• ঢাকা শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫

গাইবান্ধায় সড়ক দুর্ঘটনা: ১৪ জনের মরদেহ হস্তান্তর

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
|  ২৩ জুন ২০১৮, ১৮:০৭ | আপডেট : ২৩ জুন ২০১৮, ১৮:২৬
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৩৫ জন। শনিবার ভোর সোয়া চারটার দিকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পলাশবাড়ী উপজেলার ব্র্যাক মোড় সংলগ্ন মহেশপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে ১৪ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার এমদাদ আলী, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের ইউনুস আলী, নীলফামারীর জলঢাকা মিনারুল খান, কুড়িগ্রামের চর রাজীবপুরের মাসুদ রানা, কুষ্টিয়ার মিরপুরের আব্দুর রশিদ, দিনাজপুরের বীরগঞ্জের আখতারুল ইসলাম, টাঙ্গাইল সদরের রুবেল হোসেন ও শাহজাহান সিকদার, ঠাকুরগাঁও সদরের আব্দুর রহিম, এনামুল হক ও মকবুল হোসেন, হরিপুর উপজেলার ইসমাইল হোসেন রুবেল ও বিশ্বনাথ চন্দ্র রায় এবং পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার জহিরুল ইসলাম।

----------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : আট জেলায় সড়কে ঝরলো ৩৩ প্রাণ
-----------------------------------------------------------

আহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন- কুষ্টিয়া জেলা সদরের সুমন (৩৫), মঞ্জুর (৩৫), ঠাকুরগাঁওয়ের নূর আলম (৩৫), মমতা বেগম (৩৫), নীলফামারীর হাফিজুর রহমান (৪০), সুরেশ (৫০), চয়ন (৮), সিরাজগঞ্জের বাদশাহ (৩৫), টাঙ্গাইলের আবু সাঈদ (৩৫), তেঁতুলিয়ার আশরাফুল (৩৫), দিনাজপুরের নাঈম ইসলাম (৩৫) ও যশোরের আলী হোসেন (৪০)।

পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন শনিবার বিকেলে আরটিভি অনলাইনকে জানান, পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ১৪ জনের মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এসময় তাদের প্রত্যেককেই দাফন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার জন্য ১০ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। আমাদের কাছে আরও দুটি মরদেহ আছে। তাদের পরিবারের স্বজনরা এলে মরদেহ হস্তান্তরের সঙ্গে আর্থিক সহযোগিতাও করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের হিসেবে পলাশবাড়ীতে ১৬ জন মারা গেছেন। শুনেছি রংপুর মেডিকেলে একজন মারা গেছে। তবে তার সম্পর্কে কোনও তথ্য নেই আমাদের কাছে।

জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল সকালে ঘটনাস্থল ও পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হতাহতদের সরেজমিনে দেখতে এসে প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিকভাবে সহযোগিতা প্রদানের ঘোষণা দেন। এছাড়া আহতদের চিকিৎসার জন্য সকল ধরনের সহযোগিতা এবং গুরুতর আহত ২০ জনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতারুজ্জামান বলেন, আহত যাত্রীদের অভিযোগে জানা যায় চালক শুরু থেকেই বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। যাত্রীরা বারবার নিষেধ করলেও তিনি কোনও কথা শোনেননি। এছাড়াও বাসটিতে অতিরিক্ত যাত্রী থাকা সত্ত্বেও বাসের ছাদেও ১৩ জন যাত্রী ছিল। পলাশবাড়ীর মহেশপুর এলাকায় আসার পর চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আমিরুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে দ্রুতগতিতে চালানোর কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি দুর্ঘটনায় পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  

শনিবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে ঢাকা থেকে সৈয়দপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া আলম এন্টারপ্রাইজের একটি যাত্রীবাহী বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৬৪২২) ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ব্র্যাক মোড় সংলগ্ন মহেশপুরে পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে ১৫ জন নিহত হয় এবং আহত হয় অন্তত ৩৬ জন। খবর পেয়ে পলাশবাড়ী থানার ও হাইওয়ে পুলিশ, গাইবান্ধা ও গোবিন্দগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং স্থানীয়রা উদ্ধার কাজ শুরু করে। আহতদের উদ্ধার করে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে নেয়ার পর আরও একজন মারা যায়। পরে গুরুতর আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

আরও পড়ুন :

   সরকারি হাসপাতালে সোয়া কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া, রোগীদের ভোগান্তি

   তৃতীয় দিনের মতো বাস চলাচল বন্ধ বরিশালে

এসএস/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়