• ঢাকা বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

সব বাধা ভেঙে সিলেটে পর্যটকদের ঢল

রাজ্জাক রুনু, সিলেট
|  ২০ জুন ২০১৮, ১৪:৫৫ | আপডেট : ২০ জুন ২০১৮, ১৫:১৬
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল সঙ্গে ভাঙাচোরা সড়ক, এমন প্রতিকূল অবস্থাও দমিয়ে রাখতে পারেনি পর্যটকদের। সব বাধা ডিঙ্গিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সিলেটে এবার ঢল নেমেছে পর্যটকদের। 

সিলেটের পর্যটন স্পট জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল ও লালাখাল এবং হাকালুকি হাওড় এখন দখল পর্যটকদের। ঈদের দিন থেকে শুরু করে ভ্রমণপিপাসুরা ভিড় করছেন এ সকল পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। গত দুদিনের পর্যটক উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের বেহাল অবস্থা। পাশাপাশি সিলেট থেকে ধোপাগুল হয়ে রাতারগুল কিংবা হাদারপাড় হয়ে বিছানাকান্দি যাওয়ার রাস্তার অবস্থাও খারাপ। এরমধ্যে টানা বৃষ্টিতে রাস্তার দুর্ভোগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে দ্বিগুণে। তবে কোনো কিছুই দমিয়ে রাখতে পারেনি  পর্যটকদের। থেমে থাকেনি বাঁধভাঙা উল্লাসও। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করতে সপরিবারে কেউবা আবার বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে ছুটে এসেছেন প্রকৃতির সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে। 

-------------------------------------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : সমর্থকদের উৎসাহ দিতে মানিকগঞ্জে ব্রাজিল দূতাবাসের কাউন্সিলর
-------------------------------------------------------------------------------------

পাহাড় টিলা, স্বচ্ছ জলরাশি, গহিন বনের সঙ্গে মিতালী করে ঘুরে বেড়ানোর অভিপ্রায় নিয়ে আসা মুগ্ধতায় ফিরেছেন পর্যটকরা। পাহাড়, টিলা, নদী, প্রকৃতির সবুজ অরণ্য ঘেরা এখানকার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ফুটে ওঠে তাদের সরব পদচারণা। জাফলং, বিছনাকান্দির পাশাপাশি রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, জৈন্তাপুরের লালাখাল, জাফলং ফাটাছড়া মায়াবী ঝর্ণা, পান্তুমাই মায়াবতী ঝর্ণা ধারায়ও পর্যটক দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

দেশের অন্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মতো প্রকৃতির আপন সাজে সেজেছে এখানকার পর্যটন স্পটগুলো। এখানকার রূপ-লাবণ্যময় সারিবদ্ধ পাহাড়ের সবুজ মিশেল প্রকৃতি ভ্রমনপিয়াসু আর সৌন্দর্য পিপাসুদের আকৃষ্ট করে সুদীর্ঘকাল থেকে। তাই প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঢল নেমেছে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের। জাফলং খুব সহজেই আকৃষ্ট করে ভ্রমণ পর্যটকদের। তাই এবারও জাফলংয়েই সবচেয়ে বেশি পর্যটক-দর্শনার্থীরা এসেছে। এবারও দেশের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকের উপস্থিতিও জাফলংয়ে লক্ষণীয়।

পর্যটকদের মতে হঠাৎ শুরু হওয়া ঝড়বৃষ্টি আর সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্ত আর বেহাল অবস্থার কারণে পর্যটকদের ভ্রমণ আনন্দে যেন খানিকটা ভাটা পড়েছে। তবে বৃষ্টিতে প্রকৃতির অপূর্ব রং উপভোগের আনন্দও কম নয়।

বিপুল সংখ্যক ভ্রমনপিপাসু এবার জাফলং ঘুরতে এসেছেন। জাফলং জিরো পয়েন্টে দাঁড়িয়ে তাদের কেউ কেউ ওপারে ভারতের মেঘালয়ের ঝুলন্ত ব্রিজ, সারিবদ্ধ দিগন্ত জুড়া পাহাড়টিলার পানে দুচোখ মেলে ধরে প্রকৃতির প্রেম উপভোগ করছেন। কেউ কেউ আবার পিয়াইনের বুক চিরে আসা স্বচ্ছ ঠাণ্ডা জলরাশির মাঝে সাতার কাটছেন। জাফলং ভ্রমণ সেলফি আর ক্যামেরায় নিজেকে আবদ্ধ করে তা স্মৃতিবন্দী করে রাখছেন অনেকেই।

একটু পশ্চিম পাশেই অবস্থিত জাফলংয়ের ভ্রমণপিয়াসীদের আরেক আকর্ষণ ফাটাছড়া মায়াবী ঝর্ণা। সেখানেও পর্যটক দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। মেঘালয় পাহাড় গড়িয়ে আসা ঝর্ণার স্বচ্ছ শীতল জলে গাঁ ভিজিয়ে উল্লাসে মেতে থাকছেন পর্যটক ও দর্শনার্থীরা।

ঢাকা থেকে পরিবারের ১৭ সদস্য নিয়ে এসেছেন সফিকুর রহমান। নিজস্ব বাহন নিয়ে সোম মঙ্গল দু’দিন জাফলং, রাতারগুলসহ স্পটগুলো ইচ্ছে মতো ঘুরেছেন। চোখে মুখে তৃপ্তির হাসি নিয়ে আরটিভি অনলাইনকে বললেন, অপরূপা সিলেটকে মনে থাকবে আজীবন। তবে সবশেষে দ্রুত সিলেট-তামাবিল মহাসড়কসহ পর্যটন কেন্দ্রিক সড়কগুলো সংস্কারে উদ্যোগ নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবিও জানালেন তিনি।

হানিমুন করতে ঢাকার বংশালের আলিফ আর জাহানারা নামের এক নবদম্পতি জাফলংয়ে আসতে পেরে দারুণ খুশি। প্রকৃতি আর সবুজের মিতালীর কথা স্মৃতিময় হয়ে থাকবে জানালেন। সড়ক সংস্কারের দাবিটি তাদের মুখ থেকেও বেরিয়ে এলো।

জাফলংয়ের মতো দর্শক সমাগম বেড়েছে বিছনাকান্দিতেও। সেখানেও যেন ঢল নেমেছে প্রকৃতিপ্রেমীদের। পাবনার ঈশ্বরদী থেকে আসা একদল তরুণ বিছনাকান্দির সৌন্দর্যের প্রশংসা করতে গিয়ে বলেন, আসলে এখানে কেউ না আসলে এখানকার সৌন্দর্যকে বুঝবে না। নিরাপত্তা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা। 

নিরাপত্তার ব্যাপারে গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিত কুমার পাল আরটিভি অনলাইনকে জানান, জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুলসহ গোয়াইনঘাটের সবকটি পর্যটনস্পটেই ঈদসহ বিভিন্ন সামাজিক দিবসে পর্যটক দর্শনার্থীদের উপস্থিতি থাকে লক্ষণীয়। তাদের পদযাত্রায় মুখরিত হয়ে ওঠে এখানকার সবকটি পিকনিক স্পট। তাদের সার্বিক নিরাপত্তায় প্রতি বছরই উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়ে থাকে। এবারও তাই করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, অপ্রীতিকর যেকোনো ঘটনা এড়াতে থানা পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও স্থানীয় রোভার স্কাউটরা নিয়োজিত রয়েছেন। একাধিক স্পটে উপজেলা প্রশাসনের তরফে পর্যটক তথ্যকেন্দ্রও স্থাপিত আছে।

গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল জলিল আরটিভি অনলাইনকে জানান, পর্যটকদের ভ্রমণ ও নিরাপদ প্রস্থানে থানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অজ্ঞান পার্টি, মাদকরোধে পোশাক ও সাদা পোশাকে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে আছে।

পর্যটকদের আগমনে সিলেট নগরীর আবাসিক হোটেল ও রেস্টুরেন্ট গুলোর ব্যবসা বাণিজ্য ভালো হচ্ছে। তবে রাস্তাঘাটের চিত্র পাল্টে গেলে পর্যটকের সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও মনে করেন।

 

আরও পড়ুন :

যশোরে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত ১

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়