ওজন পরিমাপক যন্ত্র বন্ধের দাবি ব্যবসায়ীদের

প্রকাশ | ১৫ জুলাই ২০১৮, ১৪:০৩

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের বড় দারোগাহাট ও দাউদকান্দি এলাকায় গাড়ির ওজন পরিমাপক যন্ত্র সাতদিনের মধ্যে স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানিয়েছে খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনসহ ৩০টি সংগঠন। 

রোববার সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সামনে মানববন্ধন থেকে তারা এ দাবি জানান। দোকান বন্ধ রেখে এ মানববন্ধন করেছেন বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

এসময় খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগীর আহমদ বলেন, সাতদিনের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে চট্টগ্রামের সমস্ত ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছাড়া দেশের আর কোনও মহাসড়কে ওজন পরিমাপক যন্ত্র না থাকায় চট্টগ্রাম থেকে পণ্য পরিবহনকারী প্রতিটি ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ১৩ টনের বেশি পণ্য পরিবহন করতে পারছে না। যে গাড়িতে আগে ২২ টন পণ্য পরিবহন করা হতো মাত্র ১৮ থেকে ১৯ হাজার টাকায়। এখন সেই গাড়ি ৩৫ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে মাত্র ১৩ টন পণ্য পরিবহন করছে। কিন্তু ঢাকা থেকে অন্যান্য সব জেলায় একই গাড়ি ২২ থেকে ২৩ টন পণ্য পরিবহন করছে। এই অসম নীতির বিরুদ্ধে আজকে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদী মানববন্ধনে মাঠে নামছেন।

ব্যবসায়ীরা বলেন, চট্টগ্রাম থেকে আগে পণ্য পরিবহন করতে ৫০০ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান লাগলেও এখন লাগছে দেড় হাজারের মতো। কিন্তু এতো গাড়ি চট্টগ্রামে নেই। যার কারণে গাড়ি ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে গেছে। পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে কম। ফলে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছেন। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশের সব মহাসড়কে যদি ডিজিটাল স্কেল বসানো হয় তাহলে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। শুধুমাত্র ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডিজিটাল স্কেল বসানোর কারণেই আমাদের প্রতিবাদ।

পরে ব্যবসায়ীরা পাঁচ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি সিটি মেয়র আ জ ম নাছিরের হাতে তুলে দেন।

এসময় মেয়র ব্যবসায়ীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, এক দেশে দুই আইন চলতে পারে না। সারাদেশের অন্য সড়কগুলোতে কোনও ওজন পরিমাপক নেই। তাই অন্য সড়কগুলোতে যতদিন ওজন পরিমাপক যন্ত্র বসানো হবে না ততদিন পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওজন পরিমাপক যন্ত্র বন্ধ রাখা হোক। এসময় তিনি এ বিষয়ে মন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে কথা বলবেন বলে ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেন।

জেবি