• ঢাকা শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫

বুড়িমারীতে পাথর ভাঙার মেশিনগুলো মরণফাঁদ

স্টাফ রিপোর্টার, লালমনিরহাট
|  ১৪ জুন ২০১৮, ১৫:৩৯
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরে শতাধিক পাথর ক্রাসিং মেশিনে গুঁড়ো করা হচ্ছে পাথর। ফলে পাথরের গুঁড়োয় ছড়াচ্ছে সিলিকোসিসসহ নানা রকম জটিল রোগ।

এখানে সিলিকোসিস নামের এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে গত তিন বছরে মারা গেছেন অন্তত ৬৫ শ্রমিক। বিষয়টি জানিয়েছেন লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন ডা: কাশেম আলী।

তিনি বলেন, এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত সহস্রাধিক শ্রমিক। তবে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও অভাবী দিনমজুররা দুমুঠো খাবার যোগাতে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে পাথর ভাঙার কাজ করছেন তারা।

জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় ও প্রাপ্ত তথ্য মতে, বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারত ও ভুটান থেকে প্রতিদিন প্রায় দেড় শতাধিক পাথরবাহী ট্রাক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। আর এসব পাথর বুড়িমারী স্থলবন্দর এলাকায় যত্র-তত্রভাবে রেখে শতাধিক ক্রাসিং মেশিনে তা গুঁড়ো করা হচ্ছে। পাথরের গুঁড়ায় মরণব্যাধী সিলিকোসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও শুধুমাত্র জীবন-জীবিকার তাগিদে মৃত্যুকে পরোয়া না করে কাজ করছেন নারী-পুরুষ শ্রমিকরা।

এমনকি পাথর শ্রমিকরা ব্যবহার করছেন না ফেস মাস্কস। শ্রমিকদের অসচেতনতার কারণে আক্রান্তদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। মেশিনে পাথর গুঁড়ো করার সময় শ্রমিকদের সারা শরীর, চোখ-মুখ ও নাক সবকিছুই পাথরের ধুলায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়।

আর নি:শ্বাসের সাহায্যে পাথরের গুঁড়া মুখের ভেতর দিয়ে ফুসফুসে চলে যায়। একসময় গিয়ে তারা সর্দি কাঁশিতে আক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে সিলিকোসিস রোগে আক্রান্ত হয়।

বুড়িমারী স্থলবন্দর এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে কথা হয়, অহেদ মিয়া ও মনছুর আলীর সঙ্গে। তারা দুজন আক্ষেপের সুরে জানান, ক্রাসিং মেশিনে পাথর গুঁড়ো করার কারণে সিলোকোসিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন।

পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূর কুতুবুল আলম জানান, পাথর ক্রাসিং এর সময় যাতে ধুলা-বালি না ছড়ায় এজন্য পাথর সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। এরইমধ্যে  ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে শাস্তিরও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বুড়িমারী স্থলবন্দর শ্রমিক কল্যাণ সভাপতি সফর উদ্দিন আরটিভি অনলাইনকে বলেন, স্থানীয় শ্রমিকদের মধ্যে সিলিকোসিস বিষয়ে শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

বুড়িমারী স্থলবন্দরের পাথর ব্যবসায়ী আশিকুর রহমান পরাগ জানান, জায়গা সংকুলানের কারণে রাস্তার পাশে পাথর ক্রাসিং করছে অনেকেই। তবে ধুলা-বালু যাতে না ছাড়ায় এজন্য শ্রমিকদের সতর্কতার সঙ্গে পাথর ক্রাসিং করার জন্য বলা হয়েছে।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়