার নাটক সাজিয়ে সালিশি বৈঠকে গৃহবধূকে মারধর!
-------------------------------------------------------

তিনি অনলাইনে ‘শৈলী এভিয়ান ফার্ম’ নামে ফেসবুক পেজের মাধ্যমেই মূলত তার খামারের উৎপাদিত পাখি ও কবুতর সমগ্র বাংলাদেশে বিক্রি করে থাকেন। অনলাইন বার্ড মার্কেটিংয়ে এ বিষয়ে মানুষের আস্থাও অর্জন করেছেন। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাখি কিনতে আসেন পাখি প্রেমিক ও ব্যবসায়ীরা।

মামুন বলেন, দেশে অনেক উপার্জনের পথ রয়েছে, তাহলে কেন বিদেশে পাড়ি জমাতে হবে? স্বল্প পুঁজি দিয়েই ফ্যান্সি কবুতর ও  শৌখিন পাখি পালন প্রকল্প গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাখি ও কবুতর পালনের জন্য CLP  কোর্স করেছেন। তার পরামর্শে ও কারিগরি সহযোগিতায় ঢাকা ও বগুড়াসহ সারা দেশে ৩৫টিরও বেশি পাখি ও কবুতরের খামার গড়ে উঠেছে। এছাড়া পাখি ও কবুতর বিষয়ে তিনি অনলাইনের মাধ্যমে নতুন পাখি পালকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তার এই উদ্যোগের মাধ্যমে বেকার যুব সমাজের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান এলাকার মানুষ।

আরও পড়ুন :

জেবি 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়