• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

রাসিকে ১৩৮টির মধ্যে ১১৪টি কেন্দ্রই গুরুত্বপূর্ণ

আমির ফয়সাল, রাজশাহী
|  ২৬ জুলাই ২০১৮, ১৬:০৭
রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৩৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১৪টি কেন্দ্রকেই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছে সিটি করপোরেশন।

রাজশাহী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সিটি  করপোরেশন নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার আতিয়ার রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এলাকাভিত্তিক ভোটকেন্দ্রের অবকাঠামোগত অবস্থান, জনসংখ্যা, রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ সরবরাহসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে ১১৪টি কেন্দ্রকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছি। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রেই র্যা ব, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার মোতায়েনের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

সাধারণ একটি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তার কাজে সাতজন পুলিশ সদস্য ও ১৪ জন আনসার সদস্য থাকেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোর প্রতিটিতে ১৬ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

এছাড়াও আগামী ২৮ জুলাই থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডে ৩০জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। আর সংরক্ষিত ১০টি ওয়ার্ডের জন্য ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। এছাড়া সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য পুলিশের একটি করে মোবাইল টিম কাজ করবে। আর পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে গঠিত দুটি করে ওয়ার্ডের জন্য একটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। অর্থাৎ ১৫টি স্ট্রাইকিং ফোর্স ৩০টি ওয়ার্ডের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে।

সিটি নির্বাচন যাতে নির্বিঘ্নে ও যথাযথভাবে অনুষ্ঠিত হয় সেজন্য কাজ করে যাচ্ছেন নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের দিনে ১৩৮টি কেন্দ্রে ১৩৮ জন প্রিজাইডিং অফিসার, এক হাজার ২৬ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং দুই হাজার ৫২ জন পুলিং অফিসার নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়াও, রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনে থাকবে সাড়ে নয়শ’ পুলিশ, এক হাজার ৯৯৫ জন আনসার, ৪৫০ জন র‌্যাব, ৪৫০ জন বিজিবি ও ৪০ জন ম্যাজিস্ট্রেট। প্রতিটি কেন্দ্রের বাইরে তিনস্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে বলে জানান রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার সৈয়দ আমিরুল ইসলাম।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (বোয়ালিয়া) মো. আমির জাফর জানান,  ভোটের আগে ও ভোটের দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে কোনোভাবেই বিনষ্ট না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে আইনশৃঙ্খলা  বাহিনীর।

প্রসঙ্গত, ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রাজশাহী পৌরসভা। ১৯৮৭ সালে এটি রাজশাহী সিটি  করপোরেশনে রুপান্তরিত হয়। রাজশাহী সিটি  করপোরেশনের বর্তমান আয়তন প্রায় ৯৭.১৮ বর্গ কি.মি.। এখানে একজন মেয়র ও ৩০টি ওয়ার্ডে ৩০ জন কাউন্সিলর এবং ১০জন নারী জোন কাউন্সিলরের সমন্বয়ে পরিচালিত হয় এই করপোরেশন। আগামী ৩০ জুলাই হতে যাওয়া সিটি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন তিন লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৫৬ হাজার ৮৫। আর নারী ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৩। এবার ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৭টি থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩৮টি। বর্ধিত ভোটকেন্দ্রটি হচ্ছে অনন্যা শিশু শিক্ষালয়। যা মহানগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত।

এই নির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন এবং বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের মধ্যে।

এছাড়াও ৩০টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদের জন্য ১৬০ জন এবং ১০টি নারী জোন কাউন্সিলর পদের জন্য ৫২ জন প্রার্থী তাদের প্রচার-প্রচারণা দিন-রাত চালিয়ে যাচ্ছেন।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়