• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

জেলা প্রশাসকের প্রচেষ্টায় এতিম সুমির চাকরি-বিয়ে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
|  ২০ জুলাই ২০১৮, ১৯:২৫ | আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৮, ১৯:৪২

গাইবান্ধা শিশু পরিবারে(বালিকা) বেড়ে ওঠা এতিম সুমি আকতারের(১৯) চাকরি এবং বিয়ে দিয়ে সামাজিক দায়িত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল।

শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে গৌতম চন্দ্র পাল এবং তার স্ত্রী মুক্তি বসাক অভিভাবক হিসেবে যথাযথ দায়িত্বের সঙ্গেই এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি, গাইবান্ধা পৌর অ্যাডভোকেট শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবীর মিলন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্যাহ আল ফারুকসহ রাজনৈতিক দলের নেতা, জেলা পর্যায়ের সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও শিক্ষাবিদসহ সবস্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : কোনও বাধাই দমিয়ে রাখতে পারেনি প্রতিবন্ধী স্নিগ্ধকে
--------------------------------------------------------

বিয়ের অনুষ্ঠান ও প্রীতিভোজে অংশগ্রহণের জন্য গৌতম চন্দ্র পাল নিজে বিয়ের কার্ড ছাপিয়ে অতিথিদের আমন্ত্রণ জানান। এমনকি গাইবান্ধা শিশু পরিবারে প্রত্যেক সদস্য ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও এই বিয়ের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে জেলা প্রশাসকের স্ত্রী মুক্তি বসাকের নেতৃত্বে লেডিস ক্লাব, মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, শিশু পরিবারসহ বিভিন্ন নারী সংগঠনের নেতারা গাঁয়ে হলুদের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, সম্প্রতি শিশু পরিবার(বালিকা) পরিদর্শনে গিয়ে সুমির বিষয়ে জানতে পারি। আমার কথায় গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় সুমি অংশগ্রহণ করেন এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। চলতি বছর ১১ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অফিস সহকারী হিসেবে যোগদান করেন তিনি।

তিনি বলেন, জন্মের পর থেকে বাবা-মার আদর না পাওয়া সুমিকে একপর্যায়ে আমরা আমাদের মেয়ে মনে করতে থাকি। তাই মেয়ের ভবিষ্যতের ভাবনাও ভাবি। কষ্টে বড় হওয়া মেয়েটা যেন সুখে-শান্তিতে থাকে, তা নিয়েই ভাবছিলাম আমরা। আলোচনায় উঠে আসে তার বিয়ের প্রসঙ্গ।

জেলা প্রশাসক বলেন, শেষমেশ আমার কার্যালয়ের অফিস সহায়ক সদর উপজেলার কুপতলা ইউনিয়নের পশ্চিম দুর্গাপুর উত্তরপাড়ার মঞ্জুরুল ইসলাম রিজুর সঙ্গে তাকে বিয়ে দেয়ার চিন্তা-ভাবনা করি। রিজুর বাবা শামছুল হক এবং তার পরিবারের সদস্যরা সব জেনে সুমিকে তাদের পুত্রবধূ করতে রাজি হন।

মাহাবুব আরা বেগম গিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের মতো সমাজের বিত্তবানরা যদি এতিম ও সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের পাশে দাড়িয়ে সামাজিক কাজে এগিয়ে আসেন, তবে সুবিধা বঞ্চিতরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।

উল্লেখ্য, সাত বছর বয়স পর্যন্ত রাজশাহীর বেবি হোমে ছিলেন সুমি। ২০০৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তাকে গাইবান্ধা সরকারি শিশু পরিবারে(বালিকা) নিয়ে আসা হয়। তিনি এখন আবু হোসেন সরকার মহিলা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।

 

কে/ এমকে 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়