জালিয়াতির মাধ্যমে মোংলা বন্দরে চাকরিতে নিয়োগ, ৩১২ জনকে দুদকে তলব

প্রকাশ | ০৩ আগস্ট ২০১৮, ০৯:১০ | আপডেট: ০৩ আগস্ট ২০১৮, ০৯:২৩

সোহাগ মোল্লা, মোংলা

জাল সার্টিফিকেট, কোঠা ও বয়সসীমা জালিয়াতি করে মোংলা বন্দরে চাকরি নেয়ায় কয়েকশ’ কর্মকর্তা-কর্মচারিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তলব করেছে। কিভাবে তারা অনিয়ম করে চাকরি নিয়েছে সে ব্যাপারে দুদক তদন্ত নেমেছে বলেও জানা গেছে। 

এদিকে এ ঘটনায় বন্দরের অফিস পাড়ায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের খোদ চেয়ারম্যান কমোডর ফারুক হাসান এ বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, অনিয়ম করায় যোগ্যতা অনুযায়ী মেধাবীদের  চাকরিতে সুযোগ না হওয়ায় ইতোমধ্যে বন্দরের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, অর্থ বাণিজ্য করে বন্দরের বিভিন্ন কর্মস্থলে কয়েকশ’ লোকজনকে চাকরি পাইয়ে দেন বন্দর কর্মচারীদের সংগঠন (সিবিএ)।  বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন কর্মস্থলে নিয়োগের ক্ষেত্রে ধারাবহিকভাবে সিবিএ হস্তক্ষেপ করায় এসব অনিয়ম হয়ে আসছে বলে জানান চাকরি প্রত্যাশীদের অভিভাবকরা।

মোংলা বন্দরের ব্যবসায়ী ও একজন চাকরি প্রত্যাশীর অভিভাবক শাজাহান সিদ্দিকী বলেন, গত কয়েক বছর ধরে মোংলা বন্দরে যেভাবে নিয়োগ বাণিজ্য চলছে, তাতে আমাদের ছেলে-মেয়েরা ভালো রেজাল্ট করেও চাকরি পাবে না। 

---------------------------------------------------------------------------
আরও পড়ুন  : রংপুরে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
---------------------------------------------------------------------------

তিনি আরও বলেন, বন্দরের সিবিএ নেতাদের কাছে জাল সার্টিফিকেট ও মোটা অংকের টাকা নিয়ে গেলেই চাকরি হয়ে যায়। এতে কোনোদিন মেধাবীদের চাকরি হবে না বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এ অভিভাবক।

এদিকে জাল সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরি নেওয়া মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব জলযান এম টি সারথী-২ এর ভাণ্ডারী (রাধুনী) ফজলুল হক, এম টি মেঘদূত এর হাবিবুর রহমান এবং সরোয়ার মুন্সি জানান, এ ব্যাপারে আমাদের সিবিএর সংগঠনের নেতা পল্টু ও সাকিবকে জিজ্ঞেস করেন। তারা আমাদের হয়ে কথা বলবেন।’

সরোয়ার মুন্সি মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ শ্রমিক কর্মচারী সংঘ রেজিঃ ১৯৫৭ (সিবিএ) এর যুগ্ন সম্পাদক মতিউর রহমান সাকিবের বোন জামাই (ভগ্নিপতি)। সাকিবের ছোট ভাই মহসিন হোসেন বাদশাও জন্ম সনদ জাল করে বয়স কমিয়ে সিনিয়র আউটডোর অ্যাসিসন্টে হিসেবে চাকরি নেন বলে অভিযোগ আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন্দরের হারবার, মেরিন এবং যান্ত্রিক ও তড়িৎ বিভাগের একাধিক কর্মচারীরা জানান, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ শ্রমিক কর্মচারী সংঘ রেজি: ১৯৫৭ (সিবিএ) এর সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম পল্টু এবং যুগ্ন সম্পাদক মতিউর রহমান সাকিব-বন্দরের কর্মচারী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলেই তাদের কর্মস্থলে চাকরি ফেলে বেসামাল হয়ে ওঠেন। তারা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির তালিকা ধরে নিয়োগ বাণিজ্যে নেমে পড়েন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

তবে পল্টু ও সাকিব সে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তারা বলেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।তারা বন্দরের নিয়োগ কমিটিকে সুস্থভাবে কাজ করতে আরও সহযোগিতা করেন। 

জানতে চাইলে-তারা আরও বলেন,  দুর্নীতি দমন কমিশন বন্দরে ২০১৩ ও ১৪ সালে যারা নিয়োগ পেয়েছেন তাদেরকে ডেকে হয়রানি করছেন। তিন-চার বছর ধরে চাকরি করছেন, এমন ব্যক্তিদের  ডেকে আবার লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেয়ার যৌক্তিকতা নেই বলেও জানান তারা।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) পর্যন্ত অনিয়ম করে চাকরি পাওয়ায় বন্দরের ৩২ জন কর্মচারীকে দুর্নীতি দমন কমিশন ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। 

এ প্রসঙ্গে খুলনার দুর্নীতি দমন কমিশনের ডেপুটি অ্যাসিস্টেন্ট ডাইরেক্টর নীল কমল পাল বলেন, জাল সার্টিফিকেট, কোটা ও বয়সসীমা জালিয়াতি করে যারা মোংলা বন্দরে চাকরিতে নিয়োগ নিয়েছেন তদন্তের স্বার্থে তাদেরকে ডাকা হচ্ছে।

দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা ফয়সাল কাদের এসব বিষয়ে তদন্ত করছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেই সংশ্লিষ্ট থানায় এজাহার (মামলা) দায়ের করা হবে বলেও দুদক কর্মকর্তা নীল কমল পাল জানান।

এদিকে বন্দরের পার্সোনাল শাখার একটি সূত্র জানায়, গত ২০১৩ ও ১৪ সালে নিয়োগ পাওয়া ৩১২ জন কর্মচারীর অধিকাংশের বিরুদ্ধে অযোগ্যতার অভিযোগ উঠায় চলতি বছরের জুলাই মাসে দুদফায় ২৮ জনকে তলব করে পুনরায় পরীক্ষা নিয়েছে দুদক।

সূত্রটি  আরও জানায়, বন্দরের নিজস্ব জলযান এম এল গাংচিল, এম টি শিবসা, এম টি সারথী-২, বি এল ভি মালঞ্চ, এম এল ঝিনুক, এম এল উষা, এম টি সারথী-১, এম ভি রুহী, এম এল রাজহংস, এম ভি তৃষ্ণা, এফ এফ টি অগ্নি প্রহরী, এম এল ময়ীরপঙ্খী, এম এল বলাকা, এম এল পান্না, এম এল, হীরা, এম এল মতি, এম এল অনুসন্ধানী, এম এল  ঊর্মি, ও এম এল মুক্তার ‘ভাণ্ডারী (রাধুনী) ছাড়াও যান্ত্রিক ও তড়িৎ বিভাগের ‘ক্রেন হেলপার’ পদের নব্বই শতাংশ ব্যক্তিই জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন।

আরও পড়ুন  : 

জেবি