• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫

তিন সিটিতে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ৩০ জুলাই ২০১৮, ১৬:০৮ | আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৮, ১৮:১৮
রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। সোমবার বিকেল চারটায় এই তিন সিটিতে ভোটগ্রহণ শেষ হয়। তবে তিন সিটিতেই অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ এনেছেন বিএনপির তিন মেয়র প্রার্থী।

রাজশাহীর নগরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড ইসলামিয়া কলেজ কেন্দ্রে ব্যালট পেপার হিসাব চেয়ে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান নেন বিএনপি মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তবে ব্যালট পেপার শেষ হওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুল্লাহিল সাফি।

এর আগে সকালে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল অভিযোগ করেন সকাল সাড়ে সাতটার দিকে আমার সকল এজেন্টরা কেন্দ্রে পৌঁছেছেন। কিন্তু তাদের ঢুকতে দেয়া হয়নি। প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে বলার পরও এজেন্টদের ঢুকতে দিচ্ছেন না।

রাজশাহী সিটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ জন ও নারী ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৩জন। ভোট কেন্দ্র ১৩৮টি ও ভোট কক্ষ ১ হাজার ২৬টি।

এদিকে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার অভিযোগ করেছেন, ভোটগ্রহণ চলাকালে নগরীর বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তার পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে।

বিএনপির মেয়রপ্রার্থী বলেন, বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আমার ৫০ জন পোলিং এজেন্টকে বের করে দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে পুলিশ। যেখানে পুলিশের আমার এজেন্টদের সুরক্ষা দেওয়ার কথা সেখানেই তারাই বের করে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কেন্দ্র পাহারা দিচ্ছে। সেখানে বিএনপির নেতা কর্মীদের, এমনকি ভোটারদেরও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এক্ষেত্রে আবার ছাত্রলীগ বা যুবলীগকে  পুলিশ বাধা দিচ্ছে না।

মজিবর রহমান সরোয়ার আরও বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ আছে যেন বিএনপির নেতাকর্মীদের অযথা হয়রানি করা না হয়। যেখানে তারা হাইকোর্টের আদেশই মানছে না সেখানে কমিশনে অভিযোগ দিয়ে লাভ নেই।

তিনি বলেন, কোনও অভিযোগই তারা আমলে নেননি। পরে তিনি দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে ভোট বর্জন করেন। এদিকে এই  সিটি করপোরেশনে জাল ভোট, হামলা, ভোটে বাধাদানসহ অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে ভোট স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন অন্যান্য দলের আরও চার মেয়র প্রার্থী।  তারা হলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মেয়র প্রার্থী এ কে আজাদ, ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী ওবাইদুর রহমান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মেয়র প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তী, জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস। এদিকে  বাসদ মেয়র প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তীর ওপর দুদফা হামলার ঘটনা ঘটেছে।

মনীষা চক্রবর্তী বলেন, তিনি সদর গার্লস স্কুল কেন্দ্রে গিয়ে প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে সিল মারতে দেখেন। প্রতিবাদ করলে তাঁর ওপর দুই দফায় হামলা করা হয়। অভিযোগ জানানোর পরও এই কেন্দ্রে নির্বাচন এখনো চলছে। এই কেন্দ্রের মতো সব কেন্দ্রেই নৌকায় সিল মারা হচ্ছে।

বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট গ্রহণে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করেছেন।

এদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস বরিশালে ভোট স্থগিত চেয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন। তিনি সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেবেন বলে তার নির্বাচনী এজেন্ট জানিয়েছেন।

সিলেটেও ৩০টি কেন্দ্রে গণ্ডগোলের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি কেন্দ্র স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। মেয়র পদে বিএনপি-মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে ভোট বাতিলের লিখিত আবেদন করেন। এতে তিনি ৪১টি কেন্দ্রের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেন। এর আগে নগরের কাজী জালালউদ্দিন বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করে নিজ কার্যালয়ে গিয়ে বলেন, এবার ভোট চুরির ঘটনা সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এমনটা সিলেটে আগে কখনো হয়নি। মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার আন্দোলনের ডাক দেবেন বলে তিনি জানান।

এদিকে মেয়র পদে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত প্রার্থী মো. আবু জাফর ‘নজিরবিহীন কারচুপির’ অভিযোগ এনে সব কেন্দ্রের ভোট বাতিলের আবেদন করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামানের কাছে।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়