• ঢাকা বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

লোকসানের শঙ্কায় মিয়ানমার থেকে পশু আমদানিতে ধীরগতি

শাহীন শাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার)
|  ০৪ আগস্ট ২০১৮, ১৪:৫০ | আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৮, ১৩:৫৬
ঈদ-উল-আজহাকে সামনে রেখে মিয়ানমার থেকে গবাদি পশু আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তবে এ আমদানি ধীরগতিতে হচ্ছে। আবহাওয়া প্রতিকূল ও বাজারে গরুর মূল্য না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

কক্সবাজার জেলার টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে এসব গরু-মহিষ ঢুকছে। গেলো জুলাই মাসে ছয় হাজারের বেশি গবাদি পশু এসেছে। তবে জুলাই মাসের তুলনায় জুন মাসে দিগুণের বেশি গবাদি পশু আমদানি হয়েছিল। আমদানিকৃত পশুর উচ্চমূল্য না পাওয়ায় ও আবহাওয়াজনিত কারণে ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার থেকে গরু আমাদানিতে আগ্রহ হারাতে বসেছেন। তবে আসন্ন কুরবানি ঈদকে সামনে রেখে আমদানি বৃদ্ধি ও নির্বিঘ্ন করতে উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : রংপুরে ১০ শিক্ষার্থীকে আটকের অভিযোগ
-------------------------------------------------------

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গেলো জুন মাসে ১২ হাজার সাতশ’ ৪০টি গরু, দুই হাজার তিনশ’ ৭২টি মহিষ আমদানির ফলে পৌনে এক কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়। গেলো জুলাই মাসে তা কমে চার হাজার ছয়শ’ একটি গরু, এক হাজার পাঁচশ’ পাঁচটি মহিষ ৩০ লাখ ৫৩ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়। এক মাসের ব্যবধানে পশুর মূল্য কমে যাওয়ায় আমদানি তুলনামূলকভাবে কমে যায়। ভারত থেকে পশু আমদানি বেড়ে যাওয়ায় বাজারে পশুর দাম কমে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে ব্যবসায়ীরা লোকসানের আশঙ্কায় আপাতত মিয়ানমার হতে পশু আমদানিও কমে গিয়েছে।

শাহপরীর দ্বীপ করিডোর ঘুরে দেখা গেছে, করিডোরসংলগ্ন নানা জায়গা হাজারো গরু মহিষ মজুদ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গুটিকয়েক ব্যবসায়ী ঘুরাঘুরি করছে। তবে তা অপ্রতূল। ঝিনাইদহ জেলার মহেষপুর এলাকার খোকন জানান, গরুর বাজার কম জেনেই শাহপরীর দ্বীপে আসা হয়। লাইন খরচ তিন হাজারসহ নিজ জেলাতে যেতে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়।

গরু ব্যবসায়ী আলমগীর জানান, বিক্রি কম ও আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকায় গরু কম আসছে। ব্যবসায়ী মো. ইসমাইল জানান, বাজারে পশুর দাম কম হওয়াতে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা শাহপরীর দ্বীপে আসা শুরু করছে।

তিনি আরও জানান, ব্যবসায়ীরা সরকারকে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব দিলেও করিডোর ও পশু রাখার স্থান নিয়ে নানা সমস্যা রয়েছে। মনের মতো করে পশুগুলো রাখা যাচ্ছে না।

স্থানীয় মেম্বার ও গরু ব্যবসায়ী মো. শরীফ জানান, হাজার হাজার পশু মিয়ানমার হয়ে আমদানি হচ্ছে। তবে বাজারে মূল্য কম থাকায় এসব পশু বেচা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বেশির ভাগ গরু মজুদ রয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা আশাবাদী দ্রুত এ সমস্যা দূরীভূত হবে।

এছাড়া বিশেষ মজুদকৃত কিছু পশুর মধ্যে খুঁড়া রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। এসব দেখার জন্য পশু বিভাগের পরীক্ষাগার থাকলেও সংশ্লিষ্ট কাউকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে দেখা যায়নি। কতিপয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পশু পরীক্ষাগার থাকলেও পশুদের চিকিৎসা করা হচ্ছে না। এসব কারণে ব্যবসায়ীরা আরও পশু আমদানিতে সময়ক্ষেপণ করছেন।

তবে কুরবানের ঈদে যাতে পশু সংকট না হয়, সেজন্য মিয়ানমার থেকে পর্যাপ্ত পশু আমদানিতে তৎপর রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে কুরবানির হাটে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম ও পশু পরিবহন নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রণজিত কুমার বড়ুয়া।

টেকনাফ দুই বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আছাদুদ জামান চৌধুরী আরটিভি অনলাইনকে বলেন, এখন পশু আসা শুরু করছে। আমরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। কিভাবে পশু আসা বৃদ্ধি করা যায়, সেভাবে বিজিবির পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা থাকবে।

আরও পড়ুন :

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়