চুয়াডাঙ্গা ভুল চিকিৎসায় ২০ জনের চোখ নষ্ট

দায় এড়াতে পারে না স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়: হাইকোর্ট

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১৬ জুলাই ২০১৮, ২১:০৩ | আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৮, ২১:১৪

চুয়াডাঙ্গার ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টার(আইএমএইচএমসিএইচসি) থেকে চিকিৎসা নিয়ে ২০ জনের চোখ হারানোর দায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট।

সোমবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই মন্তব্য করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট অমিত দাসগুপ্ত। তার সঙ্গে ছিলেন শুভাষ চন্দ্র দাস। ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এম আমীর-উল-ইসলাম। এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদ এবং চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. মো. খাইরুল আলমের পক্ষে আদালতে এই ঘটনা নিয়ে তৈরি করা দুইটি প্রতিবেদন দাখিল করেন অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম।

এই প্রসঙ্গে রিটকারী আইনজীবী অমিত দাস গুপ্তের মতামত জানতে চেয়ে আদালত বলেন, প্রতিবেদনের বিষয়ে তার কোনও বক্তব্য আছে কিনা? জবাবে অমিত দাস বলেন, দুইটি প্রতিবেদনে দুই রকমের মতামত দেয়া হয়েছে।

এরপর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ওষুধগুলো দেশে আনা হয়েছে, কিন্তু সেগুলো রেজিস্টার্ড ছিল না।

তখন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন, ড্রাগ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া কীভাবে ওষুধ আনা হলো? তার মানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহারে বিষয়টি আপনাদের নলেজে ছিল। ওষুধ বা অপারেশন যন্ত্রপাতিতে যদি সমস্যা থাকে, তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া এসব দেশে আসে কীভাবে? এটা মানা যায় না। এটা বলে আপনারা(স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়) দায় এড়াতে পারেন না।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার আদালতকে বলেন, রিটটি চলমানযোগ্য নয়। স্বাস্থ্যসেবার অধিকার, মৌলিক অধিকার নয়। তখন আদালত জানতে চান, রিটটি জনস্বার্থে করা হয়েছে কিনা? তখন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, হ্যাঁ।

এরপর আদালত বলেন, রিটটি মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে কিনা সেটি আমরা রুল শুনানিতে দেখব। সাংবিধানিক বিষয়টি আমরা ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলামের কাছে শুনব। পরে আদালত এই বিষয়ে জারি করা রুলের পরবর্তী শুনানি মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ‘চক্ষুশিবিরে গিয়ে চোখ হারালেন ২০ জন!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ১ এপ্রিল আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত প্রতিবেদনটি সংযুক্ত করে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট দায়ের করেন।

রিটের শুনানি নিয়ে চুয়াডাঙ্গা শহরের ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে চক্ষু শিবিরে চিকিৎসা নিতে এসে চোখ হারানো ২০ জনের প্রত্যেককে এক কোটি টাকা করে কেন ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন, চুয়াডাঙ্গার ডিসি ও এসপি, ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টার, ডা. মোহাম্মদ শাহীনসহ মোট ১০ জনকে বিবাদীকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

আদালত আলাদা এক রুলে চুয়াডাঙ্গার ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে তিন দিনের চক্ষুশিবিরে চক্ষু চিকিৎসায় ২০ জনের চোখ অস্ত্রোপচারে কার্যকর, যথাযথ ও পর্যাপ্ত নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণে নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চান।

একই সঙ্গে এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং ডাক্তারের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা কেন গ্রহণ করা হবে না, তাও জানতে চান আদালত।

কে/ এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়