• ঢাকা রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবৈধ হাতির স্থায়ী আবাস!

চৌধুরী ভাস্কর হোম, মৌলভীবাজার
|  ১০ আগস্ট ২০১৮, ২২:০১ | আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৮, ২২:৩৫
নিয়ম-নীতি ভঙ্গ করে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ভেতরে পোষা ছয় হাতির অবাধ বিচরণে ক্ষতি হচ্ছে বন্য গুল্ম, চারা গাছ-গাছালি, বাঁশ ও ইকো পর্যটন ব্যবস্থাপনার। দিনের বেলা সামাজিক বনায়নের নিলামের (অকশনে) গাছ হাতি দিয়ে টানা হলেও রাতের বেলা হাতিগুলোকে বনে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। 

এ ঘটনায় পরিবেশবাদী ও বন বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করলেও বন্য প্রাণীসহ ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন কর্মকর্তারা এ দিকে কোনও দৃষ্টি দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠছে।   

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ উদ্যানের কালাছড়া বনবিট এলাকার সামাজিক বনায়নের(বাফার্স জোন)-এর গাছ গাছালি সরকারি বিধি মোতাবেক নিলাম দেয়া হয়। জুড়ি উপজেলার একজন মহালদার এ নিলাম নিয়ে নিলামের গাছগুলি কেটে নিয়ে স্থানীয় এক মহালদারের পোষা ৬টি হাতি দিয়ে কাটা গাছগুলি টেনে নিচ্ছেন। 
-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন :জয়পুরহাটে নৈশ প্রহরীকে খুন করে এটিএম বুথের টাকা চুরির চেষ্টা
-------------------------------------------------------

জাতীয় উদ্যানের ইকো পর্যটন ব্যবস্থাপনাধীন সংরক্ষিত বনে কোনও প্রকার পোষা হাতি প্রবেশ করার নিয়ম না থাকলেও স্থানীয় মহালদার গত বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে পোষা ৬টি হাতি দিয়ে কাটা গাছ টেনে নিচ্ছেন। ফলে জাতীয় উদ্যানের সংরক্ষিত বনের চাউতলীর বাঁশ বাগানসহ এলাকার নানা ধরনের গুল্ম, বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো চারা গাছ, বাঁশ এমনকি ইকো পর্যটন ব্যবস্থাপনারও ক্ষতি হচ্ছে।

পরিবেশবাদী ও সমাজসেবামূলক সংগঠন পাহাড় রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আহমদ, লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জির বাসিন্দা হাতিম আলী ও সাজু মারছিয়াং জানান, প্রায় মাস খানেক ধরে ৬টি হাতি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের কালাছড়া বিটে অবস্থান করছে। দিনে হাতি দিয়ে কাটা গাছ টেনে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে গেলেও রাতে এসব হাতি ছেড়ে দেয়া হয়। ফলে রাতে উন্মুক্ত হাতিগুলো সারা বনবিট এলাকা ঘুরে বেড়ায়। 

হাতিম আলী জানান, একটি হাতির দৈনিক খাবার খরচ লাগে কমপক্ষে ২ হাজার টাকা। আর এ খরচ কমাতে সংশ্লিষ্ট বন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মাহুতরা এ কাজটি করছেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লাউয়াছড়া বন পাহারাদার দলের(সিপিজি) দুই সদস্য বলেন, লাউয়াছড়ার এক বনবিট কর্মকর্তার সঙ্গে সু-সম্পর্ক গড়ে বিধি বহির্ভূতভাবেই পোষা হাতি জাতীয় উদ্যানে অবাধ বিচরণ করাচ্ছেন মহালদারের লোকজন। 

বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (বাপা)-ও সিলেট বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম মুঠোফোনে আরটিভি অনলাইনকে বলেন, কোনভাবেই পোষা হাতি জাতীয় উদ্যানের ইকো পর্যটন এলাকার বনে প্রবেশ করতে পারে না। হাতি গাছ টানলে আশপাশের নানা জাতের ছোট বড় গাছ গাছালির ক্ষতি করাসহ ইকো পর্যটন ব্যবস্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি হয়।

তিনি আরও বলেন, পোষা হাতি বনের ভেতর যে ক্ষতি করে বন্য হাতি সেভাবে ক্ষতি করে না। তাই পোষা হাতি কোনভাবেই জাতীয় উদ্যানের বনাঞ্চলে প্রবেশ করতে পারে না।
 
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কালাছড়া বনবিট কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, তিনি ছুটিতে আছেন। 

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারি বন সংরক্ষক মো. আনিসুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, সরকারি বিধি মোতাবেক কালাছড়া বনবিট এলাকার সামাজিক বনায়নের(বাফার্স জোনের) গাছ নিলাম দেয়া হয়েছে। নিলাম গ্রহণকারী এসব গাছ কেটে নিজ উদ্যোগে টেনে একটি স্থানে আনে। বন বিভাগ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের পর গাছ নিয়ে যাবার কথা। 

জাতীয় উদ্যানের বনের ভেতর পোষা হাতি প্রবেশ করতে পারে না স্বীকার করে তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন :

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়