• ঢাকা শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫

পানির নিচে চাপা লাখো মানুষের ঈদের আনন্দ

চৌধুরী ভাস্কর হোম, মৌলভীবাজার
|  ১৪ জুন ২০১৮, ১৭:১৭ | আপডেট : ১৪ জুন ২০১৮, ১৮:০২
আগামীকাল শুক্রবার রাতে চাঁদ দেখা গেলে শনিবার পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। কিন্তু সেই ঈদের আনন্দ নেই মৌলভীবাজারের তিনটি উপজেলার লাখো মানুষের জীবনে। আকস্মিক বন্যায় ডুবে গেছে ঘর-বাড়ি ও ফসল। বিস্তৃত জনপদ প্লাবিত হওয়ায় ঈদের নামাজ আদায় করার জায়গাও নেই অনেক এলাকায়।

কমলগঞ্জ উপজেলার কিছু যায়গা থেকে পানি নামলেও রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলায় প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। চরম দুর্ভোগে থাকলেও এলাকাগুলোতে পৌঁছায়নি ত্রাণ।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় প্রশাসনের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। প্রশাসনের যে যে অংশ বন্যার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত সে সে এলাকার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তার মধ্যে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ প্রশাসন, ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় অফিস, উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড অন্যতম। প্লাবিত তিনটি উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত প্লাবিত গ্রামের সংখ্যা শতাধিক। তার মধ্যে রাজনগরে ৪২টি, কুলাউড়া ৬০টি, কমলগঞ্জে ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ঈদের নামাজের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের নিজ নিজ এলাকায় উঁচু জায়গাতে আয়োজন করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছেন কমলগঞ্জের কিছু এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে কমলগঞ্জ থেকে পানি নামলেও নতুন করে প্লাবিত হয়েছে রাজনগরের ২২টি এবং কুলাউড়ার ৪০টি গ্রাম। গত ৪ দিনের টানা বর্ষণ এবং উজানে ভারতের ত্রিপুরা এবং মেঘালয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে মৌলভীবাজারের মনু নদ ও ধলাই নদীর পানি বেড়ে ১৩ স্থানে প্রতিরক্ষা বাধ ভেঙে প্লাবিত হয় জেলার কুলাউড়া, রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলার ১৩২টি গ্রাম। ঈদের কাছাকাছি সময়ে বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকায় নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় অন্যত্র যেতে দেখা যায় এইসব এলাকার মানুষদের। ঈদের আনন্দের চেয়ে এইসব পরিবারে এখন দৈনন্দিন জীবন পরিচালনা করাই দুষ্কর। মানুষের দুঃখ-দুর্দশা আর আহাজারিতে থামছে না দুচোখের অশ্রুধারা। টানা ৪ দিনের বৃষ্টিতে গরু ছাগল ও গবাদি পশুগুলো ছুটছে যে যার মতো। কৃষকের পুকুরের মাছ পানির স্রোতে ভেসে গেছে। বসত ভিটা এবং জিনিসপত্র পানির নিচে রেখে পানিবন্দি মানুষদের ঈদ আনন্দ মলিন হয়ে গেছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা রহিমপুর ইউনিয়নের মৌলানা আব্দুল বাছিত জানান, এক মাস সিয়াম সাধনার পর আনন্দের ঈদ আসে। এ বছর এই সময়ে ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় সে আনন্দ নেই। সদর উপজেলার ইমন আহমদ বলেন, মৌলভীবাজার জেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি দেখে খুব মন খারাপ লাগছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরে নিজের জেলার পানিবন্দি মানুষের কথা ভাবতেই মনটা কেমন জানি হয়ে যাচ্ছে।

রাজনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসি আক্তার জানান, রাজনগরে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। কমলগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমদুল হক জানান, কমলগঞ্জের বেশির ভাগ এলাকা প্লাবিত। গতকাল থেকে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মো. গোলাম রাব্বানী আরটিভি অনলাইনকে জানান, শুকনো খাবার এরইমধ্যে এলাকাগুলোতে পাঠানো হয়েছে। তবে বৃষ্টির জন্য বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না হয়তো।

জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম জানান, প্লাবিত উপজেলাগুলোর জন্য ১১৫ টন খাদ্য এবং ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তার মধ্যে কুলাউড়ায় ৫০ টন চাল এবং ৫০ হাজার টাকা, কমলগঞ্জে ৪৫ টন চাল ৫০ হাজার টাকা, রাজনগরে ১৫ টন চাল এবং ২০ হাজার টাকা এবং শ্রীমঙ্গলের জন্য ৫ টন চাল ও ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়