• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮, ১ ভাদ্র ১৪২৫

হাতিয়ায় ভরা মৌসুমেও ইলিশের খরা

ইসমাইল হোসেন কিরন, হাতিয়া
|  ১০ আগস্ট ২০১৮, ১৫:৩৭ | আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৮, ১৫:৪১
বিভিন্ন রঙের প্লেকার্ড, সুসজ্জিত জেলে নৌকা, পুরনো দিনের গানের আওয়াজ, চায়ের দোকানের জমজমাট বিক্রি, তাজা ইলিশ মাছ ভাজার গন্ধ, নতুন লুঙ্গি পরে আওয়াজ করে হাটা, মুখ লাল করে পান খাওয়া, বরফ ভাঙার শব্দ এর কোনোটিই নেই নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বড় বড় মাছঘাটগুলোতে।

ইলিশ মৌসুমের দুমাস ফেরিয়ে গেলেও জেলে পল্লীতে আছে শুধু হাহাকার। প্রতিদিনই দাদনের ভার বৃদ্ধি পেতে পেতে অনেকটা নুইয়ে পড়ছে নদীর সঙ্গে জীবনযুদ্ধ করা জেলেরা।

সরেজমিনে হাতিয়ার বিভিন্ন মাছ ঘাট ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

নোয়াখালীর হাতিয়ার উপকূলীয় অঞ্চল অর্থনীতি ব্যবসা-বাণিজ্য, হাট-বাজার সবকিছুই ইলিশ মাছ নির্ভর। মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে রূপালি ইলিশ ধরা পড়লে চাঙ্গা থাকে এখানকার অর্থনীতি। জেলেদের হাতে থাকে টাকা, মুখে থাকে হাসি। ইলিশ মাছ না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে এখানকার অর্থনীতি।

-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : এক ইলিশের এতো দাম !
-------------------------------------------------------

জুন-জুলাই-আগস্ট এ তিন মাসকে ধরা হয় ইলিশের ভরা মৌসুম। ইতোমধ্যে মৌসুম শুরু হলেও জেলেদের জালে ধরা দেয়নি ইলিশ। নীরবতা বিরাজ করছে ঘাটগুলোয়। লোকসমাগম নেই হাট-বাজারে। ফাঁকা দোকান-পাট। এ মৌসুমকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ঘাটের মুদি দোকান ও খাওয়ার হোটেলগুলোতে মজুদ করা মালামাল অনেকটা নষ্ট হতে যাচ্ছে। হাতিয়ার বড় মাছ ঘাট চেয়ারম্যান ঘাটে দেখা যায় মুদি দোকানগুলোতে জেলেদের নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল, পুলুট, তেলের ব্যারেল, বস্তা ভর্তি জাল, জ্বালানি তেলের সুসজ্জিত ড্রাম পড়ে আছে। একইভাবে খাওয়ার হোটেলগুলোতে বিভিন্ন মালামাল ও রঙ বেরঙের কাপড় লাগিয়ে সুসজ্জিত করা হলেও নেই কোনও বিক্রি।

হাতিয়ায় চেয়ারম্যানঘাটের মতো ২৫টি ঘাট রয়েছে। যেখানে প্রায় ২০ সহস্রাধিক জেলে নৌকা রয়েছে। প্রতিটি নৌকা মৌসুমের শুরুতেই জাল, ইঞ্জিন, বোট মেরামতসহ দুই লক্ষাধিক মূল্যের মালামাল নিয়ে নদীতে যায়। প্রতিদিনই এসব জেলে নৌকাকে মাছের আশায় নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জ্বালানি তেল ও খাওয়া খরচ বাবদ খরচ করতে হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পাচ্ছে তাদের দেনার পরিমাণ। ইলিশ মাছ নির্ভর ব্যবসায়ীরা সারা বছর বাকিতে মাল দিয়ে থাকেন জেলেদের। আশা একটাই ইলিশের মৌসুমে শোধ করে দিবে দেনা-পাওনা। এ বছর মাছ না পাওয়ায় বাড়ছে বাকির পরিমাণ। কমছে নগদ টাকা। জেলেরা সুদের ওপর ঋণ নিয়ে সারা বছর চালিয়েছেন সংসার। নদীতে নামিয়েছেন নৌকা-জাল। মাছ না পাওয়ায় বাড়ছে সুদের পরিমাণ। শোধ করতে পাড়ছে না দাদনের টাকা।

হাতিয়া মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল আরটিভি অনলাইনকে জানান, উপকূলীয় চরবাসীকে কেবল মাছের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে কৃষি, পশু, হস্তশিল্প, কুটিরশিল্পসহ নানামুখী পেশায় নিয়োজিত করা গেলে এমন মন্দাবস্থায় পড়তো না এখানকার অর্থনীতি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মোতালেব হোসেন আরটিভি অনলাইনকে জানান, ইলিশের মৌসুম শুরু হলেও পাওয়া যাচ্ছে না মাছ। বিকল্প কর্মসংস্থানের মাধ্যমে জেলেরা সারা বছর সচল রাখতে পারে অর্থনীতি। হাতিয়া উপজেলার চরাঞ্চলের অর্থনীতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করে মেঘনার ইলিশ।

আরও পড়ুন : 

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়