• ঢাকা রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫

বিভিন্ন জেলায় বন্ধ বাস চলাচল, দুর্ভোগ চরমে

আরটিভি অনলাইন
|  ০৪ আগস্ট ২০১৮, ১৩:১৪ | আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৮, ১৪:২৯
রাজধানীর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় দূরপাল্লা ও অন্যান্য সড়কপথে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাসমালিকেরা বাস চলাচল বন্ধ রাখার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাস বন্ধে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো যাত্রী।

ময়মনসিংহ

বাসের নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তৃতীয় দিনের মতো ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাগামী সব ধরনের যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে ময়মনসিংহ জিলা মোটর মালিক সমিতি। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ঢাকাগামী যাত্রীরা।

জেলা মটর মালিক সমিতির নেতারা জানান, গাড়ির নিরাপত্তার স্বার্থে দিনের বেলা ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে ঢাকাগামী এবং ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী সব ধরনের যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে পরিবেশ শান্ত থাকলে রাতের বেলা বাস চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। 

আজ শনিবার ভোর থেকে নগরীর আন্তঃজেলা মাসকান্দা বাস টার্মিনাল, পাটগুদাম বাস টার্মিনাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের কোনো জেলা থেকে ঢাকাগামী কোনো বাস ছেড়ে যায়নি এবং ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে কোনো বাস ছেড়ে আসেনি। 

তবে শহরের পাটগুদাম, টাঙ্গাইল বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও জেলার আঞ্চলিক সড়কে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : এবার নরসিংদীতে সড়কে প্রাণ গেলো কলেজছাত্রের
-------------------------------------------------------

কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়ায় আজও বন্ধ রয়েছে ঢাকাগামীসহ দূরপাল্লার যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল। 

শুক্রবার সারাদিন বন্ধ থাকার পর রাজধানীগামী দূরপাল্লার যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল শুরু হয়েছিল। আজ শনিবার সকাল থেকে আবারও কুষ্টিয়া থেকে রাজধানীমুখী কোনও পরিবহন ছেড়ে যায়নি। 

তবে সংখ্যায় কম হলেও চৌড়হাস বাসস্ট্যান্ড ও বাস টার্মিনাল থেকে ঝিনাইদহ, ফরিদপুর, বরিশাল ও চুয়াডাঙ্গা রুটে কিছু গণপরিবহন চলাচল করছে।

বাস মালিকরা বলছেন, শ্রমিকদের অনীহা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে দ্বিতীয় দিনের মতো দূরপাল্লার পরিবহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। 

এদিকে, ঢাকাগামীসহ দূরপাল্লার যাত্রী সাধারণ ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে। যে কোনও ধরণের নাশকতা এড়াতে বাসস্ট্যান্ডগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া জেলা বাস-মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন আরটিভি অনলাইনকে বলেন, সড়কে দুর্ঘটনার জন্য চালকদের জেল-ফাঁসি দেয়া হচ্ছে। এসব কারণে চালক ও শ্রমিকরা বাস চালাচ্ছেন না। 

সড়কে কোনও নিরাপত্তা নেই দাবী করে তিনি বলেন, এটি সরকারবিরোধী কোনও আন্দোলন নয়। শ্রমিকদের উপর নির্যাতন বন্ধ ও সড়কে কঠোর নিরাপত্তা পেলেই আবারও বাস চলবে।

সিরাজগঞ্জ
নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে সিরাজগঞ্জে দ্বিতীয় দিনের মতো যানবাহন চলাচল বন্ধ রেখেছে বাস ও ট্রাক মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়ন।

শনিবার সকালে সিরাজগঞ্জ মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল হোসেন দুলু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শ্রমিকদের যানবাহন চলাচল করতে কোনও আপত্তি নেই। ছাত্ররা যেভাবে রাস্তায় নেমেছে তাতে করে নিরাপত্তহীনতায় পড়েছে শ্রমিকরা। যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার সড়কে যানবাহন চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারবে ততক্ষণ পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লা রুটে সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।

নড়াইল 
নড়াইলে আজ সকাল থেকে সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে মালিক শ্রমিকেরা। এছাড়া নড়াইল থেকে ঢাকাগামী কোনও বাস ছেড়ে যায়নি।   

গাড়ির মালিক, চালক ও শ্রমিকের নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। 

এদিকে হটাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে যাত্রীরা। ফলে বিকল্প ব্যবস্থায় অতিরিক্ত টাকা দিয়ে যাত্রীরা ইজিবাইক, নসিমন ও মোটরসাইকেলে করে গন্তব্যে যাচ্ছেন। 

দিনাজপুর
চলাচলে নিরাপত্তাহীনতার কারণে দিনাজপুরের সব রুটে দ্বিতীয় দিনের মতো বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে মালিক-শ্রমিকরা। 

শনিবার সকাল থেকে দিনাজপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে কোনও যাত্রীবাহী বাস ছাড়ছে না। বাস বন্ধে বিপাকে পড়েছে যাত্রী সাধারণ। 

দিনাজপুরের বিভিন্ন সড়কে বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিলে বাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং শুক্রবার থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় মালিক-শ্রমিকরা। 

বৃহস্পতিবার রাতেই বাস মালিক ও শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। 

বাস শ্রমিকরা জানান, গাড়ি চলাচলে তাদের কোনও নিরাপত্তা নেই। সে কারণে তারা গাড়ি চলাচল বন্ধ রেখেছে। 

এদিকে বাস বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রী সাধারণ। তবে দিনাজপুরের বিআরটিসি ডিপো থেকে সকালে রংপুরের উদ্দেশ্যে বিআরটিসি’র দুটি বাস ছেড়ে গেছে। 

নারায়ণগঞ্জ
নিরাপত্তার অজুহাতে দ্বিতীয় দিনের মতো ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডে যানবাহন চলাচল বন্ধ রেখেছে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। 

শনিবার সকাল থেকে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। বাস স্ট্যান্ডগুলোতে যাত্রীদের অপেক্ষ করতে দেখা যায়। ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে তাদের। 

বাস চলাচল বন্ধ থাকায় নারায়ণগঞ্জ থেকে অনেক যাত্রীকে বিকল্প ব্যবস্থায় সিএনজি, রিকশাসহ বিভিন্ন পরিবহনে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। 

এদিকে শনিবার বেলা ১১টায় নগরীর চাষাঢ়া থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহনের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করে দেখেন।

এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন যানবাহনের কাগজপত্র তল্লাশি চালান। 

রংপুর
আজ দ্বিতীয় দিনেও রংপুর থেকে আন্তঃজেলা ও ঢাকাগামী সকল রুটেরই বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে মটর মালিক শ্রমিকরা। অঘোষিত ধর্মঘটের কারণে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা। 

শনিবার সকাল থেকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে শ্রমিকরা অবস্থান নিয়েছে। 

এদিকে আজও নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে। জেলা স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের একটি বিক্ষোভ মিছিল চেকপোস্ট হয়ে মেডিকেল মোড় মহাসড়কে যেতে পুলিশ বাধা দেয়। পরে পুলিশি বাধায় জেলা স্কুল চত্বরের সড়কে অবরোধ করে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা।

মেহেরপুর
নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে মেহেরপুরে দ্বিতীয় দিনের মতো দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। 

গতকাল রাতে হজযাত্রীদের নিয়ে দুয়েকটি বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেলেও আজ শনিবার সকাল থেকে কোন বাস ছাড়েনি শ্রমিকরা। 

হঠাৎ করে বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। অনেকেই বাসস্ট্যান্ডে এসে গন্তব্যে না যেতে পেরে ফিরে যাচ্ছেন। 
তবে শ্রমিকরা বলছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ ধর্মঘট চলবে।

খুলনা
সারাদেশে যানবাহন ভাংচুর ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য খুলনা থেকে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দূরপাল্লার পরিবহন ধর্মঘট চলছে। 

মালিক-শ্রমিকদের সংগঠনগুলো গত শুক্রবার সকাল ১০ টার দিকে এই পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়।  

আজ শনিবার খুলনা সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল, রয়্যালের মোড় ও শিববাড়ির মোড়ের এলাকা থেকে দূরপাল্লার কোনও বাস ছেড়ে যায়নি। প্রায় সব পরিবহন কাউন্টার গুলো বন্ধ রয়েছে। পরিবহন ধর্মঘটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ মানুষ। ট্রাক-আর পিকাপভ্যানে মানুষদের গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। 

খুলনা বাস মিনিবাস কোচ মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সোনা আরটিভি অনলাইনকে জানান, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে উচ্ছৃঙ্খল একটি গোষ্ঠী ঢুকে পড়েছে। তারা বাসে ভাঙচুর চালাচ্ছে। এজন্য নিরাপত্তার কারণে বাস না চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

রাজশাহী
আজ শনিবারও গতকালের মতো রাজশাহী থেকে সকল রুটের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ছাত্র আন্দোলনের কারণে সকাল থেকে কোনও বাস না ছাড়ার সিদ্ধান্ত গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর রহমান পিটার। 

তিনি জানান, দিনের বেলায় ছাত্ররা রাজপথে অবস্থান নেয়, আমরা রাতে করে গাড়ি ছাড়বো। যেদিন থেকে তারা তাদের ক্লাসে ফিরে যাবে সেদিন সকাল থেকেই আমরা গাড়ি রাস্তায় নামাবো। তাদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন বাস মালিকেরা। তবে বাসের নিরাপত্তার কারণে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আরও পড়ুন :

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়