• ঢাকা রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫

চার জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৫

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ২৭ জুলাই ২০১৮, ০৯:২৮ | আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৮, ১১:৫০
দেশের চার জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৫ জন নিহ হয়েছেন। এর মধ্যে কুমিল্লায় দুইজন, রাজবাড়ী, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলায় ১ জন করে নিহত হয়েছেন।  

আমাদের আরটিভি অনলাইনের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

রাজবাড়ী: জেলার পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য লালন হালদার নিহত হয়েছেন। এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটার গান, একটি একনলা বন্দুক ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার ভোরে হাবাসপুর এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। লালন হালদার পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত জীতেন হালদারের ছেলে।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) মো. ফজলুর রহমান জানান, রাতে চরমপন্থি নেতা লালন পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় পদ্মা নদীর তীরে গোপন বৈঠক করছিল। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এসময় চরমপন্থি দলের সদস্যরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি করে। জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি করে। এতে লালন গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে পাংশা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ: জেলার উল্লাপাড়ায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হযরত আলী (৪২) নামে এক ডাকাত নিহত হয়েছেন। এসময় ঘটনাস্থল থেকে দুইটি গান, ১৪টি কার্তুজ, একটি কুড়াল, একটি হাসুয়া ও তিন রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উল্লাপাড়া উপজেলার পাইকপাড়ার শ্মশানঘাট এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

র‌্যাব-১২ এর স্পেশাল কোম্পানি সিরাজগঞ্জ ক্যাম্পের কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাকিবুল ইসলাম খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কুমিল্লা: জেলার তিতাস উপজেলায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুই যুবক নিহত হয়েছেন।

নিহত দুজন ডাকাত দলের সদস্য বলে দাবি করছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার বাতাকান্দি-আসমানিয়া বাজার সড়কের নারায়ণপুর কবরস্থানের সামনের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- তিতাস উপজেলার উত্তর মানিকনগর গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে আল-আমিন কাউসার (৩০) ও বুড়িচং উপজেলার কংশনগর গ্রামের চরেরপাড় গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে এরশাদ (৩২)।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র-গুলি উদ্ধারসহ পাঁচ ডাকাতকে আটক করেছে। এসময় অভিযানে অংশ নেয়া গোয়েন্দা পুলিশের দুজন এসআইসহ চারজন আহত হয়েছেন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই শাহ কামাল আকন্দ  জানান, ডাকাতি প্রতিরোধে তিতাস এলাকায় ডিবির একটি টিম অবস্থান করছিল।

গভীর রাতে বাতাকান্দি-আসমানিয়া বাজার সড়কের নারায়ণপুর কবরস্থানের সামনের রাস্তায় ডাকাতির প্রস্তুতির খবর পেয়ে ডিবির টিমটি রাত আড়াইটার দিকে সেখানে পৌঁছে।

এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দল পুলিশের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি ও ইট-পাথর নিক্ষেপ করতে থাকে।

একপর্যায়ে পুলিশও আত্মরক্ষার্থে ২১ রাউন্ড শর্টগানের গুলি চালায়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে সাত ডাকাতকে আটক করা হয়।

এদের মধ্যে মাথায় গুলিবিব্ধ অবস্থায় আল-আমিন ও এরশাদকে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেয়ার পর চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দুটি দেশীয় তৈরি এলজি, চার রাউন্ড কার্তুজ, তিনটি ছোরা, সাতটি মুখোশ ও দুটি লোহার রডের টুকরা।

এ ছাড়া অভিযানের সময় ডিবির এসআই (নি.) মোহাম্মদ শাহ কামাল আকন্দ পিপিএম, এসআই (নি.) মো. সহিদুল ইসলাম পিপিএম, কং রুবেল মজুমদার এবং কং মো. সুমন আহত হয়েছেন।

আটক অপর ডাকাতরা হলেন- জেলার সদর উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের মৃত আবুল হোসনের ছেলের আরঙ্গজেব (৫০), সদর দক্ষিণ উপজেলার মিলন (৩৫), একই উপজেলার নাছির (২৭), তিতাসের শরীফুল (২৯) এবং মুরাদনগর উপজেলার আবু মিয়া (৪০)।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, নিহত এরশাদের বিরুদ্ধে নয়টি এবং কাউসারের বিরুদ্ধে পাঁচটি ডাকাতি মামলা বিচারাধীন।

এ ছাড়া আটককৃত ডাকাতদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ৩-৪টি করে মামলা রয়েছে।

নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শুক্রবার সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে তিতাস থানায় পৃথক তিনটি মামলা করা হয়েছে বলে জানান শাহ কামাল আকন্দ।

টাঙ্গাইল:  টাঙ্গাইলের মধুপুরে মাদক ব্যবসায়ীদের দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলিতে মাদক মামলার আসামি ও সাবেক ইউপি মেম্বার মাসুদ রানা ফরিদ (৪২) নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোরে উপজেলার জলছত্র মাগন্তিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহাদুজ্জামান মিয়া জানায়, শুক্রবার ভোরের দিকে মধুপুর উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চল অরণখোলা ইউনিয়নের জলছত্র মাগন্তিনগর এলাকায় দুদল মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে মাদক বেচাকেনা ও টাকার ভাগবাটোয়ারা হয়। এসময় মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ হয়। এরপর দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে সকাল নয়টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ফরিদের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তিনি অরণখোলা ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার ছিলেন।   

জেবি/জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়