• ঢাকা রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫

পদ্মার ভাঙনে সাধুর বাজার লঞ্চঘাট বিলীন, নিখোঁজ ৯

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
|  ০৭ আগস্ট ২০১৮, ২১:২০ | আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৮, ২১:৪৮
পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে নড়িয়ায় সাধুর বাজারে ৭টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ২টি ট্রলি, একটি মাহেন্দ্র নিয়ে একটি লঞ্চঘাট পন্টুন ও ঘাট সংলগ্ন বাজার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। 

মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে নড়িয়ার সাধুর বাজার লঞ্চঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় আশপাশে থাকা প্রায় ৪০ জন মানুষ নদীতে আকস্মিক তলিয়ে যায়। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় ১৭ জনকে উদ্ধার করে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে। 

তলিয়ে যাওয়া লোকজনের মধ্যে প্রায় ৩০ জন সাঁতার কটে তীরে উঠলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৯ জন।

এদিকে ভাঙন কবলিতদের কান্নায় ভারি হয়ে উঠছে তীরবর্তী এলাকা। ভিড় করছে হাজারও মানুষ।  

কেদারপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ঈমাম হোসেন দেওয়ান ও নড়িয়া থানা সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০/১২ বছর ধরে শরীয়তপুরের নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পদ্মার ভাঙন শুরু হয়েছে। বিরামহীন এ ভাঙন চলতে থাকে। তবে এ বছর পদ্মার ভয়াবহ এ রকম রূপ কেউ দেখেনি। 
ভয়াবহ নদী ভাঙনে গত ২ বছরে নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর, মোক্তারের চর, কেদারপুর ইউনিয়ন ও নড়িয়া পৌরসভার বিরাট একটি অংশ বিলীন হয়ে গেছে। এ বছরও বর্ষা মৌসুমে শুরু থেকেই নড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে পদ্মা নদীর ভাঙন শুরু হয়। ইতোমধ্যে এসব এলাকার শতশত বাড়ি ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি ও কয়েক কিলোমিটার পাকা রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।  

ভাঙনের ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে পদ্মা পাড়ের মানুষ। খোলা আকাশের নিচে অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তারা।

দুর্ঘটনার শিকার সাধুরবাজার লঞ্চঘাট এলাকার জসিম হাওলাদার বলেন, আজ মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ করেই পদ্মার ভাঙন বেড়ে যায়। এর সঙ্গে দোকান ঘরগুলো কেঁপে ওঠে। মুহূর্তেই দোকান-ঘরসহ পানিতে তলিয়ে যাই। পরে পানির উপরে ভেসে উঠলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। 

ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক নিয়াজ আহমেদ আরটিভি অনলাইনকে বলেন, লঞ্চঘাট এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে এই সংখ্যা বাড়তেও পারে। নিখোঁজদের উদ্ধারে পুলিশসহ স্থানীয়রাও চেষ্টা চালাচ্ছে।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইসমিন বলেন, হঠাৎ করে মঙ্গলবার দুপুরে পদ্মা নদীর ভাঙনে সাধুর বাজার লঞ্চঘাটটি কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও লোকজন নিয়ে তলিয়ে যায়। এ সময় ১৭ জনকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখনো কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়