• ঢাকা শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫

মৌলভীবাজারে দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি, নিহত ৩

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
|  ১৬ জুন ২০১৮, ১৯:৫৭ | আপডেট : ১৬ জুন ২০১৮, ২৩:৪৭
অবনতির দিকে যাচ্ছে মৌলভীবাজারের বন্যা পরিস্থিতি। মৌলভীবাজার শহরের সবাইকে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার জন্য মাইকিং করে আহ্বান জানিয়েছেন পৌর মেয়র। কমলগঞ্জে পানির স্রোতে নিখোঁজ  হওয়া একই পরিবারের দুইজনসহ ৩ জনের  মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বেড়েছে মনু নদের পানি। শনিবার দুপুরে চাঁদনিঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ১৫৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চরম ঝুঁকিতে পড়েছে মৌলভীবাজার শহর রক্ষা বাঁধ। শহরের সাইফুর রহমান রোডের অন্তত ২০টি জায়গা দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে পানি ঢুকছে শহরে। বন্ধ রয়েছে সাইফুর রহমান রোডের যান চলাচল। 

শুক্রবার দিনগত রাতে সেনাবাহিনীর ৬ সদস্যের দল পর্যবেক্ষণ শেষে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বাঁধে বালির বস্তা ফেলতে বলে। রাত থেকেই কয়েক হাজার বালুর বস্তা শহর রক্ষা বাঁধে ফেলা হয়েছে।সার্বক্ষণিক অবস্থান করছেন জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহ জালাল, পৌর মেয়র ফজলুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্রশংকর চক্রবর্তী পার্থসহ গণমাধ্যমকর্মীরা।

গত রাতে সেনাবাহিনী ৬ সদস্যের অগ্রবর্তীদল পর্যবেক্ষণ শেষ আজ শনিবার দুপুরে ৬০ সদ্যসের টিম পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। আজ দুপুরে মৌলভীবাজার শহর রক্ষা বাঁধে কাজ করতে সেনাবাহিনী কাজ শুরু করেছে।

মনু নদের পানি গতকাল রাতের বিপদসীমার ১৪৬ সেন্টিমিটার থেকে বেড়ে শনিবার দুপুরে ১৫৯ সেন্টিমিটারে পৌঁছেছে।
এদিকে জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর এবং শমেশরনগরে বন্যার পানির স্রোতে গতকাল রাতে নিখোঁজ হওয়া বাবা-ছেলেসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে কমলগঞ্জ পুলিশ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমদুল হক।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শাহবন্দর থেকে শেরপুর পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের অন্তত ৩০টি জায়গা দিয়ে প্রতিরক্ষা বাঁধ উপচে পানি ঢুকছে। হাজার হাজার এলাকাবাসী ঈদের আনন্দ রেখে রাস্তায় নেমে এসেছে নিজ নিজ উদ্যোগে বালুর বস্তা ফেলে প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করছে। সকাল ১১টা থেকে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক বন্ধ করে দিয়েছে এলাকাবাসী।

পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্রশংকর চক্রবর্তী পার্থ জানিয়েছেন,  আর মাত্র পাঁচ ইঞ্চি পানি বাড়লেই শহর রক্ষা বাঁধের উপর দিয়ে উপচে পানি ঢুকবে।
এদিকে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বন্যা পরিস্থিতি। অন্তত দুইশ গ্রাম পানিবন্দি অবস্থায় ঈদ পালন করেছে। উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় রয়েছে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত জেলাবাসী। প্রবাসীরা স্বজনদের চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। বারবার ফোন দিচ্ছেন স্বজন ও গণমাধ্যমকর্মীদের।
শনিবার দুপুরে শহরতলীর মাতার কাপন এলাকায় মনু নদে ভাঙন দেখা দিয়েছে।এতে জেলার কমলগঞ্জ থানা রক্ষায় ১ হাজার বালুর বস্তা পাঠিয়েছে পাউবো।

পাউবো জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ২০ হাজার বালুর বস্তা ফেলা হয়েছে মনু এবং ধলই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ রক্ষা করতে। হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ থেকে আরও বস্তা মৌলভীবাজারে পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছেন পাউবোর মহাপরিচালক মো. মাহফুজ রহমান। এদিকে শুক্রবার বিকেল থেকে রাজনগর এবং কুলাউড়ায় সেনাবাহিনী প্লাবিত এলকায় উদ্ধার তৎপরতা কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম জানান, কুলাউড়া ও রাজনগরে সেনাবাহিনী প্লাবিত এলাকায় কাজ করছে। শহর রক্ষা করতেও কাজ শুরু করেছে। মৌলভীবাজারে ১৫টি স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে ২ লাখ মানুষ পানিবন্দি। ৫৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

জেবি/পি

 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়