• ঢাকা বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

শিল্পমন্ত্রী সেজে টাকা দেয়ার নির্দেশ, রিমান্ডে ছাত্রলীগ নেতা

ঝালকাঠি প্রতিনিধি
|  ০৭ আগস্ট ২০১৮, ২০:৪২ | আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৮, ২১:১২
ঝালকাঠির মেঘনা ডিপো পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ব্যবস্থাপকের কাছে শিল্পমন্ত্রী সেজে ইয়াসিন ভূঁইয়া নামে ছাত্রদলের এক সাবেক নেতাকে টাকা দেয়ার নির্দেশের ঘটনায় করা মামলায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ হাদিসুর রহমান মিলনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। 

মিলন অন্য একটি মামলায় কারাগারে থাকায় তাকে চাঁদা দাবির মামলায় দৃশ্যত গ্রেপ্তার (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখানো হয়েছে। 

মঙ্গলবার ঝালকাঠির আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করলে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঝালকাঠি জৈষ্ঠ্য বিচারিক বেগম রুবাইয়া আমেনা।

বিষয়টি আরটিভি অনলাইনকে নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঝালকাঠি সদর থানার ওসি (অপারেশন) আবুল কালম আজাদ।

জানা যায়, ঝালকাঠি শহরের ডাক্তারপট্টি এলাকার বাসিন্দা সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. ইয়াসিন গত ২১ এপ্রিল দুপুরে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ডিপো ব্যবস্থাপক মো. মাহবুবর রহমানকে মোবাইলফোনে কল দেন। ডিপো ব্যবস্থাপক কল গ্রহণ করলে অন্য প্রান্ত থেকে শিল্পমন্ত্রীর লোক পরিচয় দিয়ে তার অবস্থান জানতে চান ইয়াসিন। ডিপো ব্যবস্থাপক বাইরে আছেন জানালে ইয়াসিন পরের দিন দুপুরে তার কার্যালয়ে যাবেন বলে জানান। 

২২ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইয়াসিন শহরের ফায়ার সার্ভিস মোড়ের টাউন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক মো. বশির উদ্দিন এবং আরও এক পুলিশ সদস্যকে নিয়ে একটি কালো রঙের প্রাইভেট কারে মেঘনা ডিপোতে যান। ডিপো ব্যবস্থাপকের কক্ষে ঢুকে বসেন তারা। ডিপো ব্যবস্থাপককে একটি শপিং ব্যাগে উপহারসামগ্রী তুলে দিয়ে ইয়াসিন জানান, এ উপহার শিল্পমন্ত্রী তার জন্য পাঠিয়েছেন। 

এরপর ইয়াসিন মুঠোফোনে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ হাদিসুর রহমান মিলনের কাছে কল দিয়ে ডিপো ব্যবস্থাপককে শিল্পমন্ত্রী কথা বলবেন বলে ফোন ধরিয়ে দেন। ফোনের অন্য প্রান্ত থেকে ডিপো ব্যবস্থাপককে বলা হয়, ওরা আমার লোক, যা বলে সে অনুযায়ী কাজ করুন।  

এরপর ফোন কেটে দিলে ইয়াসিন শিল্পমন্ত্রীর কথা বলে ব্যবস্থাপকের কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। ব্যবস্থাপক অবাক হয়ে বলেন, তিনি দুই লাখ টাকা কোথায় পাবেন। ইয়াসিন তখন বলেন, যা পারেন তাই দেন। বিষয়টি সন্দেহ হলে ব্যবস্থাপক কক্ষের ভেতরে তাদের বসিয়ে বাইরে বের হয়ে অফিসের অন্য স্টাফদের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করে থানায় ফোন দেন। থানা থেকে সহকারি উপপরিদর্শক মিঠুনকে মেঘনা ডিপোতে পাঠানো হয়। উপপরিদর্শক মিঠুনকে দেখে ইয়াসিন ও তার সঙ্গীরা কৌশলে বের হয়ে গাড়িতে করে পালিয়ে যান। 

এ ঘটনায় ডিপো ব্যবস্থাপক মো. মাহবুবর রহমান বাদী হয়ে ওই দিনই ঝালকাঠি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঝালকাঠি থানার ওসি (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ বলেন, তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে সৈয়দ হাদিসুর রহমান মিলনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। শিল্পমন্ত্রী সেজে ফোনে ডিপো ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলেছিল তিনি। তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। 

তিনি বলেন, এ মামলার অপর আসামী ইয়াসিন ভূঁইয়াকে ঘটনার ১১ দিন পর গেলো ৩ মে রাতে শহরের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়