• ঢাকা শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫

সরকারের ত্রাণের কোনও অভাব নেই: মায়া

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
|  ১৮ জুন ২০১৮, ১৫:০৯
মৌলভীবাজারের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাচ্ছে। মনু ও ধলাই নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। এদিকে বন্যাকবলিত জেলা শহর থেকেও পানি নামতে শুরু করেছে। তবে পানি নেমে শহরের পশ্চিমাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন বন্যাকবলিত মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর, কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ।

এ অবস্থায় বন্যা পরিস্থিতি দেখতে এবং বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আজ মৌলভীবাজার গিয়েছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামালসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মন্ত্রী মৌলভীবাজার পৌঁছেই সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্থানীয় সার্কিট হাউজে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বিশেষ সভায় যোগ দেন।

এসময় মন্ত্রী বলেন, সরকারের কাছে ত্রাণের অভাব নেই। চাহিদার চেয়ে দ্বিগুণ ত্রাণ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ইতোমধ্যে এক কোটি ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মৌলভীবাজারসহ ১৩টি জেলার জন্য দুই হাজার সাতশ’ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে ২৪ ঘণ্টার জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণে উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

তিনি জেলা প্রশাসনগুলোকে পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণের অনুরোধ জানান। হাওর ও নদী খনন এবং বাঁধ মেরামতেও সরকার কাজ করছে।

জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ ড. আব্দুস শহীদ এমপি, সৈয়দা সায়রা মহসিন এমপি, আব্দুল মতিন এমপি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, পৌর মেয়র ফজলুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নেছার আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান প্রমুখ। 

এদিকে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মৌলভীবাজারে বন্যাদুর্গত প্রায় ৬০টি আশ্রয়কেন্দ্রে সাড়ে ৬ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এ পর্যন্ত গত এক সপ্তাহে জেলায় বন্যার পানিতে ডুবে সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় কাজ করছে জেলা প্রশাসন, মৌলভীবাজার পৌরসভা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পুলিশ বিভাগসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। জেলায় সেনাবাহিনীর চারটি টিম কাজ করছে। ৭৪টি মেডিকেল টিম খোলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম জানান, বন্যাদুর্গতদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত নয় লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং ৭৪৩ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। তিন হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। 

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়