• ঢাকা বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

মোংলায় সংখ্যালঘু পরিবারের সম্পত্তি দখলে নিতে পায়তারা

মোংলা প্রতিনিধি
|  ১৬ জুলাই ২০১৮, ১৫:৪২ | আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৮, ১৬:২৯
মোংলায় এক সংখ্যালঘু পরিবারের সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল নিতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল পায়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারটির দাবি, তাদের মালিকানা সম্পত্তি দখলের জন্য বিভিন্নভাবে তাদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে। ওইসব প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের ভয়ে তারা এখন বাড়ি ছাড়া। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনও প্রতিকার পাননি ওই পরিবারটি।

এদিকে সংখ্যালঘু এই পরিবারটির একমাত্র ভিটেমাটি লুটে নিতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বিভিন্ন সরকারি দপ্তরসহ রাজনৈতিক নেতাদের কাছ দৌড়-ঝাঁপসহ দেন দরবার চালিয়ে যাচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানান। সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মোংলা উপজেলার আরাজী মাকড়োন মৌজায় এক একর ২০ শতক ফসলি জমির দীর্ঘদিনের খাজনা বাকি থাকায় ১৯৬৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের ম্যানেজার কোর্ট নিলাম দেয়। সেখান থেকে সবচে বেশি দর দিয়ে নিলাম গ্রহণ করেন জনৈক ভূষণ চন্দ্র ঘটক।

এরপর নিচু ভূমিটি পর্যায়ক্রমে উঁচু করে সেখানে কয়েকটি বসতি তৈরি করেন তিনি। এরপর বয়সের ভারে অসুস্থ হয়ে পড়েন ভূষণ চন্দ্র ঘটক। বন্ধ হয়ে যায় চলাফেরা। একমাত্র ছেলে সন্তান লিটন চন্দ্র ঘটক পড়াশুনা করার জন্য বাড়ির বাইরে অবস্থান করেন। এ সুযোগে শুরু হয় ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম।

ভূষণ চন্দ্র ঘটকের ছেলে লিটন চন্দ্র ঘটক সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, বাবার অসুস্থতা আর আমার অনুপস্থিতিতে ওই ভূমিটি দখলের জন্য নানা চেষ্টা চালায় স্থানীয় ভূমিদস্যু শাহ নেওয়াজ, ইজারাদার মেহেদি হাসানসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ভূমিদস্যু। ভূমিদস্যুরা আদালত অমান্য করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চালায়। তাতে ব্যর্থ হয়ে বিভিন্নভাবে আমাদেরকে হয়রানি করে আসছে।

লিটন ঘটক আরও জানান, হয়রানি থেকে পরিত্রাণ পেতে আমি ২০১৮ সালে মোংলা উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) দপ্তর থেকে আমার পিতা ভূষণ চন্দ্রের নামে  নাম পত্তন করি। এরইমধ্যে আমাদেরকে হয়রানি করার জন্য ভূমিটি সরকারি সম্পত্তি এমন অভিযোগ এনে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক, মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে অভিযোগ করেছে ওই সব ভূমিদস্যুরা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহ নেওয়াজ আরটিভি অনলাইনকে বলেন, খালি পড়ে থাকা অবস্থায় এলাকাবাসী ওই মাঠে দীর্ঘদিন খেলাধুলা করেছে। আর যেহেতু ভূমিটি শত্রু সম্পত্তি ছিল সেহেতু সরকারের মালিকানা থাকলে জনসাধারণ খেলাধুলা করতে পারতো তাই আমরা অভিযোগ করেছি।

এ প্রসঙ্গে মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবিউল ইসলাম আরটিভি অনলাইনকে জানান, বিষয়টি আমার কাছে খুবই স্পর্শকাতর মনে হয়েছে। খুলনা সিটি  করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে জায়গা বুঝিয়ে দেয়ার নির্দেশও দিয়েছেন।

তিনি বলেন, তাই উভয় পক্ষকে আগামী ১৯ জুলাই ডাকা হয়েছে।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়