যৌন নিপীড়নের সঙ্গে অকৃতকার্য ৯ শিক্ষার্থীর কোনও সম্পর্ক নেই!

প্রকাশ | ২৩ জুলাই ২০১৮, ১৮:০৪

কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়নের ঘটনার সঙ্গে অকৃতকার্য ৯ শিক্ষার্থীর কোনও সম্পর্ক নেই। এটা অভিযুক্ত শিক্ষকের ব্যক্তিগত বিষয়। এমন কথা প্রকাশ করে প্রতিবাদ  জানিয়ে গতকাল ২২ জুলাই দুপুরে উপাচার্য বরাবর আবেদন জানিয়েছে নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের নয় অকৃতকার্য শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি সময়ে নাট্যকলা বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই বিভাগের একাধিক নারী শিক্ষিকার সঙ্গে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠে এবং সেই প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়  প্রশাসন সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে অভিযুক্ত শিক্ষক রুহুল আমিনকে। কিন্তু রুহুল আমিন দাবি করেন স্নাতকোত্তর শেষ পর্বের শিক্ষার্থীদের অকৃতকার্য করার কারণে বিভাগীয় প্রধান ইসমত আরা ভূঁইয়া ইলার সঙ্গে তার তর্ক হয় সেই কারণেই ইলা (শিক্ষিকা) আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছে।

বিভাগটির অ্যাকাডেমিক সভায় রুহুল আমিনের প্রস্তাবে লেখা আছে যে, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক বছর পর পরীক্ষা নেয়ার কথা। এই নিয়ে আরটিভি অনলাইনকে মিথ্যা তথ্য দেন  অভিযুক্ত শিক্ষক রুহুল আমিন। এ বিষয়ে আবার জিজ্ঞেস করা হলে রুহুল আমিন বলেন এগুলো চক্রান্ত করে লিখে নিয়েছে। এই মতামত আমার না।

নাট্যকলা বিভাগটি বাংলা মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া সত্বেও শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে মৌখিক পরীক্ষা পরিচালিত হয় যেখানে শিক্ষার্থীরা এই বিষয়ে  অবগত ছিল না। মৌখিক পরীক্ষায় শিক্ষক হিসেবে থাকা অভিযুক্ত শিক্ষক রুহুল আমিন এমনটাই করেছেন বলে জানিয়েছে পরীক্ষায় বসা শিক্ষার্থীসহ মৌখিক পরীক্ষা নেয়া শিক্ষকরা।বিভাগীয় প্রধান ইসমত আরা ভূঁইয়া ইলা  এর বাইরেও অভিযোগ তুলেছে শিক্ষার্থীদের অকৃতকার্য হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ রুহুল আমিন তার অংশের মান শিক্ষার্থীদের বণ্টন না করা।

নাট্যকলা বিভাগের নয় শিক্ষার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় অকৃতকার্যের ঘটনায় শুরুতে অনেকটা বিতর্কিত হয়ে পড়েছিলেন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান। অকৃতকার্য অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের স্নাতকের ফলাফল ছিল প্রশংসনীয় সে কারণেই শিক্ষকদের বিতর্কের মুখে পড়াটাই ছিল স্বাভাবিক। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা বিভাগের ১ম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে উত্তম চন্দ্র শীল বলেন আমাদের নিয়ে অনেক রাজনীতি করেছে রুহুল স্যার। যার ফল আজ আমাদের রেজাল্ট। এভাবে একটি বিভাগ চলতে পারে না। এর সমাধান আমরা চাই। আমরা ক্ষতির শিকার হয়েছি, অন্য কেউ যেন আর এমন ঘটনার শিকার না হয়।

নাট্যকলা বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে  স্টেটাস দেন। যেখানে রুহুল আমিনের স্থায়ী বহিষ্কার চাইতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের।

জেবি