• ঢাকা সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫

বাড়ছে করতোয়ার পানি, বিপাকে নিম্নাঞ্চলের মানুষ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
|  ০৫ জুলাই ২০১৮, ১৯:৩৯ | আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৮, ২০:০১
পঞ্চগড় শহরের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। উজান থেকে নেমে আসা পানিতে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পঞ্চগড় পৌরসভা এলাকার খালপাড়া, নিমনগর, তুলারডাঙ্গা, রামেরডাঙ্গা, পূর্ব জ্বালাসীসহ বেশ কয়েকটি এলাকার ঘর-বাড়িতে পানি উঠতে শুরু করেছে।

এর মধ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পৌরসভার বেশ কিছু এলাকার মানুষ পঞ্চগড় হোমিওপ্যাথি কলেজ, পঞ্চগড় আদর্শ মহিলা মাদরাসা ও রোজবার্ড কিন্ডার গার্টেনে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছেন পৌর মেয়র মো. তৌহিদুল ইসলাম। ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানিপ্রবাহ বেড়ে গেলে এ পরিস্থিতির অবনতি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম করতোয়া নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এসময় পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র তৌহিদুল ইসলাম, পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এহেতেশাম রেজা ও পৌর কাউন্সিলরা সঙ্গে ছিলেন। পরে জেলা প্রশাসক পঞ্চগড় হোমিওপ্যাথি কলেজে নিরাপদ আশ্রয় নেয়া পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নিতে যান।

পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার সারাদিন করতোয়া নদীর পানি বাড়ছে। বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে করতোয়া নদীর পানি ছিল ৬৮.০২ মিটার।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : চুয়াডাঙ্গায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা
--------------------------------------------------------

কয়েক ঘণ্টায় প্রায় ১.১৮ মিটার পানি বেড়ে বিকেল তিনটায় ৬৯.২০ মিটার হয়। এদিকে সন্ধ্যা ছয়টায় করতোয়ার পানি আরও বেড়ে ৬৯.৫০ মিটার হয়। তবে এসময় করতোয়া নদীর পানি বিপদসীমার ১ দশমিক ২৫ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ভারতে শিলিগুড়িতে প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি বেড়েছে তবে এই পানি কমে যাওয়ার সম্ভানাই বেশি বলে তিনি জানান।

পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে পৌর এলাকার ১৭টি বস্তির মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়বে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি এলাকার প্রায় শতাধিক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে গেছেন। তাদেরকে শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে। পুরো পরিস্থিতি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। ১৭টি বস্তির নিম্নাঞ্চলগুলোর প্রায় দেড় হাজার পরিবারের বসতভিটার আশ-পাশে পানি ঢুকে গেছে বলে তিনি জানান।

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম আরটিভি অনলাইনকে জানান, ইতোমধ্যে আমরা সরকারিভাবে দুই হাজার শুকনো খাবার প্যাকেট পেয়েছি এবং সেগুলো বিতরণ শুরু হয়েছে। এছাড়া আমরা আজকে (বৃহস্পতিবার) ৭৫ টন চাল এবং দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং সতর্ক রয়েছি। বন্যা মোকাবেলায় সরকারিভাবে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে।

আরও পড়ুন : 

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়